আজ সোমবার, ১৮ জুন ২০১৮ ইং, ০৪ আষাঢ় ১৪২৫ বঙ্গাব্দ



২৬০০ কোটি টাকার বন্ড চেয়েছে বেসিক ব্যাংক

Published on 05 October 2016 | 10: 21 am

মূলধন ঘাটতি মেটাতে দুই হাজার ৬০০ কোটি টাকার বন্ড চেয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছে চিঠি পাঠিয়েছে বেসিক ব্যাংক।

চিঠিতে বলা হয়েছে, ব্যাংকটি এখনো প্রবল আর্থিক সঙ্কটে রয়েছে। এই আর্থিক সঙ্কট দূর করতে বন্ডের মাধ্যমে হলেও যেন বেসিক ব্যাংককে দুই হাজার ৬০০ কোটি টাকা দেওয়া হয়। এই বন্ড হবে সুদমুক্ত। অর্থাৎ, এই অর্থের জন্য কোনো সুদও দিতে রাজি নয় ব্যাংকটি।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বেসিক ব্যাংক মোট ২৬টি বন্ডের মাধ্যমে এই অর্থ দেওয়ার আবেদন করেছে। প্রতিটি বন্ডের মূল্যমান হবে ১০০ কোটি টাকা এবং পুরো বন্ডটি হবে সুদবিহীন। এ বিষয়ে অর্থমন্ত্রণালয়ের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের এক কর্মকর্তা রাইজিংবিডিকে বলেন, ‘বেসিক ব্যাংক এ ধরনের একটি প্রস্তাব দিয়েছে। তবে এ ধরনের বন্ড দেওয়ার কোনো সিদ্ধান্ত এখন পর্যন্ত হয়নি।’

তিনি বলেন, ‘অর্থমন্ত্রী বর্তমানে বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের বার্ষিক সভায় যোগ দেওয়ার জন্য ওয়াশিংটনে অবস্থান করছেন। তিনি আসার পর এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে ব্যাংকটির পক্ষে এ ধরনের বন্ড ইস্যুর কোনো সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। কারণ, এর আগেও ব্যাংকটির মূলধন সংকট দূর করতে সহায়তা দেওয়া হয়েছে।’

সূত্র জানায়, এর আগে বেসিক ব্যাংকের আর্থিক সঙ্কট দূর করতে তিন দফায় দুই হাজার ৩৯০ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ২০১৪ সালে দুই দফায় ৭৯০ কোটি টাকা এবং দ্বিতীয় দফায় ৪০০ কোটি টাকা দেওয়া হয়। পরে গত বছর দেওয়া হয় আরো ১২শ’ কোটি টাকা।

এসময় অর্থ বিভাগ থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছিল, ‘অর্থ বিভাগের ২০১৫-২০১৬ অর্থবছরের বাজেটে ব্যাংকের মূলধন পুনর্গঠনে বিনিয়োগ খাতে বরাদ্দকৃত অর্থ থেকে ১২০০ কোটি টাকা বেসিক ব্যাংক লিমিটেডের অনুকূলে মূলধন পুনর্ভরন খাতে দেওয়া হলো।

সে সময় বেসিক ব্যাংককে চারটি শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছিল। এই শর্তের মধ্যে ছিল এই অর্থ ব্যয়ে প্রচলিত সব আর্থিক বিধিবিধান এবং অনুশাসনাবলি যথাযথভাবে অনুসরণ করতে হবে। বেসিক ব্যাংকের মূলধন পুনর্ভরণ ছাড়া অন্য কোনো উদ্দেশ্যে এ অর্থ ব্যয় করা যাবে না। এই ব্যাংকের অটোমেশন কার্যক্রম ও ব্যবসায়িক (বিজনেস) পরিকল্পনা বাস্তবায়ন অগ্রগতি বিশেষ করে পুঞ্জীভূত খেলাপি ঋণের বৃদ্ধি বা হ্রাসের ওপর ত্রৈমাসিকভিত্তিক প্রতিবেদন ব্যাংক ও আর্থিক বিভাগের কাছে পাঠাতে হবে। একই সঙ্গে পর্যালোচনার কার্যাবলিও অর্থ বিভাগের কাছে ত্রৈমাসিকভাবে পাঠাতে হবে। বেসিক ব্যাংকের মূলধন পুনর্ভরণ বাবদ ১২০০ কোটি টাকা বরাদ্দের পরে অনুমোদিত মূলধনের পর পরিশোধিত মূলধন বেশি হলে সে ক্ষেত্রে ‘মেমোরেন্ডাম অব আন্ডারস্ট্যান্ডিং’ পরিবর্তন করতে হবে।

সরকারি মালিকানাধীন বেসিক ব্যাংক ২০০৯ সাল পর্যন্ত একটি লাভজনক ব্যাংক ছিল। কিন্তু এরপর যখন রাজনৈতিক বিবেচনায় ২০০৯ সালের সেপ্টেম্বরে বেসিক ব্যাংকের চেয়ারম্যান পদে শেখ আব্দুল হাই বাচ্চুকে নিয়োগ দেওয়া হয় তখন থেকেই ব্যাংকটির আর্থিক অনিয়মের সূত্রপাত ঘটে।

চেয়ারম্যান ও পরিচালনা পর্ষদের প্রত্যক্ষ মদদে বেসিক ব্যাংকে একে একে ঘটে যায় অনেকগুলো আর্থিক কেলেঙ্কারি। এই কেলেঙ্কারিতে আত্মসাৎ করা হয় প্রায় সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা, যা ফেরত পাওয়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তদন্ত প্রতিবেদনে এই চিত্র ফুটে উঠেছে। ২০১৪ সালের আগস্ট মাসে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে বলা হয়, প্রধান কার্যালয়ের ঋণ যাচাই কমিটি বিরোধিতা করলেও বেসিক ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ সেই ঋণ অনুমোদন করে।

৪০টি দেশীয় তফসিলি ব্যাংকের কোনোটির ক্ষেত্রেই পর্ষদের এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার কার্যক্রম দেখা যায় না। পর্ষদের ১১টি সভায় ঋণ অনুমোদন করা হয় তিন হাজার ৪৯৩ কোটি ৪৩ লাখ টাকা, যার অধিকাংশই গুরুতর অনিয়মের মাধ্যমে করা হয়েছে। এই ঋণ পরিশোধ বা আদায় হওয়ার সম্ভাবনা কম বলেও মত দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক।

 

 


এখানে খুজুন


আরও পড়ুন