আজ শনিবার, ২৬ মে ২০১৮ ইং, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ



চিকিৎসকের গাফিলতির প্রমাণ পেয়েছে তদন্ত কমিটি ।। জীবিত নবজাতককে মৃত ঘোষণা

Published on 21 October 2016 | 3: 46 am

বেসরকারি সিএসসিআর হাসপাতালে জীবিত নবজাতককে মৃত ঘোষণা করে ডেথ সার্টিফিকেট দেয়ার আলোচিত ঘটনায় দায়িত্বরত ডাক্তারের অবহেলা ও গাফিলতির প্রমাণ পেয়েছে তদন্ত কমিটি। কমিটি প্রদত্ত তদন্ত প্রতিবেদনে বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এ ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কোন গাফিলতি খুঁজে পায়নি কমিটি। স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিচালক (প্রশাসন) ডা. সমীর কান্তি সরকার আজাদীকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ডাক্তারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বাংলাদেশ মেডিকেল এন্ড ডেন্টাল কাউন্সিলকে (বিএমডিসি) চিঠি দেয়া হবে বলেও জানান তিনি। জানতে চাইলে ডা. সমীর কান্তি সরকার গতকাল বলেন, আমরা তদন্ত প্রতিবেদন পেয়েছি। জীবিত নবজাতককে মৃত ঘোষণার ঘটনায় ওই রাতে এনআইসিইউতে দায়িত্বরত ডাক্তারের অবহেলা ও গাফিলতির বিষয়টি উঠে এসেছে প্রতিবেদনে। তবে দিবাগত রাত ২টা/৩টায় হাসপাতাল প্রশাসনের কেউ সচরাচর থাকার কথা নয়। ফলে এ ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কোন গাফিলতি পাওয়া যায়নি।

সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদফতরের এ পরিচালক বলেন, সংশ্লিষ্ট ডাক্তার বেসরকারি চাকরিজীবী। সরকারি চাকরিজীবী হলে অধিদফতর ও মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ব্যবস্থা নেয়া যেতো। কিন্তু বেসরকারি ডাক্তারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি বিএমডিসির আয়ত্তে। তাই এ বিষয়ে আমরা বিএমডিসিকে চিঠি দিবো। ফাইলটি বর্তমানে ডিজির (মহাপরিচালক) টেবিলে আছে। এটি অনুমোদন হলেই বিএমডিসিকে এ সংক্রান্ত চিঠি পাঠানো হবে বলেও মন্তব্য করেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের এই কর্মকর্তা।

প্রসঙ্গত, স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালকের নির্দেশে সিভিল সার্জন কার্যালয়ের গঠিত তিন সদস্যের এ তদন্ত কমিটি গত ৯ অক্টোবর তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়। সিলগালা করা প্রতিবেদনটি ওইদিনই (৯ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদফতরে পাঠিয়ে দেন চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. আজিজুর রহমান সিদ্দিকী। আর সিলগালা অবস্থাতে প্রতিবেদন পাঠিয়ে দেয়ায় প্রতিবেদনে কী বলা আছে তা জানাতে পারেননি তিনি। অন্যদিকে, পরদিন (১০ অক্টোবর) ওই প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিচালক (প্রশাসন) ডা. সমীর কান্তি সরকার। গতকাল তদন্ত প্রতিবেদনের বিষয়বস্তু সম্পর্কে আজাদীকে জানান অধিদফতরের এই কর্মকর্তা।

উল্লেখ্য, সিএসসিআর হাসপাতালে গত ৩ অক্টোবর (সোমবার) দিবাগত রাত একটার দিকে স্বাভাবিক উপায়ে একটি কন্যা সন্তানের জন্ম দেন প্রসূতি ডা. রিদোয়ানা কাউসার। কিন্তু দুই ঘণ্টা পর নবজাতকটিকে একটি প্যাকেট করে ডেথ সার্টিফিকেটসহ মায়ের কাছে ফিরিয়ে দেয়া হয়। মন না মানলে প্যাকেট খুলে নবজাতকটিকে জীবিত দেখতে পান মা। কিন্তু দ্বিতীয় দফায় এনআইসিইউ (নবজাতকদের আইসিইউ)-তে নিয়ে গেলে ওখানে দায়িত্বরত ডাক্তার বাচ্চাটিকে একবার ধরেও দেখেন নি। বাচ্চাটি মৃত দাবি করে দায়িত্বরত ডাক্তার বরং শিশুটিকে আবারো ফিরিয়ে দেন বলে অভিযোগ নবজাতকের পরিবারের। পরে রাত তিনটার দিকে সিএসসিআর থেকে শিশুটিকে ট্রিটমেন্ট হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে দায়িত্বরত চিকিৎসকরা প্রাথমিক ভাবে নবজাতকের পরিচর্যা ও চিকিৎসা দেন। অক্সিজেন সাপোর্ট ও ওয়ার্মার (তাপ সঞ্চার করা) দেয়া হয়। এতে নবজাতকের অনেকটা স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে আসে। কিন্তু ওখানে এনআইসিইউতে সিট খালি না থাকায় পরে ম্যাক্স হসপিটালে শিশুটিকে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে মঙ্গলবার সারাদিন অনেকটা সুস্থ থাকলেও বুধবার (৫ অক্টোবর) দুপুরে অবশেষে মারা যায় নবজাতকটি। মৃত নবজাতককে নিয়েই ফিরে যেতে হয় ডাক্তার দম্পতির। ডা. রিদোয়ানা কাউসার ডেন্টাল সার্জন হিসেবে কর্মরত আছেন বান্দরবান জেলার আলীকদম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। রিদোয়ানার স্বামী ডা. নুরুল আজমও আছেন একই পেশায়। কর্মরত আছেন কক্সবাজার সদর হাসপাতালে। এ ঘটনায় সিএসসিআর হাসপাতালের নিউনেটাল ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে (এনআইসিইউ) কর্তব্যরত চিকিৎসকের বিরুদ্ধে অবহেলা ও অমানবিকতার অভিযোগ তুলেন এই ডাক্তার দম্পতি। এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠনের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট দুই চিকিৎসককে (লেবার রুমে দায়িত্ব পালনকারী চিকিৎসক ডা. রুমা আকতার ও এনআইসিইউ’র ডা. ইকবাল হোসাইন) দায়িত্ব পালন থেকে সাময়িকভাবে সরিয়ে নেয় সিএসসিআর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। অবশ্য, এ নিয়ে প্রাথমিক পর্যায়ে এক সদস্যের একটি কমিটি গঠন করলেও পরবর্তীতে তিন সদস্যের আরো একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে সিএসসিআর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

আর স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের নির্দেশে চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. শাহ আলমকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি করে সিভিল সার্জন কার্যালয়। কমিটির অন্য দুই সদস্য হলেনডেপুটি সিভিল সার্জন অজয় কুমার দে ও সিভিল সার্জন অফিসের প্রধান সহকারী এসএম সাহেদুল ইসলাম। কমিটিকে তিন কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়। বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যে গত ৯ অক্টোবর কমিটি প্রতিবেদন জমা দেয়।

 


Advertisement

আরও পড়ুন