আজ বুধবার, ১৫ আগষ্ট ২০১৮ ইং, ৩১ শ্রাবণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ



মণ্ডপের নিরাপত্তায় বাড়তি সিসি ক্যামেরা

Published on 03 October 2016 | 3: 40 am

বারো মাসে তের পার্বণ কথাটি হিন্দু সম্প্রদায়ের জন্য প্রচলিত থাকলেও শারদীয় বা দুর্গা পূজাই তাদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব। দেবী দুর্গা হলেন শক্তির রূপ, তিনি পরমব্রহ্ম। হিন্দু ধর্মশাস্ত্র অনুসারে দেবী দুর্গা ‘দুর্গতিনাশিনী’ বা সকল দুঃখ দুর্দশার বিনাশকারিণী। পুরাকালে দেবতারা মহিষাসুরের অত্যাচারে স্বর্গ থেকে বিতাড়িত হয়েছিল। ব্রহ্মা, বিষ্ণু ও মহেশ্বর’র শরীর থেকে আগুনের মতো তেজরশ্মি একত্রিত হয়ে বিশাল এক আলোকপুঞ্জে পরিণত হয়। ঐ আলোকপুঞ্জ থেকে আর্বিভূত হয় এক দেবী মূর্তি। এই দেবীই হলেন দুর্গা। এই শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে রাজধানীতে নেওয়া হয়েছে নজিরবিহীন নিরাপত্তা বলয়। বিশেষ করে রামকৃষ্ণ মিশন ও ঢাকেশ্বরী মন্দিরে থাকবে কঠোর নিরাপত্তা। তাছাড়া প্রতিটি পূজামণ্ডপ থাকছে নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা। স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হচ্ছে। থাকছে মেটাল ডিটেক্টরও।

এ বছর রাজধানীর ওয়ারী জোনে মোট ৬৯টি পূজামণ্ডপ প্রস্তুত হয়েছে দুর্গোৎসবের জন্য। অন্যদিকে হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা যাতে সুন্দর ও শান্তিপূর্ণভাবে দুর্গামায়ের পূজা সম্পন্ন করতে পারেন তার জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

জানা গেছে, বড় বড় পূজা মণ্ডপগুলোতে আগে থেকেই সিসি ক্যামেরা রয়েছে। বিশেষ করে ঢাকেশ্বরী, রামকৃষ্ণ মিশনে সিসি ক্যামেরা আছে। তারপরও নিরাপত্তা বাড়িয়ে মণ্ডপের আশপাশের সড়কেও স্থাপন করা হচ্ছে সিসি ক্যামেরা।

রামকৃষ্ণ মিশনের প্রধান মহারাজ অধ্যক্ষ স্বামী ধ্রুবেশানন্দ শারদীয় দুর্গাপূজা নিয়ে বলেন, আমার দেশ বাংলাদেশ, এদেশের সকল ধর্মের মানুষ নিজ ধর্মের প্রতি আনুগত্যশীল থেকেই যার যার মতো করে পূজা উদযাপন করে আসছে বহু বছর ধরে। সনাতন সকল ধর্মের মানুষ সৌহার্দ্যপূর্ণ মনোভাবের মধ্যে উৎসব পালন করে। নিরাপত্তা বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন,  ঈশ্বর সকল অশুভ শক্তিকে পরাভূত করে থাকে। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সদা তৎপর রয়েছে। তারা সবসময় পূজা উপলক্ষে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে। এখন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি না। তবুও নাশকতার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তবে সমন্বিত প্রয়াসে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নজরদারির কারণে কিছুটা স্বস্তিবোধ করছি।

নিরাপত্তার বিষয়ে রমনা জোনের উপ-পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন জানান, নিরাপত্তা নিয়ে কারো মধ্যে দ্বিমত নেই। শান্তিশৃ্ঙ্খলা ভঙ্গ করলে কাউকে বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না।

তিনি বলেন, ধর্ম যার যার উৎসব সবার। সবাই মিলেমিশে আনন্দ উৎসব করবে এটাই সবার কাছে কামনা করি।

তিনি আরও বলেন, আমরা এই জোনের প্রতিটি পূজা কমিটি, প্রতিটি মহল্লার জনপ্রতিনিধির সঙ্গে একাধিকবার মিটিং করেছি। তাদের কথা শুনেছি, তাদেরকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশ্বাস দিয়েছি সর্বোচ্চ নিরাপত্তার। তারা নিরাপত্তাহীনতার বিষয়টি চিন্তা না করলেও আমরা এটি মাথায় রেখেই নিরাপত্তা বলয়ের ছক করে রেখেছি। যাতে করে যে কোনো ধরনের নাশকতা থেকে নিরাপদ থাকা যায়।

তিনি আরও বলেন,  প্রতিটি পূজামণ্ডপে পু্লিশের পাশাপাশি আনসার সদস্য ও স্বেচ্ছাসেবক টিমও কাজ করবে। তাছাড়া আগামী ৬ অক্টোবর থেকে পুলিশের কড়া নজরদারিতে থাকবে প্রতিটি মণ্ডপ। পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মনিটরিং থাকবে সাবর্ক্ষণিক। শুধু তাই নয় পবিত্র আশুরা উপলক্ষেও ব্যাপক নিরাপত্তার বিষয়টি মাথায় রেখেই সাজানো হয়েছে নিরাপত্তার কঠিন বলয়।

অন্যদিকে ঢাকেশ্বরী মন্দির ও লালবাগের পুরো এলাকাতেও নেওয়া হয়েছে ব্যাপক নিরাপত্তা। দুর্গা পূজায় কোনো ধরনের আইনশৃঙ্খলার যাতে অবনতি না ঘটে তার জন্য প্রশাসনিকভাবেও উদ্যোগের কমতি নেই। পুরো এলাকার পূজা কমিটিও সন্তুষ্ট নিরাপত্তার বিষয়ে।

মহানগরীর পূজা কমিটির সভাপতি শ্রী ডি এন চ্যাটার্জী বলেন, প্রশাসন যে নিরাপত্তা বলয় তৈরি করেছে তাতে আমরা পূজা কমিটির সবাই অত্যন্ত খুশি। যে কোনো ধরনের জঙ্গি হামলা কিংবা নিরাপত্তার বিষয়ে আমাদের সবাই সজাগ। সরকার যে পদক্ষেপ নিয়েছে আশা করছি হিন্দু সম্প্রদায়ের সবাই শান্তিপূর্ণভাবেই উৎসব পালন করতে পারবে।

ঢাকেশ্বরী মন্দিরের নিত্য পূজারি পুরোহিত শ্রী বরুণ চক্রবর্তী বলেন, মায়ের আশীর্বাদে ভক্তরা নিরাপত্তা নিয়ে মোটেও চিন্তিত নয়। ভালোভাবেই সবাই মিলে ভ্রাতৃত্বপূর্ণভাবেই পূজা সম্পন্ন করব।

লালবাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. ইব্রাহিম খান জানান, শান্তিপূর্ণ পূজা উদযাপনে যা যা করণীয় সবই করা হচ্ছে। দুঃচিন্তার কোনো অবকাশ নেই। লালবাগ এলাকাসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে সব ধরনের নিরাপত্তা জোরদার থাকবে। পূজা মণ্ডপের স্বেচ্ছাসেবক দলও আমাদের সঙ্গে কাজ করবে। বিশেষ বিশেষ স্থানগুলোতে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হচ্ছে, থাকছে মেটাল ডিটেক্টর। অর্থাৎ মণ্ডপে পৌঁছতে হলে নিরাপত্তা বলয়ের মধ্য দিয়েই যেতে হবে। সাদা পোষাকে পুলিশ টহলও থাকবে।

তিনি আরও বলেন, এখন থেকেই মণ্ডপের আশপাশের সন্দেহজনক সকল স্থানে অভিযান শুরু করেছি। তবে জঙ্গির বিষয়টি মাথায় রেখেই সব ধরনের ব্যবস্থা আমাদের আছে।


এখানে খুজুন


আরও পড়ুন