আজ শনিবার, ২৩ জুন ২০১৮ ইং, ০৯ আষাঢ় ১৪২৫ বঙ্গাব্দ



গোল্ডেন লাইফের অবৈধ ব্যয় ১৬৫ কোটি, অডিট ফার্ম নিয়োগ

Published on 01 November 2016 | 9: 48 am

ব্যবস্থাপনার নামে ১৬৫ কোটি ২৫ লাখ টাকা অবৈধ ব্যয় দেখিয়েছে বিমা খাতের গোল্ডেন লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড। কষ্টে উপার্জিত গ্রাহকের এ টাকা কোম্পানিটির অবৈধ ব্যবস্থাপনা ব্যয়ে ব্যবহারের পাশাপাশি কোম্পানির অন্যান্য অনিয়ম ও দুর্নীতি খতিয়ে দেখতে নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠান (অডিট ফার্ম) নিয়োগ দিয়েছে বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)।

সূত্র জানায়, আইডিআরএ নির্ধারিত নিরীক্ষা কোম্পানি একনাবিন অডিট অডিট ফার্ম গোল্ডেন লাইফের ২০১২, ২০১৩ ও ২০১৪ সালের ব্যবসায়িক চিত্র নিরীক্ষা করবে। এতে কোম্পানির অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা ব্যয়, বিনিয়োগ, প্রিমিয়াম আয়, তামাদি পলিসি, লাইফ ফান্ড ও সম্পদের প্রকৃত তথ্য যাচাই-বাছাই করে দেখা হবে।

এদিকে আইডিআরএ’র পাশাপাশি কোম্পানির ১৬৫ কোটি ২৫ লাখ টাকা অবৈধ ব্যয় বিষয়টি খতিয়ে দেখেছে দুর্নীতি দমন কমিশনও (দুদক)। প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে একটি কমিটি গঠন করেছে দুদক। কমিটি তাদের কার্যক্রম চালাচ্ছে।

আইডিআরএ’র বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, ২০০৯-২০১৫ সাল পর্যন্ত মোট ৭ বছরে প্রথম বর্ষ প্রিমিয়াম আয়ের তুলনায় ব্যবস্থাপনা ব্যয় নির্ধারিত টাকার চেয়ে ১৬৫ কোটি ২৫ লাখ বেশি দেখিয়েছে কোম্পানিটি। বিমা বিধিমালা ১৯৫৮ এর ৩৯ বিধি অনুযায়ী, প্রথম বর্ষ ব্যবসার জন্য ব্যবস্থাপনা ব্যয়ের সর্বোচ্চ সীমা ৯০ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে।

কিন্তু কোম্পানিটি নির্ধারিত সীমার চেয়ে সর্বশেষ ২০১১ সালে ২৩ কোটি ৭১ লাখ, ২০১২ সালে ৩৯ কোটি ৩৯ লাখ, ২০১৩ সালে ১৭ কোটি ৬৩ লাখ, ২০১৪ সালে ১৬ কোটি ৬৮ লাখ এবং ২০১৫ সালে ১৪ কোটি ২৯ লাখ টাকা বেশি ব্যয় দেখিয়েছে। যা বিমা বিধিমালা ১৯৫৮ এর বিধি ৩৯ লঙ্ঘন।

এ অনিয়মের কারণে এর আগে পদ্মা ইসলামী, প্রগতি, মেঘনা, সানফ্লাওয়ার ও ন্যাশনাল লাইফ ইন্স্যুরেন্সসহ মোট ৬টি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বিশেষ নিরীক্ষক (অডিট) নিয়োগ করে আইডিআরএ। অডিট রিপোর্টে প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে গ্রাহকদের শত শত কোটি টাকা লোপাটের চিত্র উঠে আসে। এরপর নতুন করে আরো ছয়টি প্রতিষ্ঠানের অডিট ফার্ম নিয়োগ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আইডিআরএ সদস্য ও মুখপাত্র জুবের আহমেদ খান বলেন, কোম্পানিটির আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে নিয়ম বহির্ভূত খরচ পাওয়া গেছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

গোল্ডেন লাইফের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সুশান্ত প্রামানিকের মোবাইল ফোনে একাধিকবার ফোন করে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।


এখানে খুজুন


আরও পড়ুন