আজ বুধবার, ২০ জুন ২০১৮ ইং, ০৬ আষাঢ় ১৪২৫ বঙ্গাব্দ



চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি যুদ্ধ। ৪৭৯১আসনের মধ্যে ৬৪৩ আসন বিভিন্ন কোটার জন্য নির্ধারিত

Published on 24 October 2016 | 3: 33 pm

 কোটার ফাঁদে পড়েছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগে মুক্তিযোদ্ধা কোটা, উপজাতি কোটা, ওয়ার্ড (শিক্ষক- কর্মকর্তা) কোটা, খেলোয়াড় কোটাসহ রয়েছে ৯ ধরনের কোটা পদ্ধতি। ৪৭৯১টি আসনের মধ্যে কোটায় রয়েছে ৬৪৩টি আসন। যা মোট আসনের ১৬ শতাংশ। আবার সাধারণ আসনের ক্ষেত্রে ৪০ নম্বরে উত্তীর্ণ হলেও কোটার ক্ষেত্রে তা ধরা হয়েছে ৩৫।
গত দু’বছরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাবশালী কয়েকজন শিক্ষকের ছেলে ও মেয়েকে ভর্তি করতে এ পাস নম্বর কমিয়ে ফেলা হয় বলে বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে। ফলে কোটার আসন ছাড়াও বাড়তি সুবিধা পাচ্ছে কোটায় ভর্তিচ্ছুরা। এদিকে ভর্তির ক্ষেত্রে বড় ধরনের বৈষম্যের ফলে হতাশা প্রকাশ করেছেন বিভিন্ন অনুষদে মেধা ও অপেক্ষমান তালিকায় থাকা ভর্তিচ্ছু মেধাবী শিক্ষার্থীরা
। বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ বিজ্ঞান অনুষদের মেধা তালিকায় উত্তীর্ণ হওয়া আনোয়ার হোসেন নামের একজন শিক্ষার্থী অভিযোগ করেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে এটি কেমন নিয়ম। একই ভর্তি পরীক্ষা, একই প্রশ্ন কিন্তু পাস নম্বরের ক্ষেত্রে কোটার জন্য ভিন্ন নিয়ম। আরেক শিক্ষার্থী রফিকুল ইসলাম জানান, বাণিজ্য অনুষদে ৭২.২৫ পেয়েও আমি অপেক্ষমানদের তালিকায় রয়েছি। অথচ সেখানে ৩৫ পেয়েই ভর্তি হচ্ছে কোটাধারীরা।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪৩টি বিভাগ ও ইন্সটিটিউটে রয়েছে মোট ৪৭৯১টি আসন। কোটায় আসন রয়েছে ৬৪৩টি।
এর মধ্যে কলা অনুষদের ১৫ বিভাগে ১১৩০টি সাধারণ আসন থাকলেও কোটায় আসন রয়েছে ১৬৭টি। এ অনুষদে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় ৮৮টি, উপজাতি কোটায় ২৪টি, অ- উপজাতি কোটায় ১৩টি ও ওয়ার্ড কোটায় রয়েছে ৪২টি আসন।
বিজ্ঞান অনুষদে ৫৪৪টি আসনের মধ্যে কোটায় রয়েছে ৭৪টি আসন।
বাণিজ্য অনুষদে ৬৫৮টি আসনের মধ্যে কোটায় রয়েছে ৭৮টি আসন।
সমাজবিজ্ঞান অনুষদে ৮৭২টি আসনের মধ্যে কোটায় রয়েছে ১১৪টি আসন।
জীববিজ্ঞান অনুষদে ৫৩৬টি আসনের মধ্যে কোটায় রয়েছে ৭৯টি আসন।
আইন অনুষদে ১১৯টি আসনের মধ্যে কোটায় রয়েছে ১৯টি আসন।
ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদে ১২৭টি আসনের মধ্যে কোটায় রয়েছে ১৭টি আসন।
ইন্সটিটিউট অব ফরেস্টিতে ৮৪টি আসনের মধ্যে কোটায় রয়েছে ১৪টি আসন।
ইন্সটিটিউট অব মেরিন সায়েন্সেসে ১০১টি আসনের মধ্যে কোটায় রয়েছে ১১টি আসন।
এসব কোটার আসন ছাড়াও খেলোয়াড় কোটা, শিল্পী কোটা, প্রতিবন্ধী কোটা, অনগ্রসর কোটায় রয়েছে ৮২টি আসন। এদিকে দেশের প্রথম সারির অন্য যে কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে সাধারণ আসন ও কোটার আসনের ক্ষেত্রে উত্তীর্ণ নম্বর একই হলেও চবিতে তা ভিন্ন। জানা গেছে, ঢাকা, রাজশাহী ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে সাধারণ ও কোটার আসনের ক্ষেত্রে পাস নম্বর একই। এ সবকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ৪০ শতাংশ নম্বরেই ভর্তিচ্ছুদের পাস ধরা হয়।
চবিতে একই নিয়ম থাকলেও ২০১১-১২ শিক্ষাবর্ষে এক সিন্ডিকেট সদস্যের মেয়েকে ভর্তি করাতে সিন্ডিকেটের বৈঠকে তা কমিয়ে ৩০ নির্ধারণ করা হয়। এরপর ২০১২-১৩ শিক্ষাবর্ষেও চলে একই নিয়ম। ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষে তা পরিবর্তন করে ৩৫ নির্ধারণ করা হয়। ২০১২-১৩ শিক্ষাবর্ষে খেলোয়াড় কোটায় ভর্তির ক্ষেত্রে ঘটে আজব ঘটনা।
এ সময়ে কোনো খেলোয়াড় কোটা না থাকলেও এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের খেলায় অংশগ্রহণ না করেও ফার্মেসি বিভাগে ভর্তি হয় ওই ইন্সটিটিউটের একজন শিক্ষকের মেয়ে। শুধু তাই নয় ২০১২-১৩ শিক্ষাবর্ষে খেলা না জানলেও ভর্তি করানো হয় ১২ জন শিক্ষার্থী। যাদের কারোরই কোনো ধরনের সনদ নেই বলে জানা গেছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিশ্ববিদ্যালয়ে একজন অধ্যাপক বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা, সিলেবাস সবার জন্য সমান, প্রতিযোগিতাও সমান। তাহলে প্রশাসন কোটার ক্ষেত্রে ভিন্ন নিয়ম কেন করেছে এ বিষয় বোধগম্য নয়। তিনি আরও বলেন, ২০১০-১১ শিক্ষাবর্ষ পর্যন্ত এসব নিয়ম ছিল না। কয়েকজন শিক্ষকদের স্বেচ্ছাচারিতার কারণে এসব বৈষম্যমূলক নিয়ম করা হয়েছে। এভাবে চলতে থাকলে বিশ্ববিদ্যালয় মেধাশূন্য হবে বলেও তিনি জানান।
বৈষম্যের কথা স্বীকার করে বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদের ডিন ও ডিনস কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. ইমরান হোসেন জানান, দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির ক্ষেত্রে কোটা পদ্ধতি রয়েছে। চবির এ নিয়মে বৈষম্য চোখে পড়ায় আমরা এবার ৩৫ নাম্বার নির্ধারণ করেছি। আগামী বছর তা ৪০ করা হবে বলেও তিনি জানান।


এখানে খুজুন


আরও পড়ুন