আজ মঙ্গলবার, ২১ আগষ্ট ২০১৮ ইং, ০৬ ভাদ্র ১৪২৫ বঙ্গাব্দ



বাংলা একাডেমী সংস্কারের দাবি

Published on 24 October 2016 | 3: 42 pm

“বৃষ্টি ভেজা গোধূলির রঙ-সাহিত্যাঙ্গন” দেশের সমস্ত কবি/সাহিত্যিক/লেখক ও পাঠকদের পক্ষে, বাংলাদেশ সরকারের কাছে বাংলা একাডেমি সংস্করণ সহ চার দফা দাবি জানিয়ে এক (বিবৃতি) দিয়েছেন তাহা হুবাহুব তুলে ধরা হলো।

বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে,যে উদ্যোগ হাতে নিয়েছেন তার সাথে আমাদের “বৃষ্টি ভেজা গোধূলির রঙ-সাহিত্যাঙ্গন” একাত্মতা পোষণ করে বাংলা সাহিত্যের ধারাকে আধুনিক থেকে আধুনিকতর করার দাবীতে,বাংলাদেশ সরকারের কাছে কিছু যুক্তিসঙ্গত দাবী উপস্থাপন করছিঃ

ইতিমধ্যে কেউ কেউ মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে “কবি ভবন” এর দাবী তুলেছেন। এ বিষয়ে আমরা আমাদের অবস্থানকে পরিষ্কার করতে চাই। আমাদের “বৃষ্টি ভেজা গোধূলির রঙ-সাহিত্যাঙ্গন” কবি ভবনের দাবীর পক্ষে বা বিপক্ষে কোনো যুক্তি দাড় করাবে না।
কারণ, “বৃষ্টি ভেজা গোধূলির রঙ-সাহিত্যাঙ্গন” কবি সাহিত্যিকদের ভিতরে কাঁদা ছুড়াছুড়ি ও ব্যক্তিগত আক্রমণে বিশ্বাস করেনা।

সরকার যদি কবি ভবন দেন, আমাদের দ্বিমত পোষণ করার প্রশ্নই আসেনা। আমরা আমাদের দাবী গুলো নিয়ে এগিয়ে যেতে চাই।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় আগামী বছর (২০১৬) থেকে ষষ্ঠ শ্রেণির সব শিক্ষার্থীকে(৩০ লক্ষ) ট্যাবলেট দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে, যা ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে বিশেষ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছে সরকার। মাধ্যমিকে ‘এক শিক্ষার্থী এক ট্যাব’ নীতি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ওই শ্রেণিতে প্রতিবছরই ট্যাব দেওয়া হবে।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১২ সালের ২০ মে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম উদ্বোধন করেন। শিক্ষকদের অনেকেই এখন ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরি করছেন। যা দিয়ে ট্যাব পাওয়া শিক্ষার্থীরা বিশেষভাবে উপকৃত হবে।

রূপকল্প-২০২১ অনুযায়ী ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ গড়ার কর্মসূচির অংশ হিসাবে ‘ইনফো সরকার-২’ নামের একটি প্রকল্প চালু করা হয়েছে,যা সর্বক্ষেত্রে ডিজিটাল পদ্ধতি বাস্তবায়ন সম্পন্ন করবে।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে ডিজিটাল পদ্ধতির সুফল আমাদের দেখাতে শুরু করেছেন। আর তাই আমরা নতুন প্রজন্ম ডিজিটাল পরিকল্পনা হাতে নেওয়ার উদ্যোগ নিতে চাই।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার দৃঢ় অঙ্গিকার আমাদের নতুন প্রজন্মকে বাস্তব সম্মত চিন্তা করার খোরাক যুগিয়েছে।

আমরা ভাবতে শিখছি সেই দিন আর বেশী দূরে নয় যে, কবি ও সাহিত্যিক গণ তাদের সাহিত্যকর্ম প্রকাশের জন্য সংবাদপত্র ও প্রকাশনী সংস্থা গুলোর পিছনে ছুটাছুটি করা বন্ধ করবেন।
আমরা বিশ্বাস করি খুব অচিরেই সাহিত্য কর্ম আর বই হিসাবে থাকবেনা। সেগুলো ডিজিটাল রূপ সিডি ও মেমোরী কার্ডের মাধ্যমে প্রকাশ পাবে।

উল্লেখ্য সংবাদ পত্র গুলো ইতিমধ্যেই ডিজিটাল কার্যক্রম চালু করেছে। দেশের উন্মুক্ত চিন্তা চেতনার ধারক বাহক দেশের কবি সাহিত্যিক। আর তাই তাদের লেখার স্বাধীনতা ও তা প্রকাশের স্বাধীনতা সবার আগে জরুরী। যদি তা দিতে পারে একমাত্র ডিজিটাল মাধ্যম। সে কথা মাথায় রেখে আমরা কিছু দাবীর কথা তুলে ধরেছি।যা বাস্তবায়িত হলে কবি সাহিত্যিকদের কারো দ্বারে দ্বারে ঘুরতে হবেনা।
ডিজিটাল পদ্ধতিতে বাংলা সাহিত্যের অগ্রযাত্রা প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যে,নিম্নে আমরা আমাদের দাবী সমূহ তুলে ধরলামঃ

আমাদের দাবী সমূহঃ
১// বাংলা একাডেমির আমূল সংস্কার করে স্বায়ত্তশাসন, ডিজিটাল পদ্ধতি চালু, সারা দেশে শাখা খুলে সম্প্রসারণ (নতুন কোন ভবন নয়, সারাদেশের পাবলিক লাইব্রেরি গুলোতে শাখা হিসাবে ঘোষণা)
এবং দেশের বরেণ্য কবি সাহিত্যিক দ্বারা সেন্ডিকেট এর মাধ্যমে পরিচালনা করা।
২// অনলাইন সাহিত্য গ্রুপ গুলোকে নীতিমালার মাধ্যমে সংস্কারিত বাংলা একাডেমীর নিয়ন্ত্রণে এনে সমস্ত কবি সাহিত্যিক যেনো একই প্লাটফর্মে লিখতে পারে তার ব্যবস্থা নেওয়া।
৩// ইন্টারনেট সেলের মাধ্যমে সকল সাহিত্যকর্ম পর্যবেক্ষণ ও সাহিত্য চোরদেরকে আইনের আওতায় এনে শাস্তির বিধান করা।
৪// প্রতি মাসে তৃনমূল থেকে শুরু করে জাতীয় পর্যায়ে কবি সাহিত্যিকদের স্বীকৃতির ব্যবস্থা করা।

আমাদের বিশ্বাস মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্য,আমাদের দাবী গুলো সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।
তাই সবার প্রতি আমাদের অনুরোধ, আপনারা দাবী গুলো পর্যবেক্ষণ করে গ্রহণযোগ্য মনে করলে ঐক্যমত গড়ে তুলুন।

আমাদের আবেদন, দিন বদলের এই দিনে- ডিজিটাল সাহিত্য রচনায় সবাই শরীক হোন।

ধন্যবাদান্তে-
বৃষ্টি ভেজা গোধূলির রঙ-সাহিত্যাঙ্গন
এর পক্ষে
তনুলতা মাহমুদ
(সভাপতি)


এখানে খুজুন


আরও পড়ুন