আজ বুধবার, ২০ জুন ২০১৮ ইং, ০৬ আষাঢ় ১৪২৫ বঙ্গাব্দ



রাতে নাছিরের বাসায় গেলেন খাবারও খেলেন

Published on 10 November 2016 | 3: 08 am

বিকেলে বন্দরের শ্রমিক সমাবেশে কঠোর সমালোচনা করার পর রাতে মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনের বাসায় রুদ্ধদ্বার বৈঠক করলেন মহানগর আওয়ামী লীগ সভাপতি এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী। গতকাল বুধবার রাত ৯টার দিকে সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিনের আন্দরকিল্লাস্থ বাসভবনে যান এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী। গভীর রাত পর্যন্ত ১২ নভেম্বরের লালদিঘীর সংবর্ধনার প্রস্তুতি সভা শেষ করে মেয়রের বাসভবনে রাতের খাবার খেয়েই ফিরলেন এবিএম মহিউদ্দিনসহ উত্তরদক্ষিণের সভাপতিসাধারণ সম্পাদকগণ। মহিউদ্দিন চৌধুরী ও মেয়র আ জ ম নাছির ছাড়া বাকি চার নেতা হলেন উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নূরুল আলম চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক এম এ সালাম, দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোছলেম উদ্দিন আহমেদ ও সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান।

চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগে মহিউদ্দিন চৌধুরী এবং আ জ ম নাছিরের অনুসারীদের পরস্পর বিরোধী অবস্থানের মধ্যে দুই শীর্ষ নেতার একজন অপরজনের বাসায় যাবার বিষয়টি আলোচনার জন্ম দিয়েছে। মহিউদ্দিন চৌধুরী মেয়র নাছিরের বাসায় পৌঁছানোর আগেই সেখানে ভিড় জমান গণমাধ্যম কর্মীরা। মেয়রের অনুসারী নগর যুবলীগ নেতা সুমন দেবনাথ জানান, পৌনে ৯টার দিকে আন্দরকিল্লা দিয়ে মহিউদ্দিন ভাইয়ের গাড়ি যাচ্ছিল। আমরা ভেবেছি, অন্য কোথাও যাচ্ছেন। কিন্তু গাড়ি যায় নাছির ভাইয়ের বাসায়। দেখা গেছেসেখানে আগে থেকেই বিভিন্ন মিডিয়ার সাংবাদিকরা অপেক্ষা করছেন।

মহিউদ্দিন চৌধুরী রাত পৌনে ৯টার দিকে নগরীর আন্দরকিল্লা নজির আহমেদ চৌধুরী রোডে মেয়রের বাসায় পৌঁছান। লিফটে করে তিনি সরাসরি বাড়ির ছয়তলায় মেয়রের বৈঠকখানায় চলে যান। সেখানে চার নেতা আগে থেকেই বসা ছিলেন। মহিউদ্দিন পৌঁছানোর ১০ মিনিট পর মেয়র বৈঠকখানায় আসেন। এ সময় সাংবাদিকদের দেখে মহিউদ্দিন ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেন। ক্ষুব্ধ মহিউদ্দিনকে সামলাতে মেয়র নাছির সাংবাদিকদের বের হয়ে যাবার অনুরোধ করেন। সাংবাদিকরা বের হয়ে গেলে তারা রুদ্ধদ্বার বৈঠকে মিলিত হন। বৈঠকের বিষয়ে জানতে চাইলে দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান আজাদীকে জানান, আগামী ১২ নভেম্বর বিকেলে নগরীর লালদিঘি ময়দানে সংবর্ধনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। সেই বিষয়ে প্রস্তুতি সভায় মহিউদ্দিন ভাই (মহিউদ্দিন চৌধুরী) নাছির ভাইয়ের বাসায় এসেছেন। এটা আগের নির্ধারিত সভা ছিল। সংবর্ধনায় কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের প্রধান অতিথি থাকবেন। মহিউদ্দিন ভাই বলেছেন, সংবর্ধনার মঞ্চে যেন শৃঙ্খলা থাকে। নেতাকর্মীদের স্বত:স্ফূর্ত উপস্থিতি যেন থাকে, সেই সব বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছেন। নাছির ভাই (মেয়র নাছির) বলেছেন, সর্ব প্রথম আমরা দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরকে সংবর্ধনা দিচ্ছি। তাই আমাদের সকলের দায়িত্ব ভালোভাবে এই সভাকে সফল করা। সংবর্ধনা সভার প্রস্তুতি নিয়ে গত সোমবার মহিউদ্দিন চৌধুরীর বাসায় আরেকটি বৈঠক হয়েছিল। সেখানে মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন গিয়েছিলেন। পরবর্তী বৈঠক মেয়র তার বাসায় করার জন্য শীর্ষ নেতাদের আমন্ত্রণ জানান বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। ২০১৫ সালের ২২ জুলাই সর্বশেষ মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিনের বাসায় গিয়েছিলেন অগ্রজ রাজনীতিক ও নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী। গত তিন দশক ধরে নগরীতে আওয়ামী লীগের রাজনীতির নিয়ন্ত্রণ আছে এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর হাতে। মহিউদ্দিন বিরোধী একটি ছোট ধারার নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন আ জ ম নাছির উদ্দিন। সর্বশেষ বুধবার সকালেও চট্টগ্রাম বন্দর এলাকায় একটি শ্রমিক সমাবেশে গিয়ে মেয়রের বিরুদ্ধে বক্তব্য রাখেন।

১২ নভেম্বরের সংবর্ধনার ব্যাপারে আজ থেকে নগরীর মাইকিং করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। একই সাথে দুইদিন পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেয়ারও সিদ্ধান্ত হয়েছে।

সভা শেষে প্রায় দশ রকমের মাছ ও মাংস দিয়ে মেয়রের বাসভবনে ডিনার করেন আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা। খাবারের তালিকায় ছিল রূপচান্দা মাছ, কোরাল মাছ, চিংড়ি মাছ, দেশি মুরগি, গরুর মাংসের ভুনা, ডাল, সবজি, টক দই, নানা রকম ফল ইত্যাদি।


এখানে খুজুন


আরও পড়ুন