আজ সোমবার, ১৬ জুলাই ২০১৮ ইং, ০১ শ্রাবণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ



যে গ্রামে শিশুর জন্ম হয় না!

Published on 13 October 2016 | 1: 08 pm

গুর্জর সম্প্রদায়ের একটি গ্রাম
গ্রামটি দুর্গম নয়। মধ্যপ্রদেশের রাজধানী ভোপাল থেকে মাত্র ৭০ কিলোমিটার দূরে। কিন্তু এক অন্ধ বিশ্বাসের ফলে গ্রামবাসীরা পড়ে রয়েছেন কয়েকশত বছর পেছনে।

গ্রামটিতে গত বহু দশক ধরে কোনও শিশু জন্ম নেয়নি। সেখানকার মানুষ বিশ্বাস করেন যে, গ্রামে কোনও শিশু জন্ম নিলে হয় তার মৃত্যু হবে, অথবা বাচ্চাটি পঙ্গু হয়ে যাবে।

তাই গর্ভবতী নারীদের গ্রামের বাইরে গিয়ে সন্তানের জন্ম দিতে হয়। গ্রামের বাইরে একটি প্রসূতি ঘর তৈরি করা আছে, সেখানেই বেশিরভাগ মা সন্তানদের জন্ম দেন।

তবে সেখানে অনেকেই স্থানীয় হাসপাতালেও যান প্রসবের জন্য। তবে গ্রামের ভেতরে সন্তান প্রসব কখনই নয়।

রাজগড় জেলায় নরসিংগড় মহকুমার অধীন সাঁকা জাগীর নামের এই গ্রামটিতে প্রায় ১২০০ মানুষ থাকেন। বেশিরভাগই গুর্জর সম্প্রদায়ের মানুষ। গ্রামে আছে একটি সুপ্রাচীণ মন্দিরও।

নরসিংগড়ের তহশীলদার অমিতা সিং তোমর বলেন, ‘অন্ধ বিশ্বাসের কারণেই ওই গ্রামের বাইরে গিয়ে শিশুদের জন্ম দেন মায়েরা। তবে এক যুবক নতুন সরপঞ্চ (পঞ্চায়েত প্রধান) হয়েছেন। তিনি চেষ্টা করছেন গ্রামের মানুষদের এই বিশ্বাস ভাঙতে। আমি নিজেও দিন কয়েকের মধ্যে ওখানে যাব ঠিক করেছি।’

গ্রামের নতুন সরপঞ্চ নরেন্দ্র সিং ও তার আট ভাইয়েরও জন্ম হয়েছে গ্রামের বাইরেই।

নরেন্দ্র সিং বলেন, ‘গ্রামের ভেতরে কোনও শিশু জন্ম নেয় না ঠিকই। এটা কয়েক শো বছরের পুরণো প্রথা। কিন্তু কোনও শিশু জন্ম নিলেই যে সে মারা যাবে বা পঙ্গু হয়ে যাবে, এটা একটা অন্ধ বিশ্বাস। অনেকেই মনে করে আমাদের গ্রামের ওপরে কোনও অভিশাপ আছে। ব্যাপারটা তা নয়।’

‘আসলে গ্রামের মধ্যেই যে শ্যামজী মন্দির রয়েছে, সেটা প্রসবের সময়ে অপরিচ্ছন্ন হয়ে যাবে বলেই প্রাচীনকালে এরকম একটা প্রথা চালু হয়েছিল। তবে ২০ বছর আগে গ্রামের ঠিক বাইরে একটা প্রসূতি ঘর তৈরি করা হয়, যেখানে মায়েরা সন্তান প্রসবের কয়েকদিন আগে থেকে গিয়ে থাকতেন। এখন সেটার অবস্থা খারাপ হয়ে গেছে। কিন্তু এখন অনেকেই নরসিংগড়ের হাসপাতালে যান সন্তান জন্ম দেওয়ার জন্য’ বলেন নরেন্দ্র সিং।

মহকুমা শাসক ঋষি গর্গ অবশ্য জানতেন না যে তার এলাকায় এরকম কোনও গ্রাম আছে।

তিনি বলেন, ‘এরকম কোনও গ্রামের খবর আমি জানি না। তবে আপনি যখন বলছেন নিশ্চয়ই খোঁজ নেব।’

তথ্য: বিবিসি বাংলা।


এখানে খুজুন


আরও পড়ুন