আজ বুধবার, ২০ জুন ২০১৮ ইং, ০৬ আষাঢ় ১৪২৫ বঙ্গাব্দ



টানেল নির্মাণ কাজ আরো একধাপ এগিয়ে ।। আনোয়ারায় ৮৫.৮৯০১ একর ভূমি দীর্ঘমেয়াদী বন্দোবস্তী

Published on 19 October 2016 | 4: 06 am

কর্ণফুলী নদীর তলদেশে স্বপ্নের টানেল নির্মাণে আনোয়ারা উপজেলায় ৮৫ দশমিক ৮৯০১ একর ভূমি দীর্ঘমেয়াদী বন্দোবস্ত দেয়া হয়েছে। ভূমি মন্ত্রণালয়ের (খাসজমি২ অধিশাখা) উপসচিব শোয়াইব আহমাদ খান স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত একটি চিঠি গত সোমবার চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসন কার্যালয়ে এসেছে। টানেল নির্র্মাণ প্রকল্পের আওতায় ‘সার্ভিস এরিয়া’ নির্মাণের জন্য বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের অনুকূলে দীর্ঘমেয়াদী এ বন্দোবস্ত দেয়া হয়। ১১০ কোটি ৭৯ লাখ ৮২ হাজার ২৯০ টাকা সালামিতে এ বন্দোবস্ত দেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসন কার্যালয় থেকে পাওয়া তথ্যে জানা গেছে, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের প্রেরিত তথ্যের ভিত্তিতে আনোয়ারা উপজেলার পশ্চিম তুলাতলি মৌজার বিএস ১ নং খতিয়ানের ৪ দাগে ১৯ দশমিক ৩৫৫৯ একর এবং ৮ দাগে ৬৬ দশমিক ৫৩৩২ একরসহ মোট ৮৫ দশমিক ৮৯০১ একর জমি বন্দোবস্ত দেয়া হয়। বালুচর শ্রেণির জমি ‘অকৃষি খাসজমি ব্যবস্থাপনা ও বন্দোবস্ত নীতিমালা১৯৯৫ এর ৩ দশমিক শূন্য () অনুচেছদ মতে ধার্য্য করা হয় উল্লেখিত অংকের সালামি। এক্ষেত্রে ‘যে উদ্দেশ্যে জমি বন্দোবস্ত দেওয়া হয়েছে সে উদ্দেশ্য ব্যতীত অন্য কোনো উদ্দেশ্যে এটা ব্যবহার করা যাবে না এবং ভূমি বন্দোবস্ত নীতিমালা মোতাবেক প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণের শর্তারোপ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আবদুল জলিল বলেন, সরকারি খাসজমি বন্দোবস্ত নীতিমালা অনুসারে এ খাস ভূমিগুলো সেতু কর্তৃপক্ষের অনুকূলে বন্দোবস্ত দেওয়া হয়েছে। এতে স্বপ্নের কর্ণফুলী টানেলের কাজ আরো একধাপ এগিয়ে গেল।

গত ১৪ অক্টোবর কর্ণফুলী নদীর তলদেশে টানেল নির্মাণ কাজের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও চীনা রাষ্ট্রপতি শি জিনপিং। টানেল নির্মাণ হলে বদলে যাবে দক্ষিণ চট্টগ্রামের চিত্র। শহরের পাশে গড়ে উঠবে আরো একটি শহর। এ এলাকার অর্থনীতিতে আসবে গতি। উন্নয়নের মহাসড়কে যুক্ত হবে পুরো চট্টগ্রাম।

কর্ণফুলী টানেল প্রকল্প সূত্রে জানা যায়, ‘কর্ণফুলী নদীর তলদেশ দিয়ে বহুলেন সড়ক টানেল নির্মাণ’ শীর্ষক প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে কর্ণফুলী নদীর পতেঙ্গা এলাকায়। ৮৪৪৬ কোটি ৬৩ লাখ টাকা (সম্ভাব্য) ব্যয়ের টানেলের অ্যালাইনমেন্ট হবে চট্টগ্রাম এয়ারপোর্ট থেকে কর্ণফুলী নদীর দুই কিলোমিটার ভাটির দিকে। টানেলের প্রবেশ পথ হবে নেভি কলেজের কাছে, বহির্গমন পথ হবে কর্ণফুলী নদীর দক্ষিণ পাড়ের সিইউএফএল সার কারখানা সংলগ্ন ঘাট। মোট ৯২৬৫ দশমিক ৯৭১ মিটার দৈর্ঘ্যের প্রকল্পটির মধ্যে টানেলের দৈর্ঘ্য ৩০০৫ মিটার (উভয় পার্শ্বের ৪৭৭ মিটার ওপেন কাট ব্যতীত)। টানেলে থাকবে ৯২০ মিটার দৈর্ঘ্যের দুটি ফ্লাইওভার। এর মধ্যে শহর প্রান্তের ‘এট গ্রেড সেকশন’ হবে ৪৬০ মিটারের আর দক্ষিণ প্রান্তের ‘এট গ্রেড সেকশন’ হবে ৪৪০৩ দশমিক ৯৭১ মিটারের। দেশের প্রথম এই টানেলটি হবে ‘ডুয়েল টু লেন’ টাইপের। টানেল নির্মাণ করা হবে ‘শিল্ড ড্রাইভেন মেথড’ পদ্ধতিতে।

এ বিষয়ে টানেল নির্মাণ প্রকল্পের পরিচালক প্রকৌশলী ইফতেখার কবির বলেন, ইতোমধ্যে পরিবেশগত ছাড়পত্র, ভূমি অধিগ্রহণ, অধিগ্রহণকৃত ভূমির মালিকদের ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন সংক্রান্ত নানা প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। উল্লেখিত ভূমির দীর্ঘমেয়াদী বন্দোবস্তের মাধ্যমে এ প্রকল্পের কাজ আরো একধাপ এগিয়ে গেল।

 

 


এখানে খুজুন


আরও পড়ুন