আজ বুধবার, ১৫ আগষ্ট ২০১৮ ইং, ৩১ শ্রাবণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ



অনূর্ধ্ব ১৮ বিজয়ের বাঁশিতে কে হাসবে সন্দ্বীপ নাকি বাঁশখালি!!!

Published on 05 November 2016 | 5: 24 am

ইকবাল ইবনে মালেক :: বিশেষ প্রতিবেদন ::
আর কোনো দিনক্ষণ নয় বরং ঘড়ির কাটায় মাত্র কয়েক ঘন্টা বাকি। সময় ঠিক রেখে বাঁশির তালে পায়ের ছন্দে খেলার মাঠে শুরু হবে টান টান উত্তেজনা। আর উত্তেজনার মধ্যে থাকবে মুহুর্তে মুহুর্তে পাল্টা আক্রমণ। আর সে আক্রমণের রেশ ধরে দর্শক সারিতে মেতে উঠবে হু-উল্লাস আর হৈ চৈ-য়ে।
প্রিয় দর্শক এতোক্ষণ ধরে বলছিলাম বিশ্বে সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলা ফুটবলের কথা। ফুটবল ভালবাসেনা এমন মানুষ খুবিই কম। আর সে ফুটবল প্রেমিদের নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরে চট্টগ্রামে চলছে সিজেকেএস কর্তৃক কনফিডেন্স সিমেন্ট সৌজন্যে আয়োজিত অনূর্ধ্ব-১৮ টুর্নামেন্ট। এতে অংশ নেয় চট্টগ্রামে সবকটি উপজেলা। তবে প্রতিপক্ষকে হারিয়ে চূড়ান্ত বিজয়ের লক্ষ্যে দু’টি উপজেলা সন্দ্বীপ ও বাঁশখালি আজ মুখামুখি। চ্যাপিয়ান ট্রপি অর্জনের জন্যে তারা মোকাবেলা করবে একজন আরেকজনের প্রতিপক্ষ হয়ে। আর মাত্র কিছুক্ষণ পর, সময়ের ঘড়ির কাটার ঘন্টাকে পিছনে পেরিয়ে চুড়ান্ত বিজয়ের লক্ষ্যে হাটাজারি মাঠে কঠিন লড়াইয়ে লড়বে সন্দ্বীপ বনাম বাঁশখালি। তবে অনূর্ধ্ব-১৮ বিজয়ের বাঁশিতেকে’ হাসবে বিজয়ের ‘হাসি’ তা দেখার জন্য অপেক্ষা করতে হবে খেলাটি শেষ হওয়ার আগ মুহুর্ত পর্যন্ত। কিন্তু ইতিমধ্যে ফাইনাল ম্যাচটিকে ঘিরে নানান আনন্দের বার্তা ছড়িয়ে পড়েছে দু-উপজেলার ফুটবল প্রেমীসহ সাধারণ মানুষের অন্তরে।
অনলাইনসহ আলোচনা ও সমালোচনার চলছে সর্বত্র ভেতরে-বাহিরে। তবে দ্বীপবাসী অধির আগ্রহে প্রহর গুনছে অপ্রতিরোধ্য রনি, দুর্দান্ত মেহদী এবং মাঠ কাঁপানো সুমন ও গোল আক্রমনের ঝড় রিগানদের পা’য়ের জাদুতে চ্যাপিয়ান হতে। দ্বীপবাসী স্বপ্নে পূরণে সব দিক থেকে প্রস্তুত মনে করছে এ সময়ের আলোচিত তরুণ কোচ রুবেল।
এক বুক স্বপ্ন নিয়ে, সন্দ্বীপ উপজেলা একাদশ খেলোয়াররা চ্যাপিয়ান ট্রপি ঘরে তোলে দ্বীপের ফুটবল ইতিহাসে নতুন ইতিহাস গড়তে যান। এজন্য তারা প্রাণপণ লড়তে প্রস্তত খেলার মাঠে। আর বিজয়ের লক্ষ্যচূড়া ছুঁয়ে হাসতে চান বিজয়ের হাসি। যে হাসিটি তারা শুরু করেছিল ১৭ অক্টোবর সীতাকুণ্ড হাই স্কুল মাঠে মিরেরসরাই কে ২-১ গোলে হারিয়ে।
তারপর সে হাসির রেশ ধরে ১৮ অক্টোবর সীতাকুণ্ড উপজেলার সাথে ড্র করে চলে যায় ২য় রাউন্ডে। এরপর ২৯ অক্টোবর নানান প্রতিকুলতার মধ্য দিয়ে কোয়াটার ফাইনালে ফটিকছড়ি উপজেলাকে ৫-০ গোলে মাধ্যমে হারিয়ে চমকপদ বিজয়ে আলোড়নের ঝড় তোলে সেমি ফাইনালে। কিন্তু এখানে শেষ নয়। নিজেদের শক্তি আর পায়ের জাদুতে সন্দ্বীপ উপজেলা ফুটবল দল ০-১ গোলে এক রুদ্ধস্বার বিজয় লাভ করে গতবারের চ্যাম্পিয়ান দল উপজেলা লোহাগড়া থেকে।
২ নভেম্বরে সেমিফাইনালের মতো ফাইনালে বাঁশখালিকে পরাভূত করতে চান, এমনটা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন আবহানি ক্রীড়াচক্রের সভাপতি সাহেদ সারোয়ার শামীম। সন্দ্বীপ উপজেলা ফুটবল দলের ধারাবাহিক বিজয় অর্জনের সফলতায় আপ্লুত হয়ে সব খেলোয়ারদের জন্য বিশেষ পুরুস্কার ঘোষণা করলেন ক্লাবের উপদেষ্টা আবূ ইউছুফ রিপন।
এছাড়া খেলোয়াড়দের জন্য নৈশভোজের বার্তা জানান দেন নারী নেত্রী রুমানা নাসরিন রুমু। অন্যদের সাথে খেলোয়াদেরকে সাহস ও অনুপ্রেরণা যুগিয়ে যাচ্ছেন খেলা প্রেমিক নাহিদ মাহমুদ ও ক্লাবের সহ-সভাপতি সালাউদ্দিন বাবু। সর্বোপুরি দলটি নিয়ে বড় সাফল্যের স্বপ্ন দেখেন দলটির সাধারণ সম্পাদকের পদে দায়িত্বপ্রাপ্ত আলাউদ্দিন বেদন।
জরাঝীর্ণ নিস্তেজ দলটিকে প্রাণবন্তভাবে গড়ে তোলতে বিশেষ সহযোগীতার হাত বাড়িয়ে দিয়ে দ্বীপের অশহায় ফুটবল দলটির পাশে দাঁড়ালেন দ্বীপরত্ন সাংসদ মাহফুজুর রহমান মিতা। এছাড়া দলটিকে নানাভাবে সহযোগীতা করে যাচ্ছে ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব আফগানি বাবু। প্রায় পঁচিশ বছর পর সন্দ্বীপ উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার অধীনে প্রথমবারের মতো সন্দ্বীপ উপজেলা ফুটবল দলটি চ্যাম্পিয়ানে খেলার সুযোগ লাভ করে। উল্লেখ্য যে, ক্রীয়া সংস্থাটি ১৯৮২ সালে গঠিত হলেও কিন্তু তা কাগজে কলমে সীমাবদ্ধে থেকে যায়। ১৯৮২ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ প্রায় পঁচিশ বছর ক্রীয়া প্রেমীদের অন্তরালে থেকে এ ক্রীয়া সংস্থাটি অলস সময় পার করে। এতে উদ্যোগ নেওয়া হয়নি ছোট-বড় কোনো টুর্নামেন্টের। দীর্ঘদিন অলস সময়ে মধ্যদিয়ে এ ক্রীয়া সংস্থাটি পুরাপুরি নিস্তেজ ও নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে। সময়ের ব্যবধানে চট্টগ্রাম ক্রীয়াঙ্গন থেকে মুছে যায় সন্দ্বীপ উপজেলা ফুটবল দলের নাম গন্ধ। অবশেষে ২০০৯ সালের পর দায়িত্বের রদ বদলের মধ্য দিয়ে হঠাৎ জেগে উঠে সন্দ্বীপ উপজেলা ক্রীয়া সংস্থা।
২০১০ এ অংশে নেয় চট্টগ্রাম উপজেলা ভিত্তিক অনূর্ধ্ব-১৬ টুর্নামেন্টে। এভাবে ধারাবাহিক অংশে নিয়ে অনূর্ধ্ব-১৮ টুর্নামেন্ট এ সন্দ্বীপ উপজেলা ফুটবল দলে শক্তিপ্রদর্শন মাধ্যমে চলে আসে চট্টগ্রাম ক্রীয়াঙ্গানের আলোচনায়। তবে ক্রীয়াবিদরা সন্দ্বীপ ক্রীয়া সংস্থার এমন সাফল্যের পিছনে অবদান স্বরূপ হিসেবে দেখছে দ্বীপবন্ধু ফুটবল টুর্নামেন্ট, মেয়র কাপ ও আকরাম খান দুলাল গুল্ড কাপকে। সন্দ্বীপ উপজেলা ফুটবল দলটির অনূর্ধ্ব-১৮ টুর্নামেন্টএ ধারাবাহিক সফলতার অর্জনের কোন খোঁজ নেয়নি দলটির অভিবাবক সন্দ্বীপ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম। এবং কমিটির পক্ষ থেকে অসহযোগীতার অভিযোগ উঠে তাঁর বিরুদ্ধে। সকল কিছুর উর্ধ্বে বিজয়ের শেষ হাসি হাসবে সন্দ্বীপ উপজেলা ফুটবল দল এমনটা প্রত্যাশা এবং কামনা চার লক্ষ দ্বীপবাসী।


এখানে খুজুন


আরও পড়ুন