আজ বৃহঃপতিবার, ২১ জুন ২০১৮ ইং, ০৭ আষাঢ় ১৪২৫ বঙ্গাব্দ



শুল্ক ফাঁকি : বিআরটিএর সংশ্লিষ্টতা খুঁজবে দুদক

Published on 29 September 2016 | 10: 48 am

শুল্ক ফাঁকির অভিযোগে সুনামগঞ্জে অভিযান চালিয়ে মোর্শেদ আলম বেলালের মালিকানাধীন প্রায় দুই কোটি টাকা মূল্যে বিলাসবহুল নেক্সাস কালো রংয়ের গাড়িটি আটক করেন শুল্ক গোয়েন্দারা।

গত ২৬ জুন জব্দকৃত গাড়িটিতে শুল্ক ফাঁকির প্রমাণ পাওয়া গেলেও গাড়ির রেজিস্ট্রেশনসহ অন্যান্য কাগজপত্র ছিল আসল। কাস্টম কর্তৃপক্ষের যথাযথ কাগজপত্র ছাড়াই বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ)  রেজিস্ট্রেশন করেছে।

প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হয়েছে বিআরটিএর এক শ্রেণির দুর্নীতিবাজ চক্রের সহায়তায় শুল্ক ফাঁকির উদ্দেশ্যে ভুয়া কাগজপত্রের বিপরীতে গাড়িটি রেজিস্ট্রেশন (রেজি নং-সিলেট ঘ-১১-০৩০১) ও মালিকানা স্থানান্তরিত করা হয়।

ওই জালিয়াতচক্রকে ধরতে এবার নথিপত্রসহ অভিযোগটি দু্র্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) প্রেরণ করছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মইনুল খান স্বাক্ষরিত চিঠিটি সম্প্রতি দুদকে পাঠানো হয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে ড. মইনুল খান বলেন, ‘গত ২৬ জুন তারিখে আমরা অভিযানে শুল্ক ফাঁকির অভিযোগে বিলাসবহুল নেক্সাস কালো রংয়ের গাড়িটি জব্দ করি। গাড়িটির কাগজ পত্রাদি পর্যালোচনায় দেখা যায় বিট্রিশ পাসপোর্টধারী রুপা মিয়া চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে গাড়িটি কারনেট-ডি প্যাসেজ এর সুবিধার আওতায় আমদানি করলেও বিদেশে ফেরত দেওয়া হয়নি। ফাঁকি দেওয়া হয়েছে শুল্ক-করাদি।’

তিনি বলেন, ‘আমরা গাড়ির মালিকের বিরুদ্ধে শুল্ক ফাঁকির মামলা করি। কিন্তু বিআরটিএর একটি চক্রের সহায়তায় গাড়িতে রেজিস্ট্রেশন প্রদান ও মালিকানা পরিবর্তনে জালিয়াতির আশ্রয় নেওয়া হয়েছে, যা দুদকের তফসিলভুক্ত অপরাধ। তাই বিষয়টি দুদকে প্রেরণ করা হয়েছে।’

দুদকে পাঠানো চিঠির সূত্রে জানা যায়, শুল্ক ফাঁকির অভিযোগে শুল্ক গোয়েন্দার দল সুনামগঞ্জে অভিযান চালিয়ে গত ২৬ জুন মো. মোর্শেদ আলম বেলালের মালিকানাধীন বিলাসবহুল নেক্সাস কালো রংয়ের গাড়িটি আটক করেন। পরবর্তী সময়ে গাড়িটির কাগজপত্রাদি পর্যালোচনায় দেখা যায়, বিট্রিশ পাসপোর্টধারী রুপা মিয়া চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে গাড়িটি কারনেট-ডি প্যাসেজ এর সুবিধার আওতায় আমদানি করেছেন। তবে শর্ত অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ে পরে বিদেশে ফেরতের বাধ্যবাধকতা থাকলেও তা করা হয়নি। ফাঁকি দেওয়া হয়েছে শুল্ক-করাদি।

শুধু তাই নয়, প্রযোজ্য শুল্ক ফাঁকির উদ্দেশ্যে সুকৌশলে বিআরটিএর সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতায় ভুয়া কাগজপত্রের বিপরীতে গাড়িটি রেজিস্ট্রেশন (রেজি নং-সিলেট ঘ-১১-০৩০১) ও মালিকানা স্থানান্তরিত করা হয়। বর্তমান গাড়ি মালিককে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, ২০১০ সালের ৭ অক্টোবর গাড়িটি ক্রয় করেন তিনি।

শুল্ক গোয়েন্দার অনুসন্ধানে দেখা যায়, চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের রপ্তানি শিপিং বিলের একটি ভুয়া কাগজ (শিপিং বিল নং-ওয়াইএইচসিজিএস২৬২০০৫) দিয়ে রেজিস্ট্রেশন অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, যা জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হয়। এই ধরনের জালিয়াতি দুদক আইনের তফসিলভুক্ত অপরাধ। তাই শুল্ক ফাঁকির মামলা সংশ্লিষ্ট গাড়িতে রেজিস্ট্রেশন প্রদান ও মালিকানা পরিবর্তনে জালিয়াতির অভিযোগটি সৃষ্ট তদন্তের জন্য দুদকে প্রেরণ করা যেতে পারে।

টানা ২১ দিন নজরদারির পর চলতি বছরের ২৬ জুন সুনামগঞ্জ থেকে প্রায় দুই কোটি টাকা মূল্যের কালো রঙের বিলাসবহুল লেক্সাস জিপ (আরএক্স ৩০০) জব্দ করা হয়েছিল। গাড়ির বর্তমান মালিক ৭৫ লাখ টাকার বিনিময়ে দুই বছর আগে সিলেটের এনকে করপোরেশন নামে এক গাড়ি বিক্রেতার নিকট থেকে ক্রয় করেন।

কারনেটের গাড়ির তালিকা যাচাই করে দেখা যায়, একই চেসিস ও মডেলের গাড়ি ২০১০ সালে দেশে প্রবেশ করে। গাড়িটি বর্তমানে শুল্ক গোয়েন্দার দপ্তরে রাখা হয়েছে।

 


এখানে খুজুন


আরও পড়ুন