আজ সোমবার, ১৮ জুন ২০১৮ ইং, ০৪ আষাঢ় ১৪২৫ বঙ্গাব্দ



র‌্যাগিংয়ের নামে ভর্তিচ্ছুদের শারীরিক নির্যাতন : চবিতে র‌্যাগিং ঠেকাতে বিশেষ ব্যবস্থা

Published on 23 October 2016 | 6: 10 am

মহিউদ্দিন টিপু : চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে :: পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে প্রথম বর্ষ ভর্তি পরীক্ষা ইতিমধ্যে শুরু হয়ে গেছে। আগামী ১২ নভেম্বর পর্যন্ত বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে এসব পরীক্ষা চলবে। ভর্তি পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে ভর্তিচ্ছুরা এখন র‌্যাগিং আতঙ্কে ভুগছেন। অধিকাংশ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলোতে ও ক্যাম্পাস পার্শবর্তী ছাত্রাবাসগুলোতে র‌্যাগিংয়ের নামে ভর্তিচ্ছুদের শারীরিক নির্যাতন করা হয়।

অভিভাবকরা বলছেন, নির্বিঘ্নে ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত করতে ক্যাম্পাসগুলোতে ভর্তিচ্ছুদের জন্য নিরাপত্তার অভাব রয়েছে। কোনো কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন করে র‌্যাগিং নিষিদ্ধ করা হলেও থেমে নেই নির্যাতন। এ নির্যাতন বন্ধে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রক্টরিয়াল বডির তদারকির অভাব রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবদুল মান্নান এ প্রসঙ্গে সোনালী নিউজ টুয়েন্টি ফোর ডটকমকে বলেন, ব্রিটিশ কালচারে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে র‌্যাগিং প্রথা চালু ছিল। এটি ক্রমে ক্রমে আমাদের সংস্কৃতিতে ঢুকে পড়েছে। অতীতে আমাদের দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এটি ব্যাপকভাবে হলেও এখন অনেকটাই কমে গেছে। নেই বললেই চলে। আমি মনে করি পরিচয় পর্বের নামে সিনিয়র কর্তৃক জুনিয়রদের র‌্যাগ দেওয়া অত্যন্ত অবমাননাকর ও গর্হিত কাজ। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর নিজস্ব আইনেই এ অপরাধের শাস্তি হওয়া দরকার। এ ছাড়া ভর্তি পরীক্ষায় ভর্তিচ্ছুদের নিরাপত্তা জোরদার করতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও প্রক্টরিয়াল বডির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা দরকার। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এর বিরুদ্ধে অবস্থান নিলে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন তাদের পাশে থাকবে।

উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন নিয়ে গত শিক্ষাবর্ষে কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা দিতে যান মোমিনুর রহমান বিপ্লব। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক অতিক্রম করতেই পথ আগলে দাঁড়ায় ক্ষমতাসীন দলের ছাত্র সংগঠনের কয়েক কর্মী। তারা বিপ্লবকে প্যান্ট খুলে লুঙ্গি পরে নাচতে বাধ্য করে। একপর্যায়ে আন্ডারওয়্যার পরিয়ে এক পায়ে দাঁড় করিয়ে রাখে। উচ্ছৃঙ্খল যুবকদের হাত থেকে রক্ষা পেয়ে ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ না করেই ক্যাম্পাস ত্যাগ করে সে।

শুধু ভর্তি পরীক্ষার সময়ই নয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের নবীন শিক্ষার্থীদেরও শারীরিক ও মানসিকভাবে হেনস্তা করে সিনিয়র নামধারী হীন ও মানসিক বিকারগ্রস্তরা। বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের আতঙ্কে পরিণত হয়েছে এই র‌্যাগিং। দিন দিন একদিকে যেমন বাড়ছে এর ভয়াবহতা তেমনি শিক্ষার্থীদেরও আতঙ্ক বেড়েই চলছে।

এই দিকে এই অপ্রীতিকর পরিস্থতি এড়াতে রাতবর চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যলয় আবাসিক হল এবং আশেপাশের মেছ গুলোতে কঠোর নজরদারী করেছে বিশ্ববিদ্যলয় প্রক্টরিয়াল বডি এবং আইন শৃঙ্খলা বাহিনী। এই লিখা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যলয় এলাকায় কোন অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।


এখানে খুজুন


আরও পড়ুন