আজ বৃহঃপতিবার, ২১ জুন ২০১৮ ইং, ০৭ আষাঢ় ১৪২৫ বঙ্গাব্দ



মৃত ঘোষণার ক্ষেত্রে তাড়াহুড়ো কেন? ।। তদন্ত কমিটি হবে, রিপোর্ট যাবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে : সিভিল সার্জন

Published on 05 October 2016 | 3: 36 am

মাত্র দুই সপ্তাহের ব্যবধানে দুই জীবিত শিশুকে চিকিৎসকদের মৃত ঘোষণার ঘটনা ঘটেছে। জীবিত শিশুকে তাড়াহুড়ো করে মৃত ঘোষণার ঘটনায় চিকিৎসকদের দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ উঠেছে। প্রশ্ন উঠেছে, মৃত ঘোষণার ক্ষেত্রে তাড়াহুড়ো কেন? এ নিয়ে আবারও প্রশ্নবিদ্ধ হলো বেসরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলো। সেবার পরিবর্তে ব্যবসায়িক মনোবৃত্তিণ্ডএ কথাই আলোচিত হচ্ছে। গত সোমবার রাতে নগরীর বেসরকারি হাসপাতাল সিএসসিআরে বাচ্চার দেহে প্রাণ থাকার পরও জন্মের মাত্র দুই ঘণ্টা পর মৃত্যু সনদ দিয়ে দেন চিকিৎসকরা। শিশুটির চিকিৎসক মায়ের মন মানে না। বাচ্চার মুখ দেখতে গিয়ে দেখেন ও বেঁচে আছে। চিকিৎসকদের বিষয়টি জানানো হলেও তাদের নির্লিপ্ত জবাব, বাচ্চা নড়াচড়া করছে না, গায়ের মাংস নড়ছে। পরে শিশুটি বেঁচে গেলেও এখনো আশঙ্কামুক্ত নয়। এর আগে গত ২১ সেপ্টেম্বর ফরিদপুরে গালিবা হায়াত নামে এক কন্যা শিশুকে মৃত ঘোষণা করার পর বাক্সে ভরে দাফনের জন্য কবরস্থানে নেয়ার সময় হঠাৎ নড়ে চড়ে এবং শব্দ করে ওঠে। ঘটনার ৩ দিন পর শিশুটি মারা যায়।

চিকিৎসা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রতিটা মানুষকে মৃত ঘোষণার ক্ষেত্রে কিছুটা সময় নিতে হয়। শিশুদের নার্ভ অতিমাত্রায় সংবেদনশীল বলে তাদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সতর্কতা বজায় রাখা উচিত। অন্যদিকে একের পর এক অনাকাঙিক্ষত ঘটনায় চিকিৎসকদের দায়িত্ব অবহেলার অপরাধে আইনি প্রতিকার চাওয়ার সুযোগ আছে বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা। এদিকে এ ঘটনায় আজ তদন্ত কমিটি গঠন করে সেটার প্রতিবেদন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সিভিল সার্জন। এ ঘটনায় বিস্ময় প্রকাশ করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ডা. প্রণব কুমার চৌধুরী আজাদীকে বলেন, আমাদের গাইনী ও শিশু চিকিৎসকদের বলে দেওয়া হয় যে, শিশুদের মৃত্যু সনদ (ডেথ সার্টিফিকেট) দেওয়ার সময় সবসময় বাড়তি সময় নিতে। যেন মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পরেও অন্তত ২০ মিনিট অবজারভেশনে রাখা হয়। তিনি বলেন, একজন সুস্থ বাচ্চার আড়াই হাজার গ্রামের কম এবং গর্ভকাল ৩৭ মাস অতিক্রান্ত না হলে সেই বাচ্চাকে প্রিম্যাচিউরড শিশু বলে ধরে নেওয়া হয়। সেক্ষেত্রে তাদের মাঝে নানা ঝুঁকিপূর্ণ উপসর্গ দেখা দেয়। আবার বাচ্চাদের এ সময়টা অন্তত সংবেদনশীল। সুতরাং এমন পরিস্থিতিতে বাচ্চাকে মৃত ঘোষণার পূর্বে অনেক সতর্ক থাকতে হয়।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অধ্যক্ষ ডা. সেলিম মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর এ ধরনের পরিস্থিতিতে চিকিৎসকদের আরো সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিয়ে বলেন, মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট লক্ষণ প্রকাশের পরও অনেক খুঁটিনাটি পরীক্ষার মাধ্যমে ধীরে সুস্থে মৃত ঘোষণা করা উচিত। কেননা বজ্রপাত, ইলেক্ট্রিক শকড ও পানিতে ডুবে যাওয়ার ক্ষেত্রে অনেক সময় বাচ্চাদের নার্ভ সচল আছে কিনা তা বুঝতে সময় লাগে। সুতরাং সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই।

এদিকে নগরীর প্রথম সারির একটি বেসরকারি হাসপাতালে এ ধরনের ঘটনা দুঃখজনক উল্লেখ করে সিভিল সার্জন ডা. আজিজুর রহমান সিদ্দীকী বলেন, এরকম প্রতিষ্ঠিত স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোর যদি এই অবস্থা হয়, ভুঁইফোড় ও অবৈধ প্রতিষ্ঠানগুলোর অবস্থা তো অকল্পনীয়। তিনি বলেন, যেহেতু চিকিৎসকদের অবহেলার বিষয়টি উঠে এসেছে, তাই আমরা আজ একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে দেব। এর প্রতিবেদন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে পাঠানো হবে। অন্যদিকে চিকিৎসকদের দায়িত্ব অবহেলার অপরাধে আইনি প্রতিকার চাওয়ার সুযোগ আছে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট কফিল উদ্দিন। তিনি বলেন, একটা জীবিত মানুষকে দায়িত্বে অবহেলা করে মৃত ঘোষণা করা রীতিমত অপরাধ। চিকিৎসকরা আইনের ঊর্ধ্বে নয় উল্লেখ করে চট্টগ্রাম আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এনামুল হক বলেন, যেহেতু চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ ওঠেছে, ভুক্তভোগী চাইলে মামলা করতে পারেন। যদি বিজ্ঞ আদালত মনে করেন তদন্তের প্রয়োজন নেই, সেক্ষেত্রে সরাসরি বিচারের আওতায় আনা যেতে পারে। সাক্ষীপ্রমাণে আদালত সন্তুষ্ট না হলে সেক্ষেত্রে অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দিতে পারেন। তিনি বলেন, দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ প্রমাণিত হলে ৩ থেকে ৫ বছর পর্যন্ত শাস্তি হতে পারে।

 

 


এখানে খুজুন


আরও পড়ুন