আজ বুধবার, ২০ জুন ২০১৮ ইং, ০৬ আষাঢ় ১৪২৫ বঙ্গাব্দ



একি বৃন্তে দুটি ফুল : সন্দ্বীপের দুজন কৃতি ভাই বোন

Published on 28 October 2016 | 6: 13 pm

:: শেখ আলমগীর শাহনেওয়াজ সাগর ::
…………………………………………………..
সন্দ্বীপের অন্যতম প্রধান ইউনিয়নের নাম কালাপানিয়া । শিক্ষা , ক্রীড়া আর সংস্কৃতি সমৃদ্ধ এই ইউনিয়নের আলাদা পরিচিতি আছে সব সময় । অগনিত মেধাবী মুখের আলোয় আলোকিত এই জনপদ । সেই আলোচিত জনদের ভিডে আরও দুজনের নাম লিখা হয়ে গেছে মানুষের অন্তরে ।
দ্বীপে জন্মগ্রহণ কারী বর্তমান প্রজন্মের এই মেধাবী উদিয়মান তারকারা তাদের আলো বিলিয়ে যাচ্ছেন
দেশের সীমানা পার হয়ে দেশান্তরে ।
সন্দ্বীপের নাম যশ আর খ্যাতির তালিকা ও দীর্ঘ থেকে দীর্ঘ হচ্ছে ।

আজ বলছি আমাদের সকলের অত্যন্ত প্রিয় মিজান ভাইতার ছোট বোন নিপার কথা

পুরো নাম : মোহাম্মদ মিজানুর রহমান ভুইয়া

কালাপানিয়া প্রাইমারি স্কুলের সাবেক শিক্ষক মোহাম্মদ জিল্লুহুল ভুইয়া এবং আনোয়ারা বেগমের গর্বিত সন্তান তিনি ।
ঐ স্কুলেই প্রাথমিক পড়াশুনা শেষ করে
ভর্তি হয়েছেন ঐতিহ্যবাহী কালাপানিয়া হাই স্কুলে ।
১৯৮৬ সালে বিজ্ঞান শাখা হতে ১ম বিভাগে উত্তীর্ণ হন । বরাবরই অত্যন্ত মেধাবী ছিলেন তিনি ।
তারপর ১৯৮৮ সালে সরকারী বিজ্ঞান কলেজ থেকে স্টার মার্কস সহ আবারও ১ম বিভাগে উত্তীর্ণ হন তিনি ।
তারপর অসংখ্য মেধাবীদের স্বপ্নের বুয়েটে হয় শেষ ঠিকানা ।
১৯৯৫সালে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) থেকে বি এস সি ( মেকানিকেল ইনজিনিয়ারিং) হিসাবে ১ম বিভাগে উত্তীর্ণ হন ।
২০০৭ সালে এই বুয়েট থেকেই কৃতিত্বের সাথে শেষ করেন advenc engineering management কোর্স ।
সদা হাসিখুশী , বন্ধু ভাবাপন্ন , সংগীত প্রিয় এই মেধাবী মানুষটি তার জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রেই হয়েছেন। দারুন সফল ।
প্রথমে তিনি যোগ দিয়েছিলেন BOC তে ।
বর্তমানে তিনি আছেন বাংলাদেশের অন্যতম বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান ইউনিলিভারস বাংলাদেশের অন্যতম কর্নধার হিসাবে ।
তিনি ইউনিলিভারস বাংলাদেশের ” Head of engineering ”
প্রচন্ড ঘুরতে ভালোবাসেন তিনি ।
কখনও অফিসিয়ালি কখনও নিজস্ব উদ্যোগে সফর করেছেন পৃথিবীর এ প্রান্ত থেকে ঐ প্রান্তে । বিভিন্ন সভা ও সিমপোজিয়ামে অংশগ্রহণ এর জন্য
সুউজারল্যানড, ফ্রান্স, অস্ট্রেলিয়া , জার্মান , সৌদি আরব, পাকিস্তান , ভারত, মালয়েশিয়া , সিংগাপুর, শ্রীলংকা সহ অসংখ্য দেশে সফর করেছেন ।
গিয়েছেন কখনও পেশাগত কারনে কখনও ব্যক্তিগত ।
যখনি সময় পান, ছুটে যান তার আপন ঠিকানায় সন্দ্বীপের কালাপানিয়া গ্রামে । এখনও যুক্ত আছেন গ্রামের সব সামাজিক প্রতিষ্ঠানের সাথে ।
গ্রামের সেই ছোট বেলার বন্ধু আর পরিচিত জনদের সাথে আছে তার নিবির যোগাযোগ ।
তার সুযোগ্য সহধর্মিনী শারমিন আরা খানম
ছেলে রশিদ সাবাব আয়ান ও মেয়ে আফরা রহমান কে নিয়ে অত্যন্ত সুখের জীবন তার ।
তারা ৪ বোন ১ ভাই ।
তার ছোট ভাই ও বুয়েট থেকে কৃতিত্বের সাথে সিভিল ইনজিনিয়ারিং পাশ করে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পি এইছ ডি করছেন । সব বোনেরা ও শিক্ষিত ও নিজ নিজ ক্ষেত্রে সফল ।
প্রিয় মিজান ভাই সন্দ্বীপের গর্বিত একজন মানুষ ।
অত্যন্ত অমায়িক, নিরঅহংকার, শিক্ষানুরাগী ও বিনয়ী এই আলোকিত মানুষটি আরও এগিয়ে যাক
এটাই আমাদের প্রত্যাশা ।

…………………………….
নাসরিন সুলতানা নিপা :
তিনিও ছোট বেলায় কালাপানিয়া প্রাইমারি স্কুল শেষ করে ভর্তি হন চট্টগ্রামের মহিলা সমিতি হাই স্কুলে ।
বরাবরই মেধাবী এই ছাত্রী
২০০০ সনে এস এস সি তে বিজ্ঞান শাখা হতে ১ম বিভাগেই উত্তীর্ণ হন ।
২০০২ সালে চট্টগাম কলেজ থেকে আবারও ১ম বিভাগে উত্তীর্ণ ।
তারপর বি এস এস মাষ্টারস করেন ইকোনোমিকস এ । ছোট বেলা প্রাইমারি আর মাধ্যমিকে পেয়েছেন বৃত্তি ।
কিছুদিন সরকারী সোনালী ব্যাংকে চাকুরী করেছেন ।
এরই মাঝে কৃতিত্বের সাথে ৩০ তম বি সি এস এ উত্তীর্ন হন ।
তারপর আর এই দ্বীপ কন্যাকে পিছনে তাকাতে হয়নি ।
ঢাকায় কিছুদিন সরকারী বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক দপ্তরে চাকুরী করেছেন ।
এখন তিনি ফেনী জেলার সহকারী কমিশনার ভুমি ।
অত্যন্ত সৎ ও যোগ্য অফিসার হিসাবে ইতিমধ্যেই
প্রশাসনে অনেক সুনাম কুডিয়েছেন ।
তার প্রশাসনিক দক্ষ কর্মকান্ডে ফেনিতে তাকে এক নামেই চিনে ।
ওনার স্বামী জ্বনাব সাইফুল ইসলাম ওএকজন সরকারী প্রশাসনের ক্যাডার ।
তিনি ও পরশুরাম থানার সহকারী কমিশনার ভুমি ।

একমাত্র পুত্র সন্তান সাফওয়াত নিহান কে নিয়ে
তাদের সুখের সংসার ।

অসংখ্য অগনিত মেধাবী আর কৃতি সন্তান গুলো
আমাদের এই ছোট্ট জন্মভুমি সন্দ্বীপ কে করেছে
আরও বিশাল ।
দ্বীপের বিশাল বিশাল জলরাশির আর বিশাল আকাশের মাঝে আরও বেডিয়ে আসবে অগনিত তারা । সেই শত সহস্র তারার আলোয় আলোকিত হবে আমাদের দেশ আর আমাদের সন্দ্বীপ।

স্যালুট এই গর্ভধারিনী মা ও জন্মদাতাকে
এই দেশ ও এই সন্দ্বীপকে এতগুলো কৃতি সন্তান দের উপহার দেয়ার জন্য ।

তোমরা এগিয়ে যাও
যেতে হবে বহুদুর
হাতে নিয়ে আলোর দ্বীপ
তোমরা যে মেইড ইন সন্দ্বীপ ।


এখানে খুজুন


আরও পড়ুন