আজ সোমবার, ১৮ জুন ২০১৮ ইং, ০৪ আষাঢ় ১৪২৫ বঙ্গাব্দ



নাসিরনগরে মন্দিরে ভাঙচুর, লুটপাট

Published on 31 October 2016 | 3: 57 am

ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেওয়ার গুজবে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে হিন্দু সম্প্রদায়ের মন্দির ও বাড়িঘরে হামলা-ভাঙচুর, লুটপাট করা হয়েছে। উপজেলার সদরে হিন্দু অধ্যুষিত এলাকায় রোববার দুপুর ১২টার পর দেড় ঘণ্টাব্যাপী হামলা-ভাঙচুরে অন্তত ২০ জন আহত হয়েছে বলে জানা গেছে। এতে হিন্দুদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

পরিস্থিতি বিবেচনায় এলাকায় পুলিশের পাশাপাশি র‌্যাব ও বিজিবির সদস্য মোতায়েন রয়েছে। রাতে এলাকার পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নাসিরনগরের রসরাজ দাস নামের এক যুবক ফেসবুকের নিজের পেজে ইসলাম ধর্মের অবমাননাকর একটি ছবি পোস্ট দেয় বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। পুলিশ শনিবার দুপুরে ওই যুবককে গ্রেপ্তার করে। এ ঘটনায় নাসিরনগরে দুটি সংগঠনের উদ্যোগে সমাবেশ ডাকা হয়েছিল। সমাবেশ চলাকালে তারা দা, লাঠি-সোঁটা নিয়ে হামলা চালায়।

উপজেলা পূজা উদযাপন সমিতির সভাপতি দত্তপাড়ার কাজল জ্যোতি দত্ত জানান, তার বাড়ি ও মন্দিরে হামলা হয়। বহু লোক দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। এ সময় তাদের ফেরাতে গিয়ে এলাকার কিছু মুসলিম যুবকও আহত হয়।

সুব্রত সরকার নামের এক ব্যক্তি জানান, মন্দিরে ভাঙচুরের পাশাপাশি তারা বাড়ি-ঘর থেকে মূল্যবান জিনিসপত্র লুটে নিয়ে যায়। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রিজিওন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাশরুর উল্লাহ, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক রেজওয়ানুর রহমান, পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান, র‌্যাব-৯ এর কম্পানি কমান্ডার এএসপি মো. আবু সাঈদ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। পরিদর্শনকালে তারা এ বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া বলে আশ্বাস দেন।

পূজা উদযাপন পরিষদ নাসিরনগর উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক হরিপদ পোদ্দার বলেন, ‘হামলাকারীরা ১০-১২টি মন্দিরের পাশাপাশি অনেকগুলো বাড়িতে হামলা চালিয়েছে। আমরা এলাকায় শান্তি চাই।’

সহকারী পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আব্দুল করিম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ সুপারসহ ব্যার-বিজিরির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে যান। তারা আলেম-ওলামাদের নিয়ে বৈঠক করেছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে। ক্ষতিগ্রস্ত স্থানগুলো তারা পরিদর্শন করেছেন।

১২ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল শাহ আলী বলেন, ‘বিক্ষোভকারীরা বেশ কয়েকটি মন্দিরে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। এক পর্যায়ে তারা আগুন দেওয়ার চেষ্টা করলে বিজিবি-পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।’

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক রেজওয়ানুর রহমান বলেন, ‘শুরু থেকেই আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে পরিস্থতি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসি। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনা হবে। ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরি করা হচ্ছে।’

 

 


এখানে খুজুন


আরও পড়ুন