আজ রবিবার, ২৪ জুন ২০১৮ ইং, ১০ আষাঢ় ১৪২৫ বঙ্গাব্দ



আরোগ্যের এক উৎস

Published on 04 November 2016 | 3: 31 am

“হে মানবকূল, তোমাদের কাছে উপদেশবাণী এসেছে তোমাদের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে এবং তোমাদের অন্তরের রোগের নিরাময়, হিদায়াত ও রহমত মুমিনদের জন্য।” [সূরা ইউনুস(১০): ৫৭]

কিছু জিনিস আমাদের প্রশান্ত করে কারণ তা আমাদের হৃদয় ছুঁয়ে যায়। আল্লাহ জানেন কীসে আমরা আহত ও অবসাদগ্রস্ত হই। আর এর প্রতিটির জন্যই আছে উপশম। কোরআন হলো এমনই এক আরোগ্যের উৎস। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, “দুই আরোগ্যের ব্যবহার করো। কোরআন এবং মধু।” [ইবনে মাজাহ]

কোরআন কেন আরোগ্য?

কোরআন হলো আল্লাহর পূর্ণাঙ্গ ও শাশ্বত বাণী। আমরা যখন প্রিয় মানুষটির চিঠি পাই, তখন এর প্রতিটা অক্ষর আমাদের অন্তরকে প্রশান্ত করে। আমরা মানুষটিকে শ্রদ্ধা করি ও ভালোবাসি বলে তার কথাগুলো গুরুত্বের সাথে নেই। মাথায় রাখি যে মানুষটি আমাদের কল্যাণকামী। এটা যদি এমন কেউ হয় যার সাথে আমরা দেখা করতে চাই, তাহলে দেখা হওয়ার আগ পর্যন্ত আগ্রহের বশে আমরা বারবার তা খুলে খুলে পড়ি।

কোরআন হলো আপনার কাছে লেখা আল্লাহর কিতাব। এর প্রতিটা শব্দের জন্য মন কেমন আনচান করে তা উপলব্ধি করার চেষ্টা করুন। ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, যখনই আমি কোনো খারাপ স্বপ্ন দেখে ঘুম থেকে জেগে উঠি তখনই আমি কোরআন তিলাওয়াত করি। একই কাজ করি মন খারাপ থাকলেও। কোরআনে এমন কিছু একটা আছে যা হৃদয়ে প্রবেশ করলে সকল পার্থিব অবসাদ দূর করে দেয়।

কোরআন আমাদেরকে জরুরী বিষয়গুলোতে ফিরিয়ে নিয়ে যায়। আমাদের মনে পড়ে যে আল্লাহ এক, তিনি সব কিছুর নিয়ন্ত্রক, রব্বুল ‘আলামীন। তাহলে কীভাবে আমরা বিশ্বাস করতে পারি যে আল্লাহর ইচ্ছার বাইরে গিয়ে মানুষ কোনো অন্যায় করতে পারে?

পুর্ববর্তী জাতিগুলোর উপর কঠিন বিপদ আসার পরও তাঁরা অবিচল ছিলেন আর আল্লাহ তাঁদের সহায় হয়েছেন। এসব জানার পর আমরা কীভাবে হাল ছেড়ে দিতে পারি? যারা আল্লাহর উপর ভরসা করে আল্লাহই তাদের জন্য যথেষ্ট। তিনি দু’আ কবুল করেন। এসব জানার পর আমরা কীভাবে হতাশ হতে পারি? আখিরাতে আমাদের নেক আমল ছাড়া আর কিছুই কাজে আসবে না। এ কথা জানার পর আমাদের কতটুকুই বা পার্থিব লালসা থাকতে পারে?

কোরআনের মাধ্যমে আরোগ্য লাভ করতে হলে আমাদেরকে তা বুঝে বুঝে এবং হিদায়াত পাওয়ার নিয়তে তা তিলাওয়াত করতে হবে। কোরআনের রহস্যের ব্যাপারে অগাধ জ্ঞানের অধিকারী জা’ফর আসসাদিকের একটি উক্তি তাফসিরে উল্লেখ করেছেন শায়খ আশশারাওয়িঃ

আমি সেই ব্যক্তিকে দেখে বিস্মিত হই যে ভীতসন্ত্রস্ত হলে আল্লাহর এই বাণীর কাছে ছুটে যায় না “আল্লাহই আমাদের জন্য যথেষ্ট, উত্তম কামিয়াবীদানকারী।” কারণ এর পরেই আল্লাহ বলেছেন “অতঃপর তারা আল্লাহর অনুগ্রহ নিয়ে ফিরে এলো, তাদের কিছুই অনিষ্ট হলো না।” [সূরা আলে ইমরান(৩): ১৭৩-৪]

আমি সেই ব্যক্তিকে দেখে বিস্মিত হই যে দুঃখকষ্টে আপতিত হয়েছে অথচ আল্লাহর এই বাণীর কাছে ছুটে যায় না “আপনি ছাড়া উপাস্য নেই, আপনি পবিত্র, নিশ্চয় আমি সীমালঙ্ঘনকারীদের অন্তর্ভুক্ত।” কারণ এর পরেই আল্লাহ বলেছেন “অরঃপর আমি তার আহবানে সাড়া দিলাম এবং তাকে দুশ্চিন্তা থেকে উদ্ধার করলাম। আর এভাবেই আমি বিশ্বাসীদেরকে উদ্ধার করে থাকি।” [সূরা আম্বিয়া(২১): ৮৭-৮৮]

আমি সেই ব্যক্তিকে দেখে বিস্মিত হই যে বিশ্বাসঘাতকতার শিকার হয়েছে অথচ আল্লাহর এই বাণীর কাছে ছুটে যায় না “আমি আমার ব্যাপার আল্লাহর কাছে সমর্পণ করছি। নিশ্চয় বান্দারা আল্লাহর দৃষ্টিতে রয়েছে।” কারন এর পরেই আল্লাহ বলেছেন “অতঃপর আল্লাহ তাকে তাদের চক্রান্তের অনিষ্ট থেকে রক্ষা করলেন আর ফির’আউনের বাহিনীকে গ্রাস করলো শোচনীয় আযাব।” [সূরা গাফির ৪০: ৪৪-৪৫]

আমি সেই ব্যক্তিকে দেখে বিস্মিত হই যে রোগাক্রান্ত অথচ আল্লাহর এই বাণীর কাছে ছুটে যায় না “আমি দুঃখকষ্টে আপতিত হয়েছি আর আপনি দয়াবানদের চাইতেও শ্রেষ্ঠতম দয়াবান।” কারণ এর পরেই আল্লাহ বলেছেন “অতঃপর আমি তার আহবানে সাড়া দিলাম এবং তার দুঃখকষ্ট দূর করলাম এবং তার পরিবারবর্গ ফিরিয়ে দিলাম, আর তাদের সমপরিমাণ আরও দিলাম আমার পক্ষ থেকে কৃপাবশতঃ আর এটা ইবাদাতকারীদের জন্য উপদেশস্বরূপ।” [সূরা আম্বিয়া(২১): ৮৩-৮৪]

আরও চেষ্টা

পড়তে পড়তে যদি মনে হয় আমরা কোরআন থেকে অনেক দূরে, এর কথাগুলো অন্তরে প্রবেশ করছে না, তাহলে অন্তরে কোরআন প্রবেশ করা পর্যন্ত তিলাওয়াত চালিয়ে যাওয়া উচিত। আল্লাহর কাছে দু’আ করতে হবে যেন তিনি কোরআনকে আমাদের অন্তরে গেঁথে দেন। আমাদের বিশ্বাস রাখতে হবে যে আল্লাহর কথা সত্য। যদি তিনি বলে থাকেন কোরআনে আরোগ্য আছে, তাহলে অবশ্যই তাতে আরোগ্য আছে। আমাদেরই বরং নিজের ইয়াকিন ঠিক করতে হবে।

কোরআন বোঝার চেষ্টা করার মাধ্যমে কোরআনের সাথে সম্পর্ক বাড়াতে হবে। কোরআনের তাফসির শ্রবণ ও অধ্যয়ন করতে হবে। বিশেষ করে ইন্টারনেটের এ যুগে তো কোনো অজুহাতই গ্রহণযোগ্য না।

সবশেষে বলতে চাই, দুঃখদুর্দশায় পতিত ব্যক্তিদের এই দু’আ করা চাই:

“হে আল্লাহ! নিশ্চয় আমি তোমার বান্দা/বান্দী। তোমার এক বান্দার ও এক বান্দীর সন্তান। আপনি আমার কপালের চুল ধরে আছেন (আমার নিয়ন্ত্রণ আপনার হাতে)। আমার উপর আপনার ফায়সালা নিশ্চিত, আমার উপর আপনার নির্ধারিত তাকদির যথাযথ। আপনি নিজের জন্য যেসব নাম পছন্দ করেছেন অথবা কিতাবে প্রকাশ করেছেন অথবা আপনার কোনো মাখলুককে শিক্ষা দিয়েছেন অথবা নিজের গায়েবি জ্ঞানে সংরক্ষিত রেখেছেন, সেই সব নামের উসিলায় দু’আ করছি যে, আপনি কোরআনকে আমার হৃদয়ের জীবন, অন্তরের জ্যোতি ও দুঃখ দুর্দশা দূরকারী বানিয়ে দিন।” তাহলে আল্লাহ তার দুঃখ দূর করে দেবেন ও তা আনন্দ দিয়ে বদলে দেবেন। (আহমাদ)


উৎসঃ “A Source of Healing” (মূল আর্টিকেল লিংক)

অনুবাদঃ আরমান নিলয়,


এখানে খুজুন


আরও পড়ুন