আজ শনিবার, ২৩ জুন ২০১৮ ইং, ০৯ আষাঢ় ১৪২৫ বঙ্গাব্দ



অপরাধী শনাক্তে কঠোর হচ্ছে বিটিআরসি

Published on 23 October 2016 | 7: 34 am

বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) চেয়ারম্যান শাজাহান মাহমুদ জানিয়েছেন, অপরাধীচক্রকে শনাক্ত করতে আরো কঠোর হচ্ছে বিটিআরসি। আাগামী এক মাসের মধ্যে এর সুফল পাবে জনগণ।

বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে সিম নিবন্ধনের পরও মোবাইল ফোনের মাধ্যমে নানা অপরাধ করছে প্রতারকচক্র। যে উদ্দেশ্যে বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে সিম নিবন্ধন করা হয়েছিল, সেই নিরাপত্তার পুরো সুফল এখনো পাননি গ্রাহকরা। তাদের অজান্তেই গোপন তথ্য ব্যবহার করে বা সিম নম্বরটি ক্লোন করে তা অপরাধমূলক কাজে ব্যবহার করছে অপরাধীরা।

বিটিআরসি বিষয়টি স্বীকার করে বলছে, প্রতারকচক্র বিটিআরসির নামে কল করে বা এসএমএস পাঠিয়ে  ব্যক্তিগত তথ্য, গোপন পিন, পাসওয়ার্ড হাতিয়ে নিচ্ছে। এ ধরনের সমস্যা হলে ২৮৭২ নম্বরে ফোন করার অনুরোধ জানিয়েছেন বিটিআরসির সচিব সরোয়ার আলম।

গত ১৩ অক্টেবার জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এবং তেল-গ্যাস-খনিজসম্পদক ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির সদস্য সচিব আনু মুহাম্মদকে ০১৬২৯৯৬৭৫৫১ নম্বর থেকে এসএমএস পাঠিয়ে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়।

গত ১৭ জুন টেকনোমিডিয়া লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রির (বিসিআই) পরিচালক শিল্পপতি যশোদা জীবন দেবনাথের কাছে ০১৮৭৪৩০৬৬২৪ ও ০১৯৫৫৯৮২৭৩৭ নম্বর থেকে চাঁদা দাবি করা হয়।

১১ জুন বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জের সেরেস্তাদারবাড়ি শ্রী গুরু আশ্রমের পুরোহিত শ্রীবাস চক্রবর্তীকে (৪৫) ০১৭৪৬-৮৪৪৫৪৯ নম্বর থেকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। ১৪ জুন নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার পূর্বাঞ্চল উপশহরের আলমপুরা এলাকার ঠিকাদার সোহেলকে ০১৭৪১৩৬৭৬৭৭ নম্বর থেকে কল করে এক সপ্তাহের মধ্যে মেরে ফেলার হুমকি দেয় দুর্বৃত্তরা।

ভিন্ন ব্যক্তির সিম ক্লোন করে চাঁদাবাজি, হত্যার হুমকিসহ নানা অপরাধ করছে প্রতারকচক্র। বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে সিম নিবন্ধনের পরও মোবাইল ফোনের মাধ্যমে এ ধরনের অপরাধ না কমায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

কারো কারো মোবাইলে গভীর রাতে কল করে গুপ্তধন দেওয়ার কথা বলে প্রতারণা করা হয়। জিনের বাদশা পরিচয় দিয়ে টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়। বিটিআরসি বলছে, সন্দেহজনক কল বা এসএমএসের উত্তর না দিয়ে দ্রুত ২৮৭২ নম্বরে যোগাযোগ করলে বিষয়টি ক্ষতিয়ে দেখবে কর্তৃপক্ষ এবং দ্রুত তাকে শনাক্ত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

কল করা সম্ভব না হলে btrc@btrc.gov.bd I consumer.inquiries@btrc.eov.bd ঠিকানায় ই-মেইলের মাধ্যমে অভিযোগ জানানোর অনুরোধ জানায় বিটিআরসি। বিটিআরসি বলছে, সম্প্রতি কতিপয় প্রতারকচক্র বিটিআরসির নামে কল করে ও এসএমএস দিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করে সিম রেজিস্ট্রেশন তথ্য, অর্থ এবং ব্যক্তিগত তথ্য হাতিয়ে নিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

এসব ক্ষেত্রে বিভিন্ন মোবাইল অপারেটর নম্বর এবং বিটিআরসির ল্যান্ড লাইন (+৮৮০২৯৬১১১১১)/ মোবাইল নম্বর (+৮৮০১৫৫৫১২১১২১) কপি করে ব্যবহার করছে এবং বিটিআরসির নামে কল করছে।

এ ছাড়া, Bangladesh info, BTRC info প্রভৃতি নামে এসএমএস পাঠিয়ে পিন নম্বর বা অর্থ চাওয়া হচ্ছে। বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে সিম নিবন্ধনের জটিলতা দূরীকরণের নামে বিটিআরসি থেকে কল করে বা এসএমএস পাঠিয়ে গ্রাহকের ব্যক্তিগত তথ্য বা গোপন পিন বা পাস-ওয়ার্ড চাওয়ার কোনো নিয়ম নেই।

বিটিআরসির চেয়ারম্যান শাজাহান মাহমুদ বলেন, ‘মোবাইলে যারা হুমকি দিচ্ছে, তাদের ধরতে দুটি বিষয়কে জোর দিচ্ছি- একটি হলো টেকনিক্যাল বিষয়, অন্যটি হলো সিকিউরিটির বিষয়। টেকনিক্যাল ক্ষেত্রে আমরা প্রথমে নিবন্ধিত আইডিটি কার নামে আছে, কোথা থেকে কল করা হয়েছে সেটি দেখা হচ্ছে। পরে আইডিটা শনাক্ত করে পুরো ডাটা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকার বাহিনীকে দেওয়া হচ্ছে।’

ডাটা কালেকশনের মাধ্যমে অপরাধী শনাক্ত করতে একটু সময় বেশি লেগে যায়। তাই দ্রুত অপরাধীদের শনাক্ত করতে নতুন প্রক্রিয়া চালু করা হবে। আগামী এক মাসের মধ্যে নতুন পদ্ধতি চালু করা হতে পারে বলে জানান শাজাহান মাহমুদ।

 


এখানে খুজুন


আরও পড়ুন