আজ বুধবার, ২০ জুন ২০১৮ ইং, ০৬ আষাঢ় ১৪২৫ বঙ্গাব্দ



আশানুরূপ সাড়া নেই আলাপনে

Published on 04 October 2016 | 2: 56 am

দেশের প্রায় ১৪ লাখ সরকারি চাকুরিজীবীর জন্য তৈরি করা হয়েছে ইনস্ট্যান্ট মেসেজিং অ্যাপস, আলাপন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত ৫ সেপ্টেম্বর অ্যাপসটি উদ্বোধন করেন। এর প্রায় এক মাস হতে চললেও এখনও অনেক সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী এটি সম্পর্কে কিছুই জানেন না! আলাপন সম্পর্কে খোঁজ নিতে গিয়ে এসব তথ্য জানা গেছে।

অন্যদিকে ন্যাশনাল আইডি নম্বর বা সেখানে সম্পূর্ণ ডাটা না থাকার কারণে অনেক সরকারি চাকুরে অ্যাপসটিতে রেজিস্ট্রেশন করতে পারছেন না।

৫ সেপ্টেম্বর বরিশালের জেলা প্রশাসক ড. গাজী মো. সাইফুজ্জামানের সঙ্গে আলাপনের মাধ্যমে কথা বলে অ্যাপসটির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

গত এক মাসে অ্যাপসটির ব্যবহারে কেমন অগ্রগতি হয়েছে এমন প্রশ্নের জবাবে মো. সাইফুজ্জামান বলেন, আলাপন নিয়ে ভালোই কাজ চলছে। জেলা প্রশাসনের যত কর্মকর্তা আছি প্রায় সকলেই এ অ্যাপস আপলোড করেছি। একে অন্যের সঙ্গে কথা বলছি। ভিডিওকল করছি।

তিনি আরো বলেন, অ্যাপসটি ব্যবহারে কিছু সমস্যা দেখা দিচ্ছে। কোনো কোনো সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর ন্যাশনাল আইডি নম্বর বা ফুল ডাটা না থাকার কারণে তারা রেজিস্ট্রেশন করতে পারছেন না। তবে কর্মকর্তারা তাদের জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) নম্বর ও পে-স্কেলে ব্যবহৃত মোবাইলফোন নম্বর দিয়ে এই অ্যাপসটি বিনামূল্যে ডাউনলোড করতে পারবেন। এ বিষয়টি সরকারি কর্মীদের জানানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। যাতে ন্যাশনাল আইডি নম্বর জেনে নিজ জেলায় সরকারি চাকুরিজীবীরা সংযুক্ত হতে পারেন।

আলাপন আসার পর কাজের গতি বেড়েছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অবশ্যই কাজের গতি বেড়েছে। একটা নিরাপদ পদ্ধতিতে অ্যাপসটি ব্যবহার করে সরকারি কর্মীরা সরকারের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখতে পারছি।

অনেকে আলাপন অ্যাপস ডাউনলোড করতে পারেননি। এক্ষেত্রে কী পদক্ষেপ নিয়েছেন। এমন প্রশ্নের জবাবে গাজী মো. সাইফুজ্জামান বলেন, বিভিন্ন সভায় আমরা এ অ্যাপস কীভাবে ডাউনলোড করতে হবে তা বুঝিয়ে দিচ্ছি। সরকারি বিভিন্ন সেক্টেরে যেমন আইনশৃঙ্খলা কমিটি, উন্নয়ন কমিটি, রাজস্ব সম্মেলন, সবগুলোতেই আমরা নিয়মিত বিফ্রিং করছি। কেউ সহযোগিতা চাইলে জেলা প্রশাসন থেকে সহযোগিতা করব।

খুলনা জেলা প্রশাসক নাজমুল আহসান বলেন, আলাপন অ্যাপস ব্যবহার করতে বার কোড ব্যবহার করতে হয়। আমরা এখন ডিজিটাল বাংলাদেশ নিয়ে কাজ করি। আমাদের কর্মীরা এ অ্যাপসের মাধ্যমে কথা বলছেন।

তিনি বলেন, এখনও সকল কর্মকর্তা-কর্মচারী অ্যাপসটি ডাউনলোড করতে পারেননি। আমরা যারা জেলা প্রশাসন লেবেলে রয়েছি তারা এটা করতে সক্ষম হয়েছি। এ নিয়ে মাঠ পর্যায়ে কাজ করছি। তবে সব পর্যায়ে এটি হয়ে উঠেনি। একটু সময় লাগবে। আমার জানা মতে, বিভিন্ন বিভাগ ও জেলায় এই অ্যাপসের মাধ্যমে সরকারের যে কোনো পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা যে কোনো জায়গা থেকে একক বা গোষ্ঠীগত চ্যাটিং, ভয়েস ও ভিডিও কল, গ্রুপ কনফারেন্স ছাড়াও নথি আদান-প্রদান করছেন।

এদিকে, পরিবর্তনের পক্ষ থেকে পররাষ্ট্র তথ্য, শ্রম, আইনসহ রোববার বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অনেকের এ সম্পর্কে কোনো প্রকার ধারণাই নেই। তবে এ বিষয়টি যে তারা জানেন না তা সংবাদমাধ্যমে জানাতে নিষেধ করেছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, আমরা জানি প্রধানমন্ত্রী এ অ্যাপস চালু করেছেন। তবে আমার জানা মতে, এ উদ্বোধন পর্যন্তই শেষ। তার পরে কারো পক্ষ থেকে এ বিষয়ে শিখানো বা জানানো হয়নি।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা জানান, তারা অনেকে এ অ্যাপসটি ডাউনলোড করেছেন। তবে তারা তাদের ব্যক্তিগত ও দাফতরিক যোগাযোগ ই-মেইলেই করছেন। এছাড়া অনেকেই ফেসবুকের মাধ্যমে দূতাবাসের রাষ্ট্রদূত তথা কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলাপ করে থাকেন।

তথ্য মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, এটি একটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এ বিষয়ে আমি কিছুই বলতে পারব না। এবিষয়ে মন্ত্রী মহোদয় কিছু বলতে পারেন।


এখানে খুজুন


আরও পড়ুন