আজ রবিবার, ২৪ জুন ২০১৮ ইং, ১০ আষাঢ় ১৪২৫ বঙ্গাব্দ



খুশি আয়কর বিভাগ ।। চট্টগ্রামে সোয়া ৫০০ কোটি টাকা কর আদায়

Published on 08 November 2016 | 3: 14 am

চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত আয়কর মেলায় সাত দিনে প্রায় সোয়া পাঁচশ’ কোটি টাকার কর আদায় হয়েছে । প্রত্যাশা ছিল পাঁচশ’ কোটি টাকার কর আদায়। মেলা শেষে প্রত্যাশা ছাড়িয়ে যাওয়ার ব্যাপারটি বেশ উচ্ছ্বসিত করেছে চট্টগ্রামের চারটি কর অঞ্চল এবং একটি আপীল অঞ্চলের কমিশনারসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে। মানুষ যে কষ্ট করে লাইন ধরে ট্যাক্স প্রদান করবে সেই ধারণা আজ প্রতিষ্ঠিত বলে মন্তব্য করে চট্টগ্রামের কর কমিশনারগণ বলেছেন, সব ভীতির উর্ধ্বে উঠে মানুষ এখন ট্যাক্স প্রদানকে নিজের কর্তব্য হিসেবে বিবেচনা করতে শুরু করেছে। আর এজন্য সাতদিনে প্রায় তিন লাখের মতো মানুষ মেলা পরিদর্শন করেছে। এক মিনিটে বাইশ জন লোকের মেলা অঙ্গনে প্রবেশের তথ্য রেকর্ড করা হয়েছে। আর করদাতাদের চাহিদার প্রেক্ষিতে গতকাল শেষ দিনে রিটার্ণ গ্রহণের সর্বশেষ সময় বিকেল পাঁচটা থেকে এক ঘণ্টা বাড়িয়ে ছয়টা পর্যন্ত করতে হয়েছে। অনলাইনেও রিটার্ণ দাখিলের কার্যক্রম চলতি বছর থেকে শুরু করা হয়েছে। কেবল কর প্রদানই নয়, একই সাথে মেলা অঙ্গনে লাখ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র বিক্রি করা হয়েছে। ভবিষ্যত ট্যাক্স প্রদানকারীদের বিশাল একটি গোষ্ঠিকেও মেলায় সচেতনতামুলক বিভিন্ন কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করা হয়েছে। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিপুল সংখ্যক ছাত্রছাত্রী মেলায় উপস্থিত থেকে বিভিন্ন বিষয়ে শিক্ষাগ্রহন করেছে। গতকাল পর্যন্ত সাতদিনে সর্বমোট ৫১৬ কোটি ৯৬ লাখ ৯০ হাজার ৪৯১ টাকার কর আদায় হয়েছে।

নগরীর জিইসি কনভেনশন সেন্টারে সপ্তাহব্যাপী আয়কর মেলার সমাপনী দিনে গতকাল চট্টগ্রামের চার কমিশনার, অতিরিক্ত কমিশনার এবং উপকমিশনারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা দৈনিক আজাদীর নিকট মেলা সম্পর্কে নিজেদের মতামত ব্যক্ত করেছেন। এই সময় আপিল জোনের কমিশনার মাহবুব হোসেন, চট্টগ্রাম কর অঞ্চল১ এর কমিশনার মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম, কর অঞ্চল২ এর কমিশনার প্রদ্যুৎ কুমার সরকার, কর অঞ্চল৩ এর কমিশনার মোহাম্মদ মোতাহার হোসেন, অতিরিক্ত কর কমিশনার এবং আয়কর মেলা উদযাপন কমিটির সদস্য সচিব বজলুল কবির ভুঁইয়া, উপ কর কমিশনার মিসেস সামিনা ইসলামসহ শীর্ষ স্থানীয় কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। শীর্ষ এসব কর্মকর্তা মেলা অঙ্গনে উপস্থিত থেকে বিভিন্ন ধরনের কার্যক্রমেও করদাতাদের সহায়তা করেছেন।

ইনকাম ট্যাক্স প্রদান যে এত সহজ একটি বিষয় তাও অজানা ছিল কর অঞ্চল২ এর করদাতা মোহাম্মদ সোলায়মানের নিকট। তিনি বলেন, এত সহজে কর দেয়া যায় তা ধারণাতেও ছিল না। নিজের ট্যাক্স প্রদান এবং টিন নম্বর পেয়ে ভীষণ খুশি মোহাম্মদ সোলায়মান বলেন, মেলায় এসে লাইন ধরে ট্যাক্স দিয়েছি। তবুও আমি সন্তুষ্ট। নাম প্রকাশ না করার শর্তে অপর একজন করদাতা অবশ্য বলেন, সার্ভার ো থাকার কারণে কাজ সম্পন্ন করতে অনেক সময় লেগেছে। সার্ভার আরো গতিশীল করার ব্যবস্থা করা যেতো।

চট্টগ্রামের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আবদুল্লাহ মিলন গতকাল বলেছেন, বত্রিশ বছরের কর্মজীবনে কোনদিন কোন সরকারি দপ্তরকে জনগণের এত কাছে আসতে দেখিনি। চট্টগ্রামের কর কমিশনারসহ শীর্ষ কর্মকর্তাদের অত্যন্ত সাধারণ মানুষ এবং করদাতাদের অতি আপনজন বলে মনে হয়েছে। আয়কর মেলা ইনকাম ট্যাক্স প্রদান সম্পর্কে মানুষের ধারণাই পাল্টে দিয়েছে বলেও আবদুল্লাহ মিলন দৈনিক আজাদীকে জানান। তিনি বলেন, এত সহজে এবং এত সাবলীলভাবে যে ট্যাক্স পরিশোধ করা যায় তা জানা থাকলে বহু মানুষই স্বেচ্ছায় এসে ট্যাক্স প্রদান করবেন।

গতকাল মেলা অঙ্গনে চট্টগ্রামের কর কমিশনারগন বলেন, মেলা অনুষ্ঠানে কর বিভাগ খুবই সন্তুষ্ট। প্রত্যাশার চেয়ে বহু বেশি কর পাওয়া গেছে। কর পাওয়ার চেয়ে মানুষের সাড়া আমাদেরকে আশাবাদী করে তুলেছে। এই সাড়াই একদিন আমাদের করের আওতা অনেক সম্প্রসারিত করবে। বর্তমানে সারা দেশে মাত্র তের লাখ লোক রিটার্ণ দাখিল করেন। এই ধারা অব্যাহত থাকলে অচিরেই তা দ্বিগুনে উন্নীত হবে।

কর কমিশনারগন বলেন, ট্যাক্স প্রদানের ক্ষেত্রে বেশ কিছু বিষয় রয়েছে। একটি ফরম পূরণ করতে হয়। সাথে কিছু তথ্য উপাত্ত এবং প্রমাণের যোগান দিতে হয়। এসব নিয়ে অনেকেই ভীতির মধ্যে ছিল। আমরা মেলায় বহু সেবাই নিজেরাই করে দিচ্ছি। যা মানুষের ধারণা পাল্টে যাওয়ার ক্ষেত্রে বড় ধরণের ভূমিকা রাখছে।

চলতি বছর পর্যন্ত পুরুষ এবং মহিলারা একই বুথে কর দিয়েছেন বলে উল্লেখ করে মেলার সদস্য সচিব এবং অতিরিক্ত কর কমিশনার বজলুল কবির ভূঁইয়া বলেন, আমরা লক্ষ্য করলাম যে, মহিলাদের কিছু প্রিভিলাইজ দেয়া উচিত। আগামী বছর থেকে মহিলাদের জন্য আলাদা বুথ থাকবে। মহিলারা ওখানে ট্যাক্স পরিশোধ করতে পারবেন। চট্টগ্রামে কর প্রদানকারী এবং করের পরিমান ক্রমাগত বাড়ছে বলে উল্লেখ করে কর কমিশনারেরা বলেন, চট্টগ্রাম অঞ্চলে প্রায় তিন লাখ মানুষ ট্যাক্স প্রদান করেন। গত বছর ৭ হাজার ৫৭ কোটি টাকার কর আদায় হয়েছে। চলতি বছর আমরা লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছি ৯ হাজার ৫৫০ কোটি টাকা। আমরা অবশ্যই আমাদের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে সক্ষম হবো বলেও কমিশনারগণ মন্তব্য করেন। কমিশনার মাহবুব হোসেন, মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম, প্রদ্যুৎ কুমার সরকার এবং মোহাম্মদ মোতাহার হোসেন চট্টগ্রামের কর মেলা ভবিষ্যতে আরো ব্যাপক আকারে করার আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।

অপরদিকে মেলা উদযাপন কমিটির সদস্য সচিব বজলুল কবির ভূঁইয়া বলেন, চট্টগ্রামের কর মেলা সারা দেশের মডেল হবে। আমরা এখানে এত নতুন কিছু জিনিস চালু করছি যা ভবিষ্যতে কর আদায়ের ক্ষেত্রে অনেক বেশি ভূমিকা রাখবে। বিশেষ করে ‘উই আর দ্য ফিউচার টেক্স পেয়ার’ ধারণায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের মেলা অঙ্গনে নিয়ে আসার ব্যাপারটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেও তিনি মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, জিইসি কনভেনশন সেন্টারে মোট ৪৪টি বুথে আয়কর সংক্রান্ত বিভিন্ন সেবা পরিচালিত হয়েছে। ব্যাংকের তিনটি বুথ ছিল। সোনালী ব্যাংক ইপেমেন্টের একটি বুথ করেছে। সবকিছু মিলে এবারকার কর মেলা আমাদের প্রত্যাশা ছাড়িয়ে গেছে বলেও বজলুল কবির ভুঁইয়া মন্তব্য করেন।

মেলার সাতদিনে সর্বমোট ২ লাখ ৭৩ হাজার ২০১ জন মেলা অঙ্গনে প্রবেশ করেছেন। আয়কর রিটার্ণ দাখিল করেছেন সর্বমোট ১৮ হাজার ৩৪৯ জন করদাতা। আয়কর আদায় হয়েছে ৫১৬ কোটি ৯৬ লাখ ৯০ হাজার ৪৯১ টাকা। এবারকার মেলায় নতুন করদাতা হিসেবে ইটিন নিয়েছেন ২৯০১ জন করদাতা। আগের টিন নতুন করে রিরেজিস্ট্রেশন করিয়েছেন ২৬ জন। আজ এবং আগামীকালও আগ্রাবাদ ইনকাম ট্যাক্স অফিসের নিচ তলায় ইটিন রেজিস্ট্রেশনে সহায়তা করা হবে বলেও জানিয়েছেন কর কমিশনারেরা।

স্মরণ করা যেতে পারে, গত বছর আয়কর মেলায় ৪৮৩ কোটি টাকার আয়কর আদায় হয়েছিল। গত বছর ২ লাখ ৩৫ হাজার মানুষ আয়কর মেলায় এসেছিলেন।


এখানে খুজুন


আরও পড়ুন