আজ রবিবার, ২৪ জুন ২০১৮ ইং, ১০ আষাঢ় ১৪২৫ বঙ্গাব্দ



খাদিজার সঙ্গে সেলফি : ক্ষমা চাইলেন সাংসদ তুহিন

Published on 06 October 2016 | 9: 41 am

লাইফ সাপোর্টে থাকা খাদিজা বেগম নার্গিসকে নিয়ে সেলফি তোলার ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে ক্ষমা চেয়েছেন সাংসদ সাবিনা আক্তার তুহিন।

বৃহস্পতিবার দুপুরে এ ব্যাপারে ক্ষমা চেয়ে তিনি ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেন। ফেসবুক স্ট্যাটাসে সাংসদ তুহিন দাবি করেন যে, নার্গিস মারা গেছে বলে যে গুজব ছড়িয়ে পড়েছে তা মিথ্যা প্রমাণ করতেই তিনিসহ প্রাক্তন সাংসদ অপু উকিল ও আরেকজন নারী সেলফি তোলেন।

পাঠকদের জন্য সাংসদ তুহিনের ফেসবুক স্ট্যাটাস হুবহু তুলে ধরা হলো- ‘আমার গতকালের স্ট্যাটাসের জন্য যদি আমার কোন ভুল হয়ে থাকে এবং কেউ মর্মাহত হয়ে থাকেন আমি এ ব্যপারে দুঃখিত। আমি মেয়েটা মারা গেছে বলে যে গুজব ছড়িয়ে পরে আমার বান্ধবী মিরা স্ট্যাটাস দেয় বোন খাদিজা ক্ষমা করিস লিখে। আমাদের ছবি দেয়ার উদ্দেশ্য কেবল আমরা নারী সমাজ খাদিজার পাশে আছি এটা বোঝানোর জন্য আর ও বেঁচে আছে এটা জানানোর জন্য। আমার স্ট্যাটাসে বদরুলের ফাঁসি চেয়ে নির্মম ঘটনার নিন্দা করে সট্যাটাস দেয়া হয়েছে। আমার যদি ভুল হয়ে থাকে তবে আমি ক্ষমা প্রার্থী। আমরা সব নির্যাতিত নারী সমাজের পাশে আছি থাকবো। এটা দেয়া যদি আমার সাংবাদিক ভাইদের কাছে দৃষ্টিকটু হয়ে থাকে তবে আমি আন্তরিক দুঃখিত।

আসলে আমরা যারা রাজনীতি করি তাদের চিন্তা ভাবনায় যত সততা থাকুক আমাদের দোষ তো খুঁজে বের করতে হবে এটাই তো স্বাভাবিক। আমি মনে করি যা কিছু হয়েছে মঙ্গলের জন্য অনেক কিছু আবেগ থেকে না করে চিন্তা ভাবনা করে করতে হবে। খাদিজার ওখানে গিয়ে আবেগী হয়ে আমরা আছি ওর পাশে বদরুলকে ধীক্কার জানাই এটা বোঝানোর জন্য। আমি সাংবাদিকরা যে লিখেছে আমি সাংবাদিক পরিবারের মানুষ আমার তো জানা উচিত ছিল খবরের শিরনাম তো উনারা খুঁজবে আমি কেন রসদ দিবো আবেগ দিয়ে বিবেচনা না করে মাথা খাঁটিয়ে চলতে হবে। কেউ যদি কাজ করে সম্মোলচনা তারই বেশি হয় কালকে পাশে গিয়ে তার পাশে দাঁড়ানোর অঙ্গীকার না করে ঘরে বসে তার জন্য বড় করে স্ট্যাটাস দিলেই তো হতো। সংসদে ঢোকার আগ মুহুর্তে গেলাম লিপিষটিক কেন দিয়ে গেলাম এটাও তো দোষ। সব কিছুর পর এটাই বলবো আমিই দায়ী আমার একক দায়িত্ব।’

উল্লেখ্য, সিলেটে সোমবার দুপুরে ছাত্রলীগ নেতা বদরুলের কোপে গুরুতর আহত হন নার্গিস। সেদিন রাতেই নার্গিসকে আনা হয় রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে। মঙ্গলবার তার মাথায় অস্ত্রোপচার করা হয়। অস্ত্রোপচার শেষে চিকিৎসকরা জানান, খাদিজার বেঁচে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে মাত্র ৫ থেকে ১০ শতাংশ।

বুধবার সকাল থেকে অনেক বিশিষ্ট ব্যক্তি খাদিজাকে দেখতে হাসপাতালে যান। অচেতন খাদিজাকে দেখতে হাসপাতালে যান সাংসদ সাবিনা আক্তার তুহিন, প্রাক্তন সাংসদ অপু উকিলসহ আরেকজন নারীও। সেখানে তারা আইসিইউতে গাউন পরা অবস্থায় জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে থাকা অচেতন খাদিজাকে পেছনে রেখে সেলফি তোলেন। পরে সাংসদ তুহিন সন্ধ্যা ৭টার দিকে ফেসবুকে পোস্ট করেন সেই ছবি। তাদের এই সেলফি নিয়ে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। অনেকেই ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন।

 

 


এখানে খুজুন


আরও পড়ুন