আজ বুধবার, ২০ জুন ২০১৮ ইং, ০৬ আষাঢ় ১৪২৫ বঙ্গাব্দ



গভীর রাতে ছিনতাইকারীর টহল দল নগরে ।। বাধা দিলেই খুন, আদালতে স্বীকারোক্তি

Published on 18 October 2016 | 3: 27 am

গভীর রাতে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের টহল চোখে না পড়লেও নগরময় ছিনতাইয়ের জন্য টহলে থাকে সংঘবদ্ধ ছিনতাইকারীর দল। নগরীতে সংঘটিত নাসির উদ্দিন হত্যা মামলায় দুই ছিনতাইকারী স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে উঠে এসেছে এমন লোমহর্ষক তথ্য। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মাকে দেখতে এসে ছিনতাইকারির ছুরিকাঘাতেই মৃত্যু হয়েছিল নোয়াখালীর সোনাইমুড়ি এলাকার বাসিন্দা নাসির উদ্দিনের। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে নগরীর জাকির হোসেন সড়কে চট্টগ্রাম চক্ষু হাসপাতালের অদূরে খুন হন নাসির উদ্দিন (৩০)। শুক্রবার সকালে সড়কের পাশে পড়ে থাকা অবস্থায় নাসিরের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এর দুদিন পরই রোববার সন্ধ্যায় নগরীর মোহাম্মদপুর এলাকায় অভিযান চালায় পুলিশ। এসময় নাসিরের খুনের ঘটনায় জড়িত দুই জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেসটিগেশন (পিবিআই)। গ্রেপ্তার দুজন হলইমরান হোসেন বাপ্পি (২১) এবং মোহাম্মদ সুমন (৩০)। এরা দু’জন পুলিশের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী ও ছিনতাইকারী গ্রুপ ইসমাইল হোসেন ‘টেম্পু বাহিনীর’ সদস্য বলে জানিয়েছেন পিবিআই’র পরিদর্শক সন্তোষ চাকমা। নাসিরকে কিভাবে খুন করা হয়েছে তার বিস্তারিত বর্ণনা দিয়ে মহানগর হাকিম মোহাম্মদ হারুণ অর রশিদের আদালতে স্বীকারোক্তি দিয়েছে দুই ছিনতাইকারী। স্বীকারোক্তিতে তারা জানায়, গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে একটি সিএনজি চালিত অটোরিকশা নিয়ে তারা পাঁচজন ছিনতাই করতে বেরিয়েছিল। এর মধ্যে উল্লেখিত দুই ছিনতাইকারীও ছিল। পাহাড়তলী চক্ষু হাসাপাতাল এলাকায় ছিনতাইকারীরা নাছিরকে পায়।

জবানবন্দিতে ইমরান ও সুমন জানিয়েছে, ছিনতাইয়ের সময় নাসির প্রথমে বাধা দেয় এবং চিৎকার শুরু করেন। এ সময় দুই ছিনতাইকারী নাসিরের মুখ চেপে ধরে। এতেই নাসির অনেকটা নিথর হয়ে যায় বলে তারা জানায়। এরপর এক পর্যায়ে হাসপাতালের সামনে থেকে তাকে ইট দিয়ে মাথায় আঘাত করা হয়। এরপর ছোরা দিয়ে আঘাত করা হয়। এতে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হয়। এসময় নাসির অজ্ঞান হয়ে পড়লে তারা মোবাইল নিয়ে পালিয়ে যায়। সেই মোবাইলের সূত্র ধরেই গ্রেপ্তার হয় দুই ছিনতাইকারী। জানা গেছে, পাহাড়তলী চক্ষু হাসপাতালে মায়ের চোখের ছানি অস্ত্রোপচার করাতে এনে নির্মম খুনের শিকার হন এক বছর আগে ওমান থেকে ফেরা এ নাসির। গত শুক্রবার সকালে নাসিরের লাশ উদ্ধারের পর খুলশী থানার ওসি নিজাম উদ্দিন জানান, উরুতে ছুরিকাঘাত করায় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে নাসিরের মৃত্যু হয়েছে। তার পকেটে থাকা সাড়ে আট হাজার টাকা আমরা উদ্ধার করেছি। এ বিষয়ে পিবিআইএর তদন্ত কর্মকর্তা সন্তোষ চাকমা জানান, মাথায় আঘাত ও মুখ চেপে ধরার পর নাসির নিথর হয়ে গেলে ঘাবড়ে যায় ছিনতাইকারীরা। এসময় শুধু মোবাইলটা নিয়েই পালায় তারা। টাকা নিয়ে যায়নি। পুলিশ জানায়, চট্টগ্রাম চক্ষু হাসপাতালে নাসিরের মা চিকিৎসাধীন ছিলেন। মাকে দেখতে নোয়াখালীর জেলার সোনাইমুড়ি এলাকার বাড়ি থেকে বাসে করে চট্টগ্রামে আসেন নাসির। রাত দুইটার দিকে হাসপাতালের গেটে নামলে দারোয়ান জানায় সকাল ছয়টার দিকে গেট খুলবে না। ওই গেইট থেকে একটু দূরেই ছিনতাইয়ের শিকার হন নাসির। এরপর শুক্রবার সকালে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

মামলাটির তদন্তকারী কর্মকর্তা ও পিবিআই পরিদর্শক সন্তোষ কুমার চাকমা বলেন, নাসিরের ছিনিয়ে নেয়া মোবাইলের সূত্র ধরে আমরা মোহাম্মদপুর এলাকায় সুমনের সন্ধান পাই। সেখানে তার একটি ফ্লেক্সিলোডের দোকান আছে। পুলিশ কর্মকর্তা সন্তোষ চাকমা বলেন, গ্রেপ্তার দু’জনের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি নিতে সোমবার সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম হারুনুর রশিদের আদালতে হাজির করা হয়। এরপর তারা স্বীকারোক্তি দেন আদালতে। পুলিশ আরো জানায়, মোটর সাইকেল ও সিএনজি অটোরিকশায় করে এসব ছিনতাইকারী নগরীর বিভিন্ন এলাকায় ছিনতাই করে। নাসিরের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেয়া মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে প্রথমে ইমরানকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর তার স্বীকারোক্তি মোতাবেক মোবাইলসহ সুমনকে গ্রেপ্তার করি।

 


এখানে খুজুন


আরও পড়ুন