আজ রবিবার, ২৪ জুন ২০১৮ ইং, ১০ আষাঢ় ১৪২৫ বঙ্গাব্দ



চ্যাম্পিয়ন কুমিল্লাকে হারিয়ে শুভ সূচনা চিটাগাংয়ের

Published on 09 November 2016 | 3: 26 am

মাশরাফির ক্যারিয়ারের ১৫ বছর পূর্তির দিনটাকে পানসে করে দিলেন তামিম ইকবাল। বিপিএলের শুরুটা জয় দিয়ে করতে চেয়েছিলেন তামিমমাশরাফি দুজনই। কিন্তু হলোনা বর্তমান চ্যাম্পিয়ন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের অধিনায়ক মাশরাফির। চ্যাম্পিয়নদের হারিয়ে শুভ সূচনা করল তামিমের চিটাগাং ভাইকিংস। আর দলের এই শুভ সূচনার ম্যাচে ব্যাট হাতে ঝড় তুলেছেন তামিম ইকবাল। তামিমের পর বল হাতে জাদু দেখান আফগানিস্তান ক্রিকেট দলের অল রাউন্ডার মোহাম্মদ নবি। এই দুজনের দারুণ পারফরম্যান্সে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সকে ২৯ রানে হারিয়ে শুভ সূচনা করল চিটাগাং ভাইকিংস। টুর্নামেন্টের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স এবারেও কাগজে কলমে সেরা দল এবং ফেভারিট দল। কিন্তু মাঠের লড়াইয়ে সেটা দেখাতে পারলনা মাশরাফির দল। একেবারে একতরফা এক ম্যাচে তাদের হারিয়ে দিল চিটাগাং ভাইকিংস।

গতবারের তলানির দল চিটাগাং ভাইকিংসের সঙ্গে লড়াইটা জমাতেই পারল না বর্তমান চ্যাম্পিয়ন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স। ফলে হার দিয়ে শুরু করতে হলো মাশরাফির দলকে। মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এবারের বিপিএলের প্রথম ম্যাচে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে ২০ ওভারে ৩ উইকেটে ১৬১ রান সংগ্রহ করে চিটাগাং ভাইকিংস। জবাবে ব্যাট করতে নেমে কুমিল্লা থেমে যায় ৮ উইকেটে ১৩২ রানে। চিটাগাং বড় পুঁজি পেয়েছিল তামিম ও শোয়েব মালিকের দারুণ দুটি ইনিংসে। এবারের বিপিএলের প্রথম অর্ধশতক উপহার দেন তামিম। কার্যকর এক ইনিংস খেলেছেন পাকিস্তানি অলরাউন্ডার মালিক। পরে বল হাতে কুমিল্লাকে মাথা তুলে দাঁড়াতে দেননি মোহাম্মদ নবি। অফ স্পিনে নিয়েছেন ২২ রানে ৪ উইকেট।

ওয়েস্ট ইন্ডিজ তারকা ডোয়াইন স্মিথকে নিয়ে শুরুটা ভালই করেছিলেন তামিম। কিন্তু ৩৬ রানে ভাঙল এজুটি। যেখানে আউট হওয়া স্মিথের সংগ্রহ মাত্র ৯ রান। তবে তামিম নিজের মনোভাবটা তিনি বুঝিয়ে দেন ম্যাচের শুরুতেই। ইনিংসের দ্বিতীয় বলেই বেরিয়ে এসে মাশরাফিকে কাভার দিয়ে উড়িয়ে মারেন চার। সোহেল তানভিরকে দুটি চার মারার পর ছক্কা মারেন মাথার ওপর দিয়ে।

স্মিথ আউট হওয়ার পর দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে এনামুল হকও ছিলেন তামিমের সহকারীর ভূমিকায়। তবে শেষ পর্যন্ত সম্ভাবনাময় এই জুটি ভেঙেছে দুজনের ভুল বোঝাবুঝিতে। দ্বিতীয় রান নেয়ার চেষ্টায় দুজনই চলে আসেন এক প্রান্তে। হতবিহ্বল এনামুল নিজের উইকেট ছাড়েননি অধিনায়কের জন্য। রান আউট হয়ে ফেরেন তামিম। আর ফিরে আসার আগে ৩৮ বলে ৬টি চার এবং ২টি ছক্কার সাহায্যে ৫৪ রান করে আসেন চিটাগাং অধিনায়ক। ২১ রান পর রান আউট নিয়তি মেনে নিতে হয় এনামুলকেও। ফেরেন স্যামুয়েলসের সরাসরি থ্রোতে। তার আগে ১৮ বলে ২২ রান করেন বিজয়। সেখান থেকেই চিটাগাং ভাইকিংসের হাল ধরেন অভিজ্ঞ পাকিস্তানি অল রাউন্ডার শোয়েব মালিক। আর তাকে দারুণ সঙ্গ দেন জহুরুল ইসলাম। দুজনের জুটিই দলকে টেনে নিয়ে যায় বাকি পুরো সময়। এ দুজনের ৪১ বলে ৬০ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি চিটাগাং ভাইকিংসকে পৌঁছে দেন ১৬১ রানে। ২৮ বলে ২টি চার এবং ২টি ছক্কার সাহায্যে ৪২ রানে অপরাজিত থাকেন শোয়েব মালিক। অপরদিকে ২১ বলে ২৯ রান করে অপরাজিত ছিলেন জহুরুল ইসলাম।

১৬২ রানের লক্ষ্যটা এমনিতেই কঠিন। আর সে লক্ষ্যকে আরো কঠিন করে তুলেছিল চিটাগাং এর বোলাররা। শুরুতেই আঘাত হানেন ডুয়াইন স্মিথ। ফিরিয়ে দেন দলের বড় ভরসা ইমরুল কায়েসকে। এরপর দলের রানের চাকা ঘুরানোর চেষ্টা করেছিলেন মারলন স্যামুয়েলস। কিন্তু আব্দুর রাজ্জাকের অভিজ্ঞতার সঙ্গে পেরে ওঠেননি তিনিও । ১৮ বলে ২৩ করে তাসকিনের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরেন স্যামুয়েলস। এরপর সে ব্যর্থতার মিছিলে যোগ দেন লিটন দাস এবং দলের আরেক ভরসা আসহার জাইদিও। গত আসরে এই চিটাগাং ভাইকিংসের বিপক্ষে ম্যাচ জেতানো ইনিংস খেলেছিলেন মাশরাফি। কিন্তু এবারে পারেননি তার পুনরাবৃত্তি করতে। পাকিস্তানি ইমাদ ওয়াসিমও পারেননি ব্যাট হাতে দারুণ কিছু করতে। ৭৭ রানে ৬ উইকেট হারানোর পর দুই তরুণ নাজমুল হোসেন শান্ত ও আল আমিন জুটি গড়তে পেরেছেন।

তবে পরিস্থির দাবি মেটাতে পারেননি এই দুই তরুণ। শেষ পর্যন্ত ১৩২ রানে থামে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স। নিজের অভিষেক টিটোয়েন্টিতে ৪৪ বলে ৫৪ রান করে অপরাজিত থাকেন শান্ত। ১৪ রান করে আউট হয়ে যান আল আমিন। চিটাগাং ভাইকিংসের পক্ষে মোহাম্মদ নবি ২২ রানে নিয়েছেন ৪ উইকেট। আর সে সুবাধে ম্যাচ সেরাও হয়েছেন তিনি।


এখানে খুজুন


আরও পড়ুন