আজ বুধবার, ২০ জুন ২০১৮ ইং, ০৬ আষাঢ় ১৪২৫ বঙ্গাব্দ



চবি ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক রাসেল সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত

Published on 04 October 2016 | 3: 19 am

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বন ও পরিবেশবিদ্যা ইনস্টিটিউটের ৮ম সেমিস্টারের ছাত্র ও বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ ইমামুল হক রাসেল সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন। গতকাল সোমবার ফেনী জেলার দাগনভূঁইয়া উপজেলা এলাকায় একটি ট্রাক রাসেলের মোটর সাইকেলকে ধাক্কা দিলে এ দুর্ঘটনা ঘটে। জানা গেছে, সোমবার সকালে চবি ক্যাম্পাস থেকে মোটর সাইকেলযোগে নোয়াখালীর সেনবাগে গ্রামের বাড়ি যাচ্ছিলেন রাসেল। সকাল সাড়ে আটটার দিকে ফেনীর দাগনভূঁইয়া এলাকায় একটি ট্রাক রাসেলের মোটরসাইকেলটিকে ধাক্কা দেয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে ফেনী সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে সেখান থেকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আনা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। রাসেলের মৃত্যুর সংবাদ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকশিক্ষার্থীদের তীব্র ভারাক্রান্ত করে দিয়েছে। এর আগে আরেক সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে মৃত্যুর সঙ্গে পাঁচদিন পাঞ্জা লড়ে গত বৃহস্পতিবারই চলে গেছেন আইন বিভাগের ছাত্র সুমিত মিত্র। সেই শোক এখনো কাটিয়ে ওঠেনি ক্যাম্পাস। এর মধ্যেই রাসেলের মৃত্যু ঘটলো সড়ক দুর্ঘটনাতেই। তার মৃত্যু সংবাদ পেয়ে হাসপাতালে ভিড় করেন তার সহপাঠী থেকে শুরু করে রাজনৈতিক সহযোদ্ধারা। ছুটে আসেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী, উপউপাচার্য অধ্যাপক ড. শিরীণ আখতার, প্রক্টর মোহাম্মদ আলী আজগর চৌধুরীসহ অন্যান্য শিক্ষকরাও। রাসেলের সহপাঠী ও সহযোদ্ধাদের কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে হাসপাতালের পরিবেশ।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত হওয়ার পর মায়ের কাছে একটি মোটরসাইকেলের আবদার করেছিলেন রাসেল। মায়ের খুশি মনে দেওয়া টাকাতেই একমাস আগে ডিসকভার ব্রান্ডের সর্বশেষ ভার্সনের মোটরসাইকেলটি কিনেছিলেন। এখনো মাকে সরাসরি দেখানো হয়নি মোটরসাইকেলটি। মায়ের যে পরামর্শ ছিল ‘আগে ভালোভাবে চালানো শিখে নে, তারপরই আমার কাছে মোটরসাইকেল নিয়ে আসবি।’ এতদিন ধরে ক্যাম্পাসের এখানেওখানে চালিয়ে মোটরসাইকেল চালানোটা মোটামুটি রপ্ত করার পর গতকাল একদম ভোরেই ক্যাম্পাস থেকে বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেন রাসেল। কিন্তু মাকে আর সেই মোটর সাইকেল দেখানো সম্ভব হয়নি।

তার বন্ধু মোহাম্মদ ইশতিয়াক শাহরিয়ার বলেন, ‘আগের রাতেই রাসেলের সঙ্গে অনেকক্ষণ আড্ডা দিয়েছি। সারাক্ষণই হাসিখুশিতে মাতিয়ে রেখেছিল। সোমবার ভোরে বাড়ি যাবে তাও বলেছিল। কিন্তু ঘুম ভাঙার আগেই শুনি সে সড়ক দুর্ঘনায় গুরুতর আহত হয়েছে। পরে হাসপাতালে এসে দেখি সে আর নেই।’ তিনি আরও বলেন, ‘মোটরসাইকেলটি তার খুব শখের ছিল। একটু ধুলোময়লা লাগলেই সে সেটি পরিষ্কার করতো। খুবই যত্ন করতো মোটরসাইকেলটির। সেই মোটরসাইকেলের কারণেই আজ তার প্রাণ গেল।’ কাঁদতে কাঁদতে কথা শেষ করতে পারেননি ইশতিয়াক শাহরিয়ার। গতকাল বিকেল তিনটায় রাসেলের মরদেহ নিয়ে গ্রামের বাড়ি সেনবাগের ছমির মুন্সির হাটের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেন তার সহপাঠী ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।

এদিকে রাসেলের মৃত্যুতে চবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী, উপউপাচার্য অধ্যাপক ড. শিরীণ আখতার, রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল হুদা, ইনস্টিটিউট অব ফরেস্ট্রি এন্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সেস এর পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. দানেশ মিয়া ও প্রক্টর মোহাম্মদ আলী আজগর চৌধুরী গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন। তারা মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।


এখানে খুজুন


আরও পড়ুন