আজ শনিবার, ২৩ জুন ২০১৮ ইং, ০৯ আষাঢ় ১৪২৫ বঙ্গাব্দ



প্রেস ক্লাবে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বনমন্ত্রী মঞ্জু ।। কর্ণফুলী এখন খালে পরিণত হয়েছে

Published on 25 October 2016 | 4: 01 am

চট্টগ্রামবাসীর অহংকারের যে জায়গা সেই বন্দর ক্রমান্বয়ে গুরুত্ব হারাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন পরিবেশ ও বনমন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু। গতকাল সোমবার বিকেলে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব আয়োজিত গুণীজন, কৃতী সাংবাদিক ও মেধাবী শিক্ষার্থী সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, যদিও একটি বন্দরের ওপর দেশ নির্ভরশীল হয়ে থাকা উচিত নয়। যে নদীকে ঘিরে দেশের প্রধান সমুদ্র বন্দর, সেই কর্ণফুলীকে দেখলে এখন খাল মনে হয়। পলি জমে যে অবস্থা হয়েছেএটি যেনো একটি খাল। অবশ্য, পতেঙ্গা নাকি এখনো আকর্ষণীয় স্থান। অনেকেই সেখানে বেড়াতে যান শুনেছি। কিন্তু তারা কি দেখতে যান জানি না। সময়সুযোগ হলে আমারও সেখানে গিয়ে দেখার ইচ্ছে আছে। মন্ত্রী বলেন, চট্টগ্রামের মানুষ নির্বাচনে যত টাকা খরচ করেন, আর কোথাও তেমনটি দেখিনি। এখানে নির্বাচন মানে অর্থের প্রতিযোগিতা। চট্টগ্রাম, সিলেট ও নোয়াখালীর মানুষের নিজেদের ভাষায় কথা বলা একটি প্রশংসনীয় বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, চট্টগ্রাম সংগ্রামের সূতিকাগার, আন্দোলনের সূতিকাগার। সূর্য সেনের কথা ছাত্রাবস্থায় অনেক শুনেছি। বেশির ভাগ আন্দোলনসংগ্রামে চট্টগ্রামের অবদান অগ্রগণ্য। চট্টগ্রাম, রাঙামাটি ও বান্দরবান শহরকে সুন্দরভাবে গড়ে তোলা উচিত ছিল মন্তব্য করে মন্ত্রী বলেন, চট্টগ্রাম, রাঙামাটি ও বান্দরবানের মতো পাহাড় দেশের আর কোথাও নেই। এ শহরগুলোর প্রতি বিশেষভাবে নজর রাখা উচিত ছিল। বিশেষ করে যোগাযোগ ব্যবস্থায়।

প্রেস ক্লাব সভাপতি কলিম সরোয়ারের সভাপতিত্বে ইঞ্জিনিয়ার আবদুল খালেক মিলনায়তনে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক মিঞা আবু মোহাম্মদ ফারুকী (মরণোত্তর), চট্টগ্রাম চক্ষু হাসপাতাল ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ট্রাস্টের ম্যানেজিং ট্রাস্টি অধ্যাপক ডা. রবিউল হোসেন ও উপমহাদেশের প্রখ্যাত বংশীবাদক ওস্তাদ ক্যাপ্টেন আজিজুল ইসলামকে গুণীজন সংবর্ধনা দেওয়া হয়। মিঞা আবু মোহাম্মদ ফারুকীর (মরনোত্তর) পক্ষে সংবর্ধনা স্মারক গ্রহণ করেন তার ছেলে খ্যাতিমান আলোকচিত্রী শোয়েব ফারুকী। কৃতী সাংবাদিক হিসেবে সংবর্ধিত করা হয় দৈনিক নয়াবাংলার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ও চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি আবদুল্লাহ আল ছগীর (মরণোত্তর), দৈনিক পূর্বদেশের সাবেক নির্বাহী সম্পাদক ও দৈনিক পূর্বকোণের সাবেক বার্তা সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা নাসিরুদ্দিন চৌধুরী, দৈনিক আজাদীর সিনিয়র সম্পাদনা সহকারী মো. নূর সুলতান কুতুবী, চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের (সিইউজে) সাবেক সভাপতি অঞ্জন কুমার সেন এবং দৈনিক সত্যবাণীর প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক এসএম আতিকুর রহমানকে। আবদুল্লাহ আল ছগীরের পক্ষে সংবর্ধনা স্মারক নেন তার ছেলে এনায়েত উল্লাহ হিরু। অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে জাতীয় প্রেসক্লাবের আদলে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবেও চট্টগ্রামের প্রয়াত খ্যাতিমান সাংবাদিকদের ছবি টাঙানোর এবং জীবনী গ্রন্থমালা প্রকাশের প্রস্তাব দেন সাংবাদিক ও মুক্তিযোদ্ধা নাসিরুদ্দিন চৌধুরী। সাংবাদিকতায় বিশেষ অবদান রাখা অগ্রজ ও প্রবীণ সাংবাদিকদের সংবর্ধনা প্রদানের জন্য প্রেসক্লাবের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। এছাড়া বিভাগীয় ও জেলা প্রতিনিধি রাখার মাধ্যমে জাতীয় প্রেসক্লাবকে সারা দেশের সাংবাদিকদের প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের দাবি জানান তিনি। ডা. রবিউল হোসেন বলেন, এ ধরনের স্বীকৃতির প্রয়োজন আছে, বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মকে সামাজিক দায়িত্ব পালনে উদ্বুদ্ধ করার জন্য এর গুরুত্ব অনস্বীকার্য। ক্যাপ্টেন আজিজুল ইসলাম তাঁর প্রতিক্রিয়ায় বলেন, আমি পেশায় নাবিক ছিলাম। ছোটবেলা থেকে বাঁশির চর্চা করে আসছি। যেকোনো স্বীকৃতি আনন্দের, আমিও আনন্দিত। পরের প্রজন্মকে এ স্বীকৃতি উদ্বুদ্ধ করবে। আর জাতীয় প্রেসক্লাবের সাথে বিভাগীয় প্রেসক্লাবের আন্তঃসম্পর্ক গড়ে তোলার মাধ্যমে জাতীয় মর্যাদা দেওয়ার দাবি জানান সাংবাদিক অঞ্জন কুমার সেন। তাঁদের বক্তব্যের প্রেক্ষিতে বনমন্ত্রী বলেন, জাতীয় প্রেসক্লাবে বিভাগীয় প্রতিনিধি থাকা প্রয়োজন, এটি জটিল বিষয়। আমি যখন নেতৃত্বে ছিলাম তার আগে থেকেই ঢাকার বাইরে যারা মফস্বলের সাংবাদিক তাদের থাকার ব্যবস্থা প্রেসক্লাবে থাকবে এমনটি আলোচিত হয়ে আসছিল। আগামী দিনে ৩১ তলা ভবন হচ্ছে। এক্ষেত্রে বাড়তি আয় ও নির্মাণ ব্যয় আদায়ই লক্ষ্য। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সাধারণ সম্পাদক মহসিন চৌধুরী। ক্লাবের যুগ্ম সম্পাদক চৌধুরী ফরিদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের (সিইউজে) সভাপতি রিয়াজ হায়দার চৌধুরী। গুণীজনদের পরিচিতি উপস্থাপন করেন ক্লাবের সিনিয়র সহসভাপতি কাজী আবুল মনসুর, সাবেক সাধারণ সম্পাদক ফারুক ইকবাল, সমাজসেবা ও আপ্যায়ন সম্পাদক মো. আইয়ুব আলী এবং প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আলমগীর সবুজ। অনুষ্ঠানের ২০১৫১৬ সালে এসএসসি এবং এইচএসসিতে কৃতিত্ব অর্জনকারী ক্লাবের সদস্যদের ৩০ জন ছেলেমেয়েকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। প্রধান অতিথি এসব শিক্ষার্থীদের হাতে সংবর্ধনা স্মারক তুলে দেন। অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে ক্লাবের সদস্যদের জন্য র‌্যাফল ড্র’র আয়োজন করা হয়। র‌্যাফল ড্রতে লটারির মাধ্যমে দশ জন সদস্য বিভিন্ন পুরস্কার পান।

 


এখানে খুজুন


আরও পড়ুন