আজ শনিবার, ২৩ জুন ২০১৮ ইং, ০৯ আষাঢ় ১৪২৫ বঙ্গাব্দ



চট্টগ্রামে আসছে থাই এয়ারসহ দুটি সংস্থা ।। শাহ আমানত বিমানবন্দরের ছয় বছরে যাত্রী বেড়েছে দ্বিগুণ

Published on 02 November 2016 | 4: 34 am

বন্ধ হয়ে যাওয়ার সাত বছর পর থাই এয়ারওয়েজ আবার চট্টগ্রামে আসছে। অপরদিকে স্পাই জেড নতুন বাজার খোঁজার জন্য চট্টগ্রামের সাথে ফ্লাইট পরিচালনা শুরু করতে যাচ্ছে। চট্টগ্রাম থেকে ব্যাংকক এবং কলকাতা ও দিল্লি রুটে এই দুটি এয়ার ওয়েজ ফ্লাইট চলাচল করবে। সময় নির্ধারণ না হলেও আগামী কিছুদিনের মধ্যে থাই এবং স্পাই জেডের বোয়িং চট্টগ্রাম শাহ আমানত বিমানবন্দর থেকে উড়বে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের ধারণা, চট্টগ্রামের ব্যবসাবাণিজ্যের ক্ষেত্রে তা প্রত্যাশিত পরিবর্তন আনবে। কেননা, গত ছয় বছরে এই বিমানবন্দরে যাত্রী সংখ্যা দ্বিগুণ বেড়েছে। অবশ্য সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিষয়টি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ দুই রুটেই প্রতি বছর যাত্রী পরিবহন বেড়েছে। এই বিমানবন্দর আন্তর্জাতিক হিসেবে স্বীকৃতি পায় ২০০১ সালে। ওই বছর অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক রুটে ২ লাখ ৭৬ হাজার যাত্রী পরিবহন করা হয়েছিল। ২০০৯ সালে ৫ লাখ ৬৯ হাজার জন যাত্রী পারাপার করে। ছয় বছরে যাত্রী পরিবহন দ্বিগুণ হয়েছে। ২০১৫ সালে এই বিমানবন্দর দিয়ে ১১ লাখ ৭০ হাজার যাত্রী যাতায়াত করেন। চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে ৫ লাখ ৯১ হাজার জন যাত্রী পরিবহন করা হয়। বছরের শেষ দিকে স্কুলকলেজ ছুটি এবং বেড়ানোর মৌসুমে যাত্রী পরিবহন বাড়বে বলে মনে করছেন কর্তৃপক্ষ। তাদের মতে, চলতি বছর যাত্রী পরিবহনের সংখ্যা তের লাখের কাছাকাছি হতে পারে।

শাহ আমানত বিমানবন্দরে ইন্ডিয়ান এয়ারলাইন্স, সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সের অঙ্গ প্রতিষ্ঠান সিল্ক এয়ার, থাই এয়ার, ফুকেট এয়ারসহ বিভিন্ন বিদেশি ফ্লাইট অপারেটর ছিল। এক পর্যায়ে যাত্রী সংকটে সবাই ব্যবসা গুটাতে বাধ্য হয়।

বর্তমানে চট্টগ্রাম থেকে দেশি বিমান সংস্থা রিজেন্ট এয়ার ও বাংলাদেশ বিমান, বিদেশি বিমান সংস্থা ওমান এয়ার, এয়ার এরাবিয়া, ফ্লাই দুবাই ও রোটানা জেট ফ্লাইট পরিচালনা করছে। অভ্যন্তরীণ রুটে বাংলাদেশ বিমান, ইউএস বাংলা, নভো এয়ার, রিজেন্ট এয়ার ও ইউনাইটেড এয়ারলাইন্স ফ্লাইট পরিচালনা করছে।

এই বিমানবন্দর ব্যবহার করে বর্তমানে আন্তর্জাতিক রুটে সপ্তাহে ১৮ থেকে ২২টি ফ্লাইট আসাযাওয়া করছে। অভ্যন্তরীণ রুটে আসাযাওয়া করছে ৮৪টি ফ্লাইট।

চব্বিশ ঘণ্টা এয়ারপোর্ট চালু রেখে ফ্লাইট অপারেশনের সক্ষমতা রয়েছে এই বিমানবন্দরের। যাত্রী সংখ্যা বাড়ার সাথে সাথে বিদেশি ফ্লাইট অপারেটরদের আগ্রহে নতুন মাত্রা পেতে শুরু করেছে। ভারতের স্পাই জেড এয়ারওয়েজ এখান থেকে কলকাতা এবং দিল্লিতে যাত্রী পরিবহনের জন্য ফ্লাইট পরিচালনা শুরু করতে যাচ্ছে।

থাই এয়ারওয়েজের আবার চট্টগ্রামে ফিরে আসার উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। প্রতিষ্ঠানটি চট্টগ্রামে ফ্লাইট অপারেশন শুরু করেছিল ২০০৩ সালে। ২০০৯ সালের ২৫ নভেম্বর ফ্লাইট পরিচালনা বন্ধ করে দেয়া হয়। ওই সময় বিশ্বের আরো অনেকগুলো এয়ারপোর্ট থেকে ব্যবসা গুটিয়ে এনেছিল তারা। থাই এয়ারের যাত্রী সংকট ছিল না। থাই এয়ারওয়েজ সপ্তাহে তিন দিন চট্টগ্রাম থেকে ব্যাংককে ফ্লাইট পরিচালনা করত। চট্টগ্রাম থেকে দুই ঘণ্টায় ব্যাংকক এবং সুবর্ণভূমি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে পরবর্তী ঘণ্টা কয়েকের মধ্যে ইউরোপআমেরিকাসহ বিশ্বের আশিটি গন্তব্যে যাওয়ার সুযোগ তৈরি করেছিল থাই এয়ার। ভারতের অনেক যাত্রীও চট্টগ্রাম থেকে ব্যাংকক হয়ে মুম্বাই গেছেন।

বর্তমানে রিজেন্ট এয়ার ব্যাংককের সাথে ফ্লাইট পরিচালনা করলেও কানেক্টিভিটির সুবিধা থাই এয়ারের মতো নেই। থাই এয়ারকে চট্টগ্রামে ফ্লাইট পরিচালনার জন্য চট্টগ্রাম চেম্বার, মেট্রোপলিটন চেম্বারসহ বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের পক্ষ থেকে আহ্বান জানানো হয়েছিল। কিন্তু নিজেদের সংকটের কারণে এতদিন আসতে পারেনি। ইতোমধ্যে সংকট কাটিয়ে উঠেছে।

এ বিষয়ে সিভিল এভিয়েশনের সাথে থাই এয়ার কর্তৃপক্ষের যোগাযোগ শুরু হয়েছে। কিছুদিনের মধ্যে থাই এয়ার এবং ভারতের স্পাই জেড এয়ারওয়েজ চট্টগ্রাম থেকে যাত্রী পরিবহন শুরু করবে।

শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সিভিল এভিয়েশনের ম্যানেজার উইং কমান্ডার রিয়াজুল কবির এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

অপর একজন শীর্ষ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, থাই এয়ার এবং স্পাই জেড এয়ারওয়েজ চট্টগ্রামে আসার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। তবে বিষয়টি প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে।

 


এখানে খুজুন


আরও পড়ুন