আজ বুধবার, ২০ জুন ২০১৮ ইং, ০৬ আষাঢ় ১৪২৫ বঙ্গাব্দ



ওষুধ ছাড়াই চিকিৎসা

Published on 29 September 2016 | 11: 17 am

সুস্থতার জন্য দরকার সঠিক জীবনদৃষ্টি। সঠিক জীবনাচারের অভাবে শরীরে নানারকম রোগব্যাধি বাসা বাঁধে। তখন রোগ থেকে আরোগ্যের জন্য দরকার চিকিৎসার। বর্তমানে এলোপ্যাথির পাশাপাশি হোমিও, ইউনানী, আয়ূর্বেদ চিকিৎসার ব্যাপক ব্যবহার চলছে বিশ্বব্যাপী। চীন ও জাপানের কার্যকরি কিছু স্বয়ংসম্পূর্ণ বিকল্প চিকিৎসা পদ্ধতি রয়েছে যেখানে ওষুধের কোনো প্রয়োগ নেই। যেমন আকুপ্রেশার, আকুপাংচার, রেইকি এসব চিকিৎসার জন্য কোনো ওষুধের দরকার নেই।

রেইকি হচ্ছে জাপানের বিকল্প চিকিৎসা পদ্ধতি। মিখাও উসুই রেইকিকে আধুনিক মানুষের জীবনোপযোগী করে জনপ্রিয় করে তুলেছেন। এ চিকিৎসার মাধ্যমে মাইগ্রেন থেকে শুরু করে জটিল যে কোনো ব্যাধি থেকে নিরাময় লাভ করা সম্ভব বলে জানিয়েছেন রেইকি সেন্টার বাংলাদেশের প্রধান প্রশিক্ষক ও পরিচালক রেইকি গ্রান্ডমাস্টার এম. মহিউদ্দিন ইসলাম।

তিনি জানান, রেইকি একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ জাপানি বিকল্প চিকিৎসা পদ্ধতি। জাপানের পাশাপাশি বিশ্বের উন্নত দেশগুলোতে এখন স্পর্শ চিকিৎসা ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। এ বিষয়ে এখন গবেষণা হচ্ছে আমেরিকাসহ বিশ্বের খ্যাতনামা মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে।

রেইকি কীভাবে কাজ করে জানতে চাইলে মহিউদ্দিন ইসলাম জানান, রেইকি হচ্ছে রেডিও তরঙ্গের মতো এক ধরনের মহাজাগতিক শক্তি তরঙ্গ। যারা রেইকি চর্চা করেন তারা দুই হাতের মাধ্যমে এ শক্তি অধিকমাত্রায় গ্রহণ করতে পারেন। রেইকি শক্তি দ্বারা দীক্ষিত হওয়ার পর যখন কোনো রোগীর রোগাক্রান্ত স্থানে স্পর্শ করা হয় তখন এ শক্তি তরঙ্গ প্রবাহিত হয় তার হাতের মাধ্যমে। এ শক্তিতরঙ্গ শরীরের ব্যথা বেদনা দূরীভূত করে, রক্তক্ষরণ বন্ধ করে দেয়। এ শক্তি তরঙ্গ প্রেরণ করে কাছের ও দূরের যে কোনো দুরত্বের রোগীকেও চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব।

রেইকি চিকিৎসা গ্রহণ করে সুস্থতা লাভ করেছেন এমন কিছু ঘটনা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি জানান, আমাদের এখানে বিভিন্ন ধরনের রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন। কয়েক মাস আগে চাঁদপুর থেকে জীবন ঘোষ নামে এক রোগী আসলেন পায়ে গ্যাংগ্রিন সমস্যা নিয়ে। তার ডান পায়ের বৃদ্ধাঙুলে পঁচন শুরু হলে ডাক্তার চিকিৎসার প্রয়োজনে বৃদ্ধাঙ্গুলে সার্জারি করেন। সার্জারির পর পায়ের ঘা শুকাচ্ছিল না। পরবর্তীতে আরো দুইবার পায়ে সার্জারি করা হয়। এক পর্যায়ে তার হাঁটুর নিচের অংশ সেন্সলেস হয়ে পড়ে।

ছয় মাসের বেশি সময় ধরে চলছিল বিভিন্ন ক্লিনিকে ও হাসপাতালে তার চিকিৎসা। তবে আশানুরূপ কোনো ফল পাননি বলে জানালেন তার ছেলে প্রদীপ বাবু। পরবর্তীতে ঘা পায়ের হাড্ডি পর্যন্ত ছড়িয়ে যায়। ডাক্তার পরীক্ষা নিরীক্ষা করে জানালেন ডান পা হাঁটু থেকে নিচের অংশ কেটে ফেলে দিতে হবে। অন্যথায় তা পুরো শরীরে ছড়িয়ে পড়তে পারে। নিজের পা কে কাটতে চায় বলুন! এরই মাঝে চিকিৎসা বাবদ তার খরচ হয়ে ছিল সাড়ে পাঁচ লাখ টাকা।

রোগী এক আত্মীয়ের মাধ্যমে জানলেন রেইকি থেরাপির মাধ্যমে এ রোগ থেকে নিরাময় লাভ করা যেতে পারে, ওষুধ ছাড়া- নামমাত্র খরচে। পরবর্তীতে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করলেন। অন্য চিকিৎসার পাশাপাশি শুরু হলো রেইকি থেরাপি। ধীরে ধীরে তার পায়ের অবস্থার উন্নতি হতে লাগল। পূর্বের চলমান সকল ওষুধ সেবন বন্ধ করে দেওয়া হলো। যখন থেকে রেইকি থেরাপি প্রয়োগ শুরু হলো তখন থেকে পায়ের ঘা/পঁচন শুকাতে শুরু করল। তিনি নিজেও রেইকি শিখলেন। রেইকি শিখে নিজেকে নিজেই রেইকি প্রয়োগ শুরু করলেন। অন্যরাও তাকে নিয়মিত দূর থেকে হিলিং করতো। এক মাসের মাথায় আস্তে আস্তে পায়ের ঘা শুকিয়ে গেল। জীবন ঘোষ এখন স্বাভাবিক হাঁটা চলা করতে পারেন। তার পা এখন পুরোপুরি সুস্থ।

রেইকি প্রশিক্ষণ নেওয়ার পর নিজের উপকারের কথা জানালেন আমিনুল ইসলাম। থাকেন লালবাগে। তিনি জানান, ‘২০০২ সাল থেকে আমার পায়ের জয়েন্টে ফ্লুইড জমে হাঁটু ফুলে লাল হয়ে যেত। পায়ে প্রচণ্ড ব্যাথা করতো। ব্যথায় জ্বর এসে যেত। কখনো ডান পা ফুলে যেত আবার কখনো বাম পায়ে। তখন সিড়ি দিয়ে ওঠানামা করতে খুব অসুবিধা হতো। বসলে উঠতে পারতাম না, স্বাভাবিক চলাফেরায় বেশ অসুবিধা হতো। এর পর নিজে রেইকি শিখি। অসুস্থ স্থানে নিজেই নিজেকে রেইকি থেরাপি দেওয়া শুরু করলাম। রেইকি থেরাপি নেওয়ার প্রথম দিকে একবার আগের মতো পায়ে ব্যাথা উঠেছিল। এরপর প্রায় এক বছর হতে চলল, এখন আর আগের মতো পা ফুলে যায় না বা ব্যথাও অনুভূত হয় না। এখন আমি পুরোপুরি সুস্থ।’

রেইকির কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া আছে কী না এ বিষয়ে জানতে চাইলে রেইকি গ্রান্ডমাস্টার মহিউদ্দিন ইসলাম জানান, রেইকিতে কোনো ধরনের ওষুধ প্রয়োগ করা হয় না। আর তাই এটি পুরোপুরি নিরাপদ ও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া মুক্ত। ৭/৮ বছরের শিশু থেকে শুরু করে শত বছরের প্রবীণ যে কেউ রেইকি শিখতে পারেন। রেইকি বিষয়ে বিস্তারিত জানতে ভিজিট: www.reikicenterbd.net

 


এখানে খুজুন


আরও পড়ুন