আজ সোমবার, ১৮ জুন ২০১৮ ইং, ০৪ আষাঢ় ১৪২৫ বঙ্গাব্দ



সেবার সাথে সুন্দরের সংযোগ ।। চসিকের অভিযাত্রায় সবার সহযোগিতা কামনা ।। ডা. হাসেম চত্বরে ফোয়ারা উদ্বোধন

Published on 21 October 2016 | 3: 50 am

প্রাচ্যের রানী চট্টগ্রামের হৃত গৌরব পুনরুদ্ধার করতে হলে নগরবাসীকেই এগিয়ে আসতে হবে। সরকার কিংবা সিটি কর্পোরেশনের দিকে তাকিয়ে থাকলে হবে না। চট্টগ্রামকে একটি পরিচ্ছন্ন, সবুজ নগরীতে পরিণত করার লক্ষ্যে চট্টগ্রাম সিটি মেয়র আজম নাছির উদ্দীন ‘ক্লিন সিটি, গ্রীন সিটি’র ডাক দিয়েছেন। এটি তার একার স্লোগান নয়, এটি নগরবাসীর স্লোগান। এই স্লোগানকে শুধু কথায় আটকে না রেখে কাজে পরিণত করতে হলে এগিয়ে আসতে হবে, আমাকে আপনাকে আমাদের। জামাল খান ওয়ার্ড কাউন্সিলর শৈবাল দাশ সুমন তাই করেছেন। কখন সিটি কর্পোরেশন থেকে অর্থ বরাদ্দ পাওয়া যাবে, সেই আশায় বসে না থেকে এলাকার মানুষের প্রতি , চট্টগ্রামবাসীর প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে এ ধরনের সৃষ্টিশীল কাজের উদ্যোগ নিয়েছেন। এ উদ্যোগ প্রশংসার দাবি রাখে। তাঁর মতো আমরা সকলেই যদি যার যার অবস্থান থেকে এগিয়ে আসি, তবে সেদিন বেশি দূরে নয়, যেদিন এই চট্টগ্রাম নান্দনিকতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্তে পরিণত হবে। গতকাল সন্ধ্যায় নগরীর জামাল খানে ডা. এম হাসেম চত্বরে নান্দনিক ফোয়ারার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অতিথিবৃন্দ এ অভিমত ব্যক্ত করেন।

সবুজে সাজবে নগরী, নান্দনিকতায় সমৃদ্ধ হবে জামাল খান’ এ স্লোগানকে পাথেয় করে ২১ নং জামাল খান ওয়ার্ড কাউন্সিলর শৈবাল দাশ সুমনের আন্তরিক প্রচেষ্টায় একটু একটু করে বদলে যাচ্ছে জামাল খান। তার প্রথম প্রয়াস ডা. এম হাসেম চত্বরে গতকাল উদ্বোধন হলো দৃষ্টি নন্দন ফোয়ারার। ২১ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর শৈবাল দাশ সুমনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন। বিশেষ অতিথি ছিলেন সাংসদ জিয়াউদ্দিন বাবলু ও দৈনিক আজাদী সম্পাদক এম এ মালেক। অনুভূতি ব্যক্ত করেন ডা. এম হাসেমের পুত্র সাবেক কাউন্সিলর গোলাম মোস্তফা কাঞ্চন।

সিটি মেয়র আ জ ম নাছির বলেন, চট্টগ্রামের প্রতি আমাদের প্রত্যেকের দায়বদ্ধতা আছে। এই দায়বদ্ধতা থেকেই চট্টগ্রামকে ক্লিন সিটি গ্রীন সিটি করতে সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে আমরা ধাপে ধাপে এগিয়ে যাচ্ছি। আজ ডা. এম হাসেম চত্বরে ফোয়ারাটির পেছনে কাউন্সিলর সুমনের ঐকান্তিক ইচ্ছা, দায়বদ্ধতা অবদান সবচেয়ে বেশি। এভাবে আমরা ৪১ টি ওয়ার্ডকেই পরিচ্ছন্ন ও সবুজে সমৃদ্ধ করে গড়ে তুলতে চাই। আমাদের লক্ষ্য চট্টগ্রাম যেন পরিচ্ছন্ন সুন্দর সবুজ নগরী হিসেবে গড়ে ওঠে। এটা শুধু আমরা চাইলে হবে না, নগরবাসীকেও এটি চাইতে হবে। আমার বিশ্বাস সকলের সম্মিলিত চেষ্টায় আমরা তা পারবো।

সাংসদ জিয়াউদ্দিন বাবুল বলেন, এখানে আমরা যারা আছি, তাদের প্রত্যেকেই এ চট্টগ্রামকে প্রাণের শহর , নিজের শহর ভাবি। আমাদের চাওয়া পাওয়ার কিছু নাই। তাই এই শহরকে সুন্দর পরিচ্ছন্ন করে গড়ে তুলতে যা কিছু সম্ভব আমরা করতে চাই। কারণ এই চট্টগ্রামের প্রতি আমাদের দায়বদ্ধতা আছে। ডা. এম হাসেম চত্বরে ফোয়ারা নির্মাণে নিজের সম্পৃক্ততা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমি অর্থ দিয়েছি, এটা বড় কথা নয়, এ ধরনের একটি নান্দনিক কাজে আমি যে জড়িত থাকতে পেরেছি এটাই আমার কাছে অনেক ভালো লাগার বিষয়।

দৈনিক আজাদী সম্পাদক এম এ মালেক বলেন, জামাল খান চত্বরটি এমন একজন ব্যক্তির নামে নামকরণ করা হয়েছে, যিনি এই অঞ্চলের প্রথম মুসলিম চিকিৎসক। তার সাথে আমার আত্মীয়তার সম্পর্ক আছে। আমার জন্য ভালো লাগার বিষয়টি হলো ডা. এম হাসেম চত্বরের কাছাকাছি আন্দরকিল্লা চত্বরটির নামকরণ করা হয়েছে আমার বাবা ইঞ্জিনিয়ার আবদুল খালেকের নামে, যিনি ছিলেন এই অঞ্চলের প্রথম মুসলিম ইঞ্জিনিয়ার। এ কারণে অবশ্যই চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনকে ধন্যবাদ জানাই। পাশাপাশি ধন্যবাদ জানাই কাউন্সিলর সুমনকে, যতটুকু জেনেছি, তিনি সংকল্প নিয়েছেন যে, তাঁর নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণের আগে তিনি তাঁর চেয়ারে বসবেন না। এ ধরনের সৃজনশীল , উদ্যোগী জনপ্রতিনিধি পারে তাঁর এলাকার মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করতে। যেকোন কাজ করতে উদ্যোগী হতে হয় নিজেকেই। নগরীর উন্নয়ন ও আধুনিকতার জন্যও জনগণকেই এগিয়ে আসতে হবে। সিটি মেয়র যে ক্লিন সিটি গ্রিন সিটির কথা বলেছেন, এটা শুধু তিনি চাইলে হবে না। আমরাও চাইতে হবে। সকলের সমন্বয়ে চট্টগ্রাম হয়ে উঠবে আমাদের সেই কাঙিক্ষত চট্টগ্রাম।

অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে ডা. এম হাসেমের পুত্র সাবেক কাউন্সিলর গোলাম মোচ্চফা কাঞ্চন আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, ইতিহাস বলে, চট্টগ্রামকে আলোকিত করতে বদরশাহ পীর প্রথম চেরাগ জ্বালিয়েছিলেন এ চেরাগী মোড়ে। আজ সিটি মেয়র আ জ ম নাছির, সাংসদ বাবলু, আজাদী সম্পাদক এম এ মালেক এবং কাউন্সিলর সুমনের হাত ধরে এই এলাকা আবারো আলোকিত হলো। এ জন্য আমি পরিবারের পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা জানাই।

কাউন্সিলর সুমন বলেন, আমি এলাকাবাসীর কাছে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম জামাল খানকে আমি নান্দনিক রূপ দেবো। একটু একটু করে তা করছি। আমি এখনো পর্যন্ত আমার জন্য নির্ধারিত ওয়ার্ড কাউন্সিলরের চেয়ারে বসিনি। আমার প্রতিশ্রুতি পূরণ হবে ২০১৭ সালে। তারপরই আমি চেয়ারে বসবো। মেয়র আ জ ম নাছির, সাংসদ জিয়াউদ্দিন বাবলু , দৈনিক আজাদী সম্পাদক এম এ মালেকের মতো মানুষ আমাকে প্রতিনিয়ত উৎসাহ দিয়ে চলেছেন। আর আমার এলাকাবাসীর উৎসাহ ও সহযোগিতাতো আছেই। কথা দিচ্ছি ২০১৭ সালের পর এই জামাল খান ওয়ার্ড দেখার জন্য বাংলাদেশের মানুষ ছুটে আসবে।

 


এখানে খুজুন


আরও পড়ুন