আজ শনিবার, ২৩ জুন ২০১৮ ইং, ০৯ আষাঢ় ১৪২৫ বঙ্গাব্দ



গুলশান হামলা : তাহমিদকে অব্যাহতি

Published on 05 October 2016 | 10: 18 am

রাজধানীর গুলশানে হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় জঙ্গি হামলার ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেপ্তার কানাডার টরন্টো বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তাহমিদ হাসিব খানকে অব্যাহতি দিয়েছেন আদালত।

শুনানি শেষে বুধবার ঢাকা মহানগর হাকিম নুর নবী তাকে অব্যাহতির আদেশ দেন। শুনানিকালে আদালতে হাজির ছিলেন তাহমিদ। ২ অক্টোবর তাহমিদ হাসিব খানকে জামিন দেন আদালত।

এদিকে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষক হাসনাত রেজা করিমকেও ৫৪ ধারা থেকে অব্যাহতি দিয়েছেন একই আদালত। হাসনাতকে গুলশান হামলার মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

এর আগে হামলার ঘটনায় তাহমিদ হাসিব খানের বিরুদ্ধে কোনো সাক্ষ্য প্রমাণ না পাওয়ায় কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের পরিদর্শক হুমায়ুন কবির তাকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দিয়ে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন। বুধবার ওই প্রতিবেদনের বিষয়ে শুনানির জন্য দিন ধার্য করেন আদালত।

প্রসঙ্গত, গত ৩ আগস্ট সন্ধ্যে ৭টা ২৫ মিনিটে গুলশানে আড়ং এর সামনে থেকে হাসনাত করিম এবং তার দেওয়া তথ্য মতে একই দিন রাত ৭টা ৪৫ মিনিটে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার জি-ব্লক হতে তাহমিদ হাসিব খানকে ৫৪ ধারায় আটক করে পুলিশ।

তাহমিদ হাসিব খান আফতাব বহুমুখী ফার্মের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফজলে রহিম খান শাহরিয়ারের ছেলে। তিনি কানাডার স্থায়ী নাগরিক। ১ জুলাই গুলশান হামলার দিনই দুপুরে ঢাকায় আসেন তাহমিদ।

হাসনাত করিমের বাবা মোহাম্মদ রেজাউল করিম। হাসনাত বাংলাদেশ ও ব্রিটেনের দ্বৈত নাগরিক। ব্রিটেনের নাগরিক হলেও সম্প্রতি তিনি দেশে এসে বাবার স্থাপত্য প্রতিষ্ঠানে পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। ঘটনার দিন মেয়ের জন্মদিন উপলক্ষে তিনি হলি আর্টিজানে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে খেতে গিয়েছিলেন।

গত ১৩ আগস্ট হাসনাতের ৮ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। এর আগে গত ৪ আগস্ট পুলিশ তাকে ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে দশ দিনের রিমান্ডের আবেদন জানায়। আদালত তার ৮ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রিমান্ড শেষে কারাগারে রয়েছেন হাসনাত।

এদিকে দুই দফায় মোট ১৪ দিনের রিমান্ড শেষে কারাগারেই ছিলেন তাহমিদ। গত ৪ আগস্ট     আটদিন ও ১৩ আগস্ট তার ছয়দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। তাকে ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে রিমান্ডে নেওয়া হয়।

গত ১ জুলাই রাত পৌনে ৯টার দিকে গুলশানের হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় ঢুকে জঙ্গিরা দেশি-বিদেশি নাগরিকদের জিম্মি করে। জঙ্গিদের গ্রেনেড হামলায় গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সহকারী কমিশনার রবিউল ইসলাম ও বনানী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সালাউদ্দিন খান নিহত হন। রাতের বিভিন্ন সময় তিন বাংলাদেশিসহ ২০ জনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হত্যা করে জঙ্গিরা।

পরদিন সকালে কমান্ডো অভিযানে পাঁচ জঙ্গিসহ ছয়জন নিহত হন।


এখানে খুজুন


আরও পড়ুন