আজ বুধবার, ২০ জুন ২০১৮ ইং, ০৬ আষাঢ় ১৪২৫ বঙ্গাব্দ



অনেক চ্যালেঞ্জ প্রত্যাশাও বিপুল

Published on 22 October 2016 | 4: 00 am

শেখ হাসিনার নেতৃত্বে উন্নয়নের মহাসড়কে এগিয়ে চলেছি দুর্বার, এখন সময় বাংলাদেশের মাথা উঁচু করে দাঁড়াবার।’ এই প্রতিপাদ্য নিয়ে আজ শনিবার সকালে ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে শুরু হচ্ছে আওয়ামী লীগের জাঁকজমকপূর্ণ ২০তম ত্রিবার্ষিক জাতীয় সম্মেলন। দেশের প্রাচীনতম রাজনৈতিক দলের এই সম্মেলন ঘিরে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে সৃষ্টি হয়েছে বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনা। শুধু দলীয় নেতাকর্মীই নয়, সমগ্র দেশের কোটি কোটি মানুষের দৃষ্টি এখন ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে।

আগামী দিনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা ও জনমানুষের বিশাল প্রত্যাশা পূরণে সক্ষম নবীন-প্রবীণ সমন্বয়ে দলের নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের গুরুদায়িত্ব অর্পিত এই সম্মেলনের ওপর। নিরঙ্কুশ আস্থার প্রতীক বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতেই থাকবে আওয়ামী

লীগের হাল। সাধারণ সম্পাদকসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পদে কারা থাকবেন এবং কারা আসবেন, তা নিয়েও সকলের মধ্যে অশেষ আগ্রহ।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সকাল ১০টায় বর্ণাঢ্য এই সম্মেলন উদ্বোধন করবেন। তিনি এই সম্মেলনের মধ্য দিয়ে দলকে নতুন করে ঢেলে সাজানোর পরিকল্পনা নিয়েছেন। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে সম্মেলনে তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন গতি আনার উদ্যোগও নেবে আওয়ামী লীগ। রয়েছে রূপকল্প-২০২১ বাস্তবায়নের লক্ষ্য। সম্মেলনের মাধ্যমে সংশোধিত দলীয় ঘোষণাপত্রে উন্নয়ন ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার দশটি অঙ্গীকার তুলে ধরে এগুলোর বাস্তবায়নকেও দলের জন্য আগামী দিনের চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এই দশ চ্যালেঞ্জ হচ্ছে_ দারিদ্র্য বিমোচন, খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা বিধান, স্বাস্থ্য ও শিক্ষার উন্নয়ন, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ ও সাম্প্রদায়িকতার অবসান, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের অগ্রগতির ধারা অব্যাহত রাখা, তথ্যপ্রযুক্তি ও আইসিটি খাতের সম্প্রসারণ, বৃহৎ প্রকল্প বাস্তবায়ন, ব্লু ইকোনমি-সমুদ্রসম্পদ ভিত্তিক উন্নয়ন, বেসরকারি খাত ও বাজার ব্যবস্থার সম্প্রসারণ, দুর্নীতির বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং গণতন্ত্র, কার্যকর সংসদ ও গণমুখী দক্ষ জনপ্রশাসন গড়ে তোলা। এমনসব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার প্রত্যয় নেওয়া হবে জাতীয় সম্মেলনে। এই ঘোষণাপত্রের আলোকে আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহার কী হবে, তারও একটি সম্যক ধারণা পাওয়া যাবে এই সম্মেলনে। রোববার কাউন্সিল অধিবেশনে দলীয় গঠনতন্ত্রের সংশোধনী আনা হবে। আগামী সাধারণ নির্বাচনের ইশতেহার নিয়ে আলোচনা হবে। দলের দুর্বলতা নিয়ে কথা হবে। এখানে সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার থাকবে না।

আওয়ামী লীগের নির্বাচনী প্রতীক নৌকার আদলে তৈরি করা পশ্চিমমুখী মঞ্চটি। জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে দলের সভাপতি শেখ হাসিনা সম্মেলনের উদ্বোধন করবেন। জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন করবেন ৮০ জন শিল্পী। সংগঠনের পতাকা উত্তোলন করবেন দলের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। দেড়শ’ ফুট লম্বা ও ৪৮ ফুট চওড়া তিন স্তরবিশিষ্ট মঞ্চের নিচে দুই পাশে দাঁড়িয়ে দলীয় পতাকা উত্তোলন করবেন ৭৪টি সাংগঠনিক জেলার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক।

অভ্যর্থনা উপপরিষদের আহ্বায়ক মোহাম্মদ নাসিমের পর আমন্ত্রিত দেশি-বিদেশি বিশিষ্ট অতিথিবৃন্দ শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখবেন।

সম্মেলন মঞ্চের পেছনে ৩৫ ফুট উচ্চতার এলইডি পর্দায় আওয়ামী লীগের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও অর্জনের চিত্র ফুটিয়ে তোলার পাশাপাশি সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড তুলে ধরা হবে। প্রদর্শন করা হবে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, জাতীয় চার নেতা সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দীন আহমদ, ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী, এএইচএম কামারুজ্জামান, আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী ও সাধারণ সম্পাদক শামসুল হকসহ জাতীয় নেতাদের ছবি। মঞ্চের সামনের দিকের উচ্চতা আট ফুট, মাঝখানের উচ্চতা নয় ফুট এবং পেছনের দিকের উচ্চতা ১০ ফুট। কমপক্ষে একশ’জন নেতার বসার উপযোগী এই মঞ্চে থাকবেন দলের সভাপতিমণ্ডলী ও সম্পাদকমণ্ডলীসহ কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্যরা। সামনের প্যান্ডেলে বসবেন কাউন্সিলর, ডেলিগেটসহ অতিথিরা। ৪০ জন শিল্পী একসঙ্গে ‘এখন সময় বাংলাদেশের, এখন সময় আমাদের’ সম্মেলন সঙ্গীত পরিবেশন করবেন। নৃত্য পরিবেশন করবেন ৯০ জন নৃত্যশিল্পী।

আওয়ামী লীগের ৭৪টি সাংগঠনিক জেলার ছয় হাজার ৫৭০ জন কাউন্সিলর সম্মেলনে অংশ নেবেন। সমসংখ্যক ডেলিগেটও সম্মেলনে উপস্থিত থাকবেন। কবি, সাহিত্যিক, সাংবাদিক, শিক্ষক, চিকিৎসক, প্রকৌশলীসহ বিভিন্ন পেশার প্রতিনিধিরা ভিআইপি মর্যাদায় সম্মেলনে অংশ নেবেন। এ ছাড়া কমপক্ষে ২০ হাজার বিশেষ আমন্ত্রিত অতিথি সম্মেলনে আসবেন। সব মিলিয়ে প্রায় ৫০ হাজার মানুষ সম্মেলনে উপস্থিত থাকবেন।

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এবং মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, পেশাজীবী সংগঠনের শীর্ষ নেতা, কূটনীতিক, বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবী ও সাংবাদিকদের উদ্বোধনী অধিবেশনে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তবে বিএনপি নেতারা এই সম্মেলনে যাবেন কিনা, গতকাল গভীর রাত পর্যন্ত সিদ্ধান্তে আসতে পারেননি। জামায়াতে ইসলামীর কাউকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। সম্মেলনে ১৪টি দেশের ভ্রাতৃপ্রতিম রাজনৈতিক দলগুলোকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। এর মধ্যে ইংল্যান্ড, রাশিয়া, ভারত, কানাডা, চীন, অস্ট্রেলিয়া, অস্ট্রিয়া, ইতালি, নেপাল, শ্রীলংকা এবং ভুটান_ এই ১১টি দেশের ২৬টি দলের প্রতিনিধিরা সম্মেলনে যোগদানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। পাকিস্তানের কাউকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি।

এ সম্মেলনে ব্যয় ধরা হয়েছে দুই কোটি ৬৫ লাখ টাকা। মূলত সম্মেলন মঞ্চ ও প্যান্ডেল নির্মাণ, ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন ভাড়া, তোরণ নির্মাণ, সড়ক ও সড়কদ্বীপে আলোকসজ্জা, দু’দিনে তিন বেলা আপ্যায়ন, পোস্টার-ফেস্টুনসহ বিভিন্ন প্রকাশনার জন্য এ অর্থ ব্যয় করা হয়েছে। দলের নিজস্ব তহবিল থেকে এই অর্থের জোগান দেওয়া হয়েছে।

নতুন নেতা নির্বাচন :আগামীকাল রোববার সম্মেলনের কাউন্সিল অধিবেশনে নতুন নেতা নির্বাচন করা হবে। প্রায় সাত দশকের ঐতিহ্যবাহী আওয়ামী লীগের সভাপতি পদে এবারও শেখ হাসিনা স্বপদে বহাল থাকবেন। তিনি অবসরের ইচ্ছা প্রকাশ করলেও দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা এটা মানতে নারাজ। এ কারণে এবারও তাকে অষ্টমবারের মতো দলীয় প্রধানের দায়িত্ব নিতে হবে। তিনি এর আগে ১৯৮১, ১৯৮৭, ১৯৯২, ১৯৯৭, ২০০২, ২০০৯ এবং ২০১২ সালে সভাপতি নির্বাচিত হন।

দলের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পদ সাধারণ সম্পাদক নিয়ে ধোঁয়াশা কাটেনি। বর্তমান সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম থাকবেন, নাকি ওবায়দুল কাদের নতুন সাধারণ সম্পাদক হবেন তা এখনও নিশ্চিত নয়। তবে সাধারণ সম্পাদক পরিবর্তন হলে সে ক্ষেত্রে এখন সবচেয়ে আলোচিত নাম ওবায়দুল কাদের। শেষ পর্যন্ত কি চমক আসবে, না পুরনো সাধারণ সম্পাদক বহাল থাকবেন, তা জানতে আরও অপেক্ষা করতে হবে। গত দু’দিনে সৈয়দ আশরাফ ও ওবায়দুল কাদের গণভবনে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। পরে বেশ কয়েকজন সিনিয়র মন্ত্রী এ ব্যাপারে শেখ হাসিনার সঙ্গে কথা বলতে গণভবনে যান।

এবারকার সম্মেলনে গঠনতন্ত্রে সংশোধনী এনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য সংখ্যা ৭৩ থেকে বাড়িয়ে ৮১ করার সম্ভাবনা রয়েছে। এর মধ্যে সভাপতিমণ্ডলীর চারটি, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের একটি, সাংগঠনিক সম্পাদকের একটি ও কার্যনির্বাহী সংসদ সদস্যের দুটি পদ বাড়ানোর প্রস্তাব রয়েছে। এ কারণে নতুন কমিটিতে প্রবীণ নেতৃত্বের অভিজ্ঞতার সঙ্গে কর্মোদ্যোগী ও মেধাবী তারুণ্যের সম্মিলন ঘটিয়ে নতুন উদ্যম তৈরির সম্ভাবনা রয়েছে। ২০০৯ সালের ২৪ জুলাইয়ের সম্মেলনে কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদে গণহারে রদবদলের ঘটনা ঘটলেও সর্বশেষ ২০১২ সালের সম্মেলনে তা হয়নি। এবার বেশকিছু ক্ষেত্রে রদবদলের খবর পাওয়া যাচ্ছে। শীর্ষ নেতারা বলছেন, কিছু নতুন মুখ আসবে। কয়েকজনের পদ বদল হতে পারে। কেউ কেউ পদোন্নতি পেতে পারেন।

বঙ্গবন্ধুর ছোট মেয়ে শেখ রেহানা, বঙ্গবন্ধুর দৌহিত্র সজীব ওয়াজেদ জয় এবং শেখ হাসিনার কন্যা সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের স্বামী খন্দকার মাশরুর হোসেন মিতু এবারই প্রথম আওয়ামী লীগের কাউন্সিলর হয়েছেন। বঙ্গবন্ধু পরিবারের সদস্যরা কাউন্সিলর হলেও নেত্বত্বে আসছেন না বলে জানা গেছে। তবে মঞ্চে উপস্থিত থাকবেন সজীব ওয়াজেদ জয়।

ডিজিটালের ছোঁয়া :এদিকে আওয়ামী লীগের এই সম্মেলনে ডিজিটালের ছোঁয়া লেগেছে। এবার সম্মেলন কার্যক্রম ফেসবুকের মাধ্যমে লাইভ প্রচার করা হবে। দলের নিজস্ব ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে সম্মেলন সরাসরি দেখার লিংক হচ্ছে যঃঃঢ়ং://িি.িভধপবনড়ড়শ.পড়স/বাবহঃং/১৯০৫৯১২৫৪৬৮৩৪৩২/ নেতাকর্মীদের এভাবে অনলাইনে যুক্ত করা ও ফেসবুকে লাইভ সম্প্রচারের দায়িত্ব পালন করছে আওয়ামী লীগের গবেষণা উইং সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশন (সিআরআই)। এ ছাড়া দলের ফেসবুক পেজে সম্মেলন উপলক্ষে আলাদা ইভেন্ট খোলা হয়েছে। আর সম্মেলনকে ঘিরে দলের নেতাকর্মীরা তাদের ফেসবুকে ছবিতে বিশেষ ব্যাজ সংযুক্ত করছেন।

ইতিহাসের বর্ণাঢ্য সম্মেলন :সম্মেলনকে সফল করতে গঠিত ১১টি উপপরিষদসহ দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা কয়েক মাস ধরেই কঠোর পরিশ্রম করে সম্মেলনের প্রস্তুতি শেষ করেছেন। সম্মেলনকে ঘিরে রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক, সড়কদ্বীপ, ফোয়ারা ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় মনোরম আলোকসজ্জা করা হয়েছে। চোখধাঁধানো আলোকসজ্জার ব্যবস্থাসহ নানা রঙের ব্যানার-ফেস্টুন, পোস্টার, বেলুনসহ অপরূপ সাজে সাজানো হয়েছে ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানকেও। নজরকাড়া তোরণ ও সাজসজ্জায় নতুন রূপ নিয়েছে দেশের সবক’টি জেলা-উপজেলা। ঢাকার প্রবেশমুখগুলোতে বিভিন্ন ডিজাইনের তোরণ নির্মাণ করা হয়েছে। সব মিলিয়ে এ সম্মেলন আওয়ামী লীগের ইতিহাসের সবচেয়ে বর্ণাঢ্য সম্মেলনে পরিণত হয়েছে।

এদিকে সারাদেশ থেকে আগত কয়েক হাজার তৃণমূল নেতাকর্মী ও দলীয় সমর্থকরা রাজধানীতে এসেছেন। ছোট-বড়, মাঝারি, নামিদামি হোটেল ও রেস্টহাউসে ঠাঁই নেই। অনেকেই আত্মীয়-স্বজনের বাসায় উঠেছেন। তাদের অনেকেই গতকাল সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বিশাল কর্মযজ্ঞ প্রত্যক্ষ করেন। অনেকেই গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে এই মর্মে আশা প্রকাশ করেন যে, দলের জাতীয় সম্মেলন তৃণমূলকে উজ্জীবিত করবে।

কঠোর নিরাপত্তা :সম্মেলনকে সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করেছে। সম্মেলন এলাকায় থাকবে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে নজরদারির জন্য থাকবে ১৪০টি সিসি ক্যামেরা। গতকাল বিশাল ডগস্কোয়াড নিয়ে পুরো সম্মেলন স্থলে তল্লাশি চালান তারা।

সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা :এই সম্মেলন ঘিরে সাধারণ মানুষের মধ্যেও বিপুল প্রত্যাশা রয়েছে। টানা দুই মেয়াদে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে দেশ ও জাতির কল্যাণে ব্যাপক উন্নয়ন কর্মকাণ্ড দেশবাসীর মধ্যে স্বস্তির পরশ ছুঁয়েছে। দলের আগামী দিনের নেতৃত্ব সরকারের সহযোগী হয়ে এই কর্মযজ্ঞকে এগিয়ে নিতে সক্ষম হবেন_ এমন প্রত্যাশা সাধারণ মানুষের। পাশাপাশি হত্যা-খুন, সন্ত্রাস ও বিচারবহির্ভূত হত্যাসহ আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির কিছুটা নাজুক অবস্থা এবং মাঝে মধ্যে সরকার ও দলসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠার প্রেক্ষাপটে দলীয় নেতৃত্ব এগুলোর অবসান ঘটিয়ে দেশে সত্যিকারের সুশাসন প্রতিষ্ঠায় মনোযোগী হবেন_ দেশবাসীর এটাই প্রত্যাশা।

বিশিষ্ট সাংবাদিক-কলামিস্ট সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেন, বড় দলের সম্মেলনে পদপ্রত্যাশী অনেক। অথচ কোনো নেতা যদি জনগণের কাজ করতে চান, পদে না গিয়েও তা করতে পারেন। জনগণ তাকে ঠিকই মূল্যায়ন করবে। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ একটি ঐতিহ্যবাহী দল। তার সামনে অনেক চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে দু’বছর পর নির্বাচন। দলের নতুন নেতৃত্বকে অংশগ্রহণমূলক ও জনমতের প্রতিফলন ঘটে_ এমন নির্বাচন নিশ্চিত করতে হবে। এ ছাড়া এমন দক্ষ ও সৎ নেতাদেরই বেছে নিতে হবে, যারা দল ও দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে পারবেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. ফরিদ উদ্দিন আহমেদের মতে, জনগণ ও দেশের জন্য যারা কাজ করবেন_ এমন দক্ষ ও ত্যাগী ব্যক্তিরাই সম্মেলনের মাধ্যমে নেতৃত্বে আসবেন। নতুন নেতৃত্ব বেছে নেওয়ার বেলায় গতিশীলতা থাকবে। নতুন নেতৃত্ব গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নেওয়ার মাধ্যমে দল ও দেশকে এগিয়ে নেবেন_ এমনটিই আমাদের প্রত্যাশা। এ ছাড়া সম্মেলনের মাধ্যমে দলটি দেশ ও জনগণের স্বার্থে নতুন ধরনের কর্মসূচি হাতে নেবে_ এমনটিও আশা করছি।

১৯৫২ সালের মহান ভাষা আন্দোলন, ১৯৫৪ সালের নির্বাচন, ১৯৬২ সালের শিক্ষা আন্দোলন, ১৯৬৬ সালের ঐতিহাসিক ছয় দফা, ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান, ১৯৭০ সালের নির্বাচন এবং মহান মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানের মাধ্যমে আজকের অবস্থানে আসা আওয়ামী লীগের সম্মেলন হয়েছে ১৯৫৩, ১৯৫৫, ১৯৫৭, ১৯৬৪, ১৯৬৬, ১৯৬৮, ১৯৭০, ১৯৭২, ১৯৭৪, ১৯৭৬, ১৯৭৭, ১৯৭৮, ১৯৮১, ১৯৮৭, ১৯৯২, ১৯৯৭, ২০০২, ২০০৯ ও ২০১২ সালে।

১৯৪৯ সালের ২৩ জুন পুরান ঢাকার কেএম দাস লেনের রোজ গার্ডেনে মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীকে সভাপতি, আতাউর রহমান খান, সাখাওয়াত হোসেন, আলী আহমেদ, আলী আমজাদ খান অ্যাডভোকেট, আবদুস সালাম খান অ্যাডভোকেটকে সহসভাপতি, শামসুল হককে সাধারণ সম্পাদক, কারাবন্দি শেখ মুজিবুর রহমানকে যুগ্ম সম্পাদক ও ইয়ার মোহাম্মদ খানকে কোষাধ্যক্ষ করে আওয়ামী লীগের যাত্রা শুরু হয়েছিল।

আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান চারবার, মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী চারবার, মওলানা আবদুর রশীদ তর্কবাগীশ দুইবার, এএইচএম কামারুজ্জামান, মহিউদ্দিন আহমেদ, সৈয়দা জোহরা তাজউদ্দীন, আবদুল মালেক উকিল ও সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী একবার করে দায়িত্ব পালন করেন। বঙ্গবন্ধু ১৯৭৫ সালে বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগের (বাকশাল) চেয়ারম্যান ছিলেন। জিল্লুর রহমান, শেখ ফজলুল হক মনি ও আবদুর রাজ্জাক ছিলেন সেক্রেটারি জেনারেল।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে বঙ্গবন্ধু পাঁচবার, জিল্লুর রহমান চারবার, তাজউদ্দীন আহমদ ও সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী তিনবার, সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম ও আবদুর রাজ্জাক দুইবার এবং শামসুল হক ও আবদুল জলিল একবার করে দায়িত্ব পালন করেন।


এখানে খুজুন


আরও পড়ুন