আজ সোমবার, ১৮ জুন ২০১৮ ইং, ০৪ আষাঢ় ১৪২৫ বঙ্গাব্দ



যেখানে বাংলাদেশ অভিজ্ঞ

Published on 07 October 2016 | 4: 45 am

সাফল্যের বিচারে এগিয়ে বাংলাদেশ। বিশ্বকাপের পর ১৫ ওয়ানডের ১২টিতেই জিতেছে বাংলাদেশ। অর্থাৎ, ৮০ শতাংশ ম্যাচই জিতেছে টাইগাররা
বাংলাদেশ-ইংল্যান্ড ওয়ানডে সিরিজে ফেভারিট কে? দু’বছর আগে হলে প্রশ্নটাই অবান্তর শোনাতো। কোথায় ইংল্যান্ড আর কোথায় বাংলাদেশ। ক্রিকেটের জনকদের সঙ্গে টেস্ট পরিবারের নবীনতম দলের তুলনা চলে নাকি! অথচ আজ মিরপুরে তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম ওয়ানডে মাঠে গড়ানোর আগে ছবিটা ঠিক উল্টো।

অবস্থান এমন যে, কোথায় বাংলাদেশ আর কোথায় ইংল্যান্ড! অন্তত অভিজ্ঞ তার মানদণ্ডে এই সিরিজে নিরংকুশ ফেভারিট বাংলাদেশ। কন্ডিশন ও সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সের বিচারেও এগিয়ে রাখতে হবে বাংলাদেশকে। যে কোনো খেলায় মাঠের পারফরম্যান্সই শেষ কথা। খেলা শুরু হয়ে গেলে পরিসংখ্যানের আর কোনো মূল্য থাকে না।

তবে আসল লড়াইয়ে ইংল্যান্ডকে টেক্কা দিতে এই পরিসংখ্যান থেকেই আত্মবিশ্বাসের রসদ পেতে পারেন মাশরাফিরা।

ইংল্যান্ডের যে তরুণ ওয়ানডে দলটি এবার বাংলাদেশ সফরে এসেছে, অভিজ্ঞতায় স্বাগতিকদের চেয়ে তারা ঢের পিছিয়ে। ১৫ সদস্যের ইংল্যান্ড দলের সম্মিলিত ওয়ানডে অভিজ্ঞতা মাত্র ৪৩৬ ম্যাচ।

যেখানে ১৪ সদস্যের বাংলাদেশ দলের ওয়ানডে অভিজ্ঞতা ১০১৮ ম্যাচ। ইংল্যান্ডের অন্যতম সেরা দলটিকে হারিয়েই ২০১৫ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছিল বাংলাদেশ। সেই দলের পাঁচ গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ইয়ন মরগ্যান, জো রুট, অ্যালেক্স হেলস, জেমস অ্যান্ডারসন ও স্টুয়ার্ট ব্রড নেই এবারের ওয়ানডে সিরিজের দলে।

এবারের দলটি সম্ভাবনাময় হলেও নবীশ। সবচেয়ে বেশি ৭৮টি ওয়ানডে খেলেছেন অধিনায়ক জস বাটলার। এছাড়া পঞ্চাশের বেশি ওয়ানডে খেলার অভিজ্ঞতা আছে মাত্র দু’জনের স্টিভেন ফিন (৬৫) ও ক্রিস ওকস (৫২)। বেন ডাকেট ও জ্যাক বলের এখনো ওয়ানডে অভিষেকই হয়নি। লিয়াম ডসন একটি, জেমস ভিন্স দুটি এবং স্যাম বিলিংস খেলেছেন মাত্র পাঁচটি ওয়ানডে। যেখানে বাংলাদেশ দলে একশ’র বেশি ওয়ানডে খেলার অভিজ্ঞতা আছে পাঁচজনের। মাশরাফি (১৬৩), মুশফিকুর (১৬১), সাকিব (১৬০), তামিম (১৫৬) ও মাহমুদউল্লাহ (১২৮)। মাশরাফি মুর্তজা যেখানে বাংলাদেশের সফলতম ওয়ানডে অধিনায়ক, সেখানে ওয়ানডে অধিনায়ক হিসেবে আজই অভিষেক হবে বাটলারের।

ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সেও এগিয়ে বাংলাদেশ। তামিম যেখানে ওয়ানডেতে পাঁচ হাজার রানের মাইলফলক ছোঁয়ার অপেক্ষায়, সেখানে ইংল্যান্ডের এই দলে বাটলারের ২০৭২ রানই সর্বোচ্চ। এছাড়া এক হাজারের বেশি রান আছে শুধু জ্যাসন রয়ের (১০৫৫)। এক হাজারি ক্লাবে বাংলাদেশের সাতজন আছেন।

বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের ২২ সেঞ্চুরির বিপরীতে ইংলিশদের সেঞ্চুরি মাত্র নয়টি। বোলিংয়েও একই চিত্র। দু’শর বেশি উইকেট আছে মাশরাফি ও সাকিবের ঝুলিতে। অথচ ইংল্যান্ডের কারও ১০০ উইকেটও নেই। সবচেয়ে বেশি ৯৮ উইকেট স্টিভেন ফিনের। একাদশে যার জায়গা অনিশ্চিত। অলরাউন্ডার হিসেবে মঈন বা স্টোকসের চেয়ে অনেক এগিয়ে সাকিব।

২০১৫ বিশ্বকাপে দু’দলের সর্বশেষ সাক্ষাতের পর খোলনোলচে বদলে গেছে ইংল্যান্ডের। তারপরও সাফল্যের বিচারে এগিয়ে বাংলাদেশ। বিশ্বকাপের পর ১৫ ওয়ানডের ১২টিতেই জিতেছে বাংলাদেশ। অর্থাৎ, ৮০ শতাংশ ম্যাচই জিতেছে টাইগাররা।

যেখানে মারকাটারি ক্রিকেট খেলেও এই সময়ের মধ্যেই ৩০ ওয়ানডের মাত্র ১৭টিতে জিতেছে ইংল্যান্ড। সাফল্যের হার ৬০ ভাগেরও কম। এছাড়া দু’দলের সর্বশেষ চার ওয়ানডের

তিনটিতেই জিতেছে বাংলাদেশ। ইংল্যান্ডের জন্য আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জ কন্ডিশন। দেশের মাটিতে বাংলাদেশ এখন সত্যিকারের এক পরাশক্তি। ঘরের মাঠে মাশরাফিদের সামনে টানা সপ্তম ওয়ানডে সিরিজ জয়ের হাতছানি।


এখানে খুজুন


আরও পড়ুন