আজ বুধবার, ২০ জুন ২০১৮ ইং, ০৬ আষাঢ় ১৪২৫ বঙ্গাব্দ



প্রধানমন্ত্রী আলোচনায় আসবেন, আশা বিএনপির

Published on 03 October 2016 | 3: 50 am

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আলোচনায় আসবেন বলে আশা প্রকাশ করেছে বিএনপি। দলটি বলছে, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পিতা শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তানের শেষ জামানায় বৃহৎ রাজনৈতিক দলের একক নেতা হওয়ার পরও তৎকালীন পাকিস্তানিদের সঙ্গে বার বার আলোচনা করে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করেছেন। তাই জাতীয় নেতার কথা আমি আজকের প্রধানমন্ত্রীকে স্মরণ করিয়ে দিতে চাই।’

রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে রোববার বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে দলটির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু এ আশা প্রকাশ করেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলনের পর এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে শামসুজ্জামান দুদু বলেন, ‘গণতন্ত্র, নির্বাচন ও নির্বাচন কমিশনের ব্যাপারে আলোচনার টেবিলে বসতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে বিএনপি। আমরা মনে করি আলোচনার টেবিলই হচ্ছে সমস্যা সমাধানের সর্বোৎকৃষ্ট জায়গা। তাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাৎক্ষণিকভাবে সেই আলোচনার প্রস্তাব প্রত্যাখান করলেও বিএনপি আশা হারায়নি।’

‘আমরা প্রত্যাশা করি প্রধানমন্ত্রী তাৎক্ষণিকভাবে বিএনপির প্রস্তাব নাকচ করলেও ভেবে চিন্তে আলোচনার ব্যাপারে সাড়া দেবেন’ বলেন দুদু।

‘বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক পরিবেশ রয়েছে, বিরোধীদলগুলোর সভা-সমাবেশ করার অধিকার রয়েছে’ সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এমন বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘দেশে মত প্রকাশের স্বাধীনতা নেই। সংগঠন চালানো ও সভা-সমাবেশ করার অধিকার নেই। যার প্রমাণ, আজ রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে গেন্ডারিয়া থানা বিএনপির পক্ষ থেকে প্রতিবাদসভার করার কথা ছিল। যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি পাওয়া গেলেও পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, প্রতিবাদসভার অনুমতি বাতিল করা হয়েছে। এটাই কী গণতন্ত্র ও মত প্রকাশের স্বাধীনতা?’

তিনি বলেন, ‘জাতীয়তাবাদী দল দৃঢ়তার সঙ্গে বলতে চায়, এসবের জন্য তো বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হয়নি। এ জন্য লাখো মানুষ তাদের প্রাণ দেননি, ত্যাগ স্বীকার করেননি, রক্ত দেননি। অবৈধভাবে ক্ষমতায় এসে লাঠিয়াল বাহিনী দিয়ে ন্যূনতম অধিকার ভোগ করতে দেয়া হবে না, তা চলতে পারে না।’

দলটির ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘তারেক রহমান সরকারের অনুমতি নিয়ে চিকিৎসার জন্য বিদেশে আছেন, যেমন আছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সাদেক হোসেন খোকা। অথচ জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির উদ্দেশ্যে রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করছে সরকার। তাই আমি বিএনপির পক্ষ থেকে তারেক রহমান ও সাদেক হোসেন খোকার বিরুদ্ধে সরকারের অগণতান্ত্রিক আচরণের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।

শামসুজ্জামান দুদু সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, আমারা গণতন্ত্রের সপক্ষের মানুষ। আমরা আশা হারাই না। আমরা অব্যাহতভাবেই প্রত্যাশা করবো তার কাছ থেকে (প্রধানমন্ত্রী কাছ থেকে) তিনি আলোচনায় আসবেন। কারণ তার পিতা পাকিস্তানের শেষ জামানায় বৃহৎ রাজনৈতিক দলের একক নেতা হওয়ার পরেও সেই তৎকালে পাকিস্তানের সাথে আলোচনা করে মীমাংসা করতে চেয়েছিলেন কিন্তু সেটা কাজে আসেনি।

আমরা আমাদের সেই জাতীয় নেতার কথা প্রধানমন্ত্রীকে স্মরণ করে দিতে চাই। আলোচনার টেবিল হচ্ছে সমস্যা সমাধানের জায়গা। প্রধানমন্ত্রী হয়তো সংবাদ সম্মেলনে তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যাখ্যান করলো কিন্তু আমরা আশাবাদী শান্তভাবে তিনি চিন্তা করলে আমাদের ডাকে সাড়া দিবেন।

এর আগে রবিবার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির এই নেতা আশা প্রকাশ করেছিলেন যে বিকালের সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী নির্দলীয় সরকারের অধীনে আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ঘোষণা দিবেন। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী তা প্রত্যাখ্যান করেন।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ঢাকার জনপ্রিয় নেতা দুই বারের মেয়র  সাদেক হোসেন খোকার উপর যে অন্যায় করা হয়েছে আক্রমণ করা হয়েছে, আইনের ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে তাকে ছোট করার যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে তার প্রতিবাদে বৃহত্তম সুত্রাপুরের মানুষ ও ঢাকা মহানগরের বন্ধুরা ইঞ্জিনিয়ারিং ইন্সটিটিউটে অনুমতি নিয়ে মিটিং করতে চেয়েছিল। সেখানে যখন আমাদের নেতাকর্মীরা ব্যানার ফেস্টুন লাগাতে যায় তখন পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয় অনুষ্ঠান বাতিল করা হয়েছে। এ থেকে প্রমাণিত হয় বাংলাদেশে মত প্রকাশের স্বাধীনতা, সংগঠন করা, সভা সমাবেশ করার অধিকার নেই। আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানাই। এজন্যই বাংলাদেশ আজ প্রতিষ্ঠিত হয় নাই।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিব, অর্থ বিষয়ক সম্পাদক আ সালাম, সাংগঠনিক সম্পাদক ইমরান সালেহ প্রিন্স প্রমুখ।


এখানে খুজুন


আরও পড়ুন