আজ শনিবার, ২৩ জুন ২০১৮ ইং, ০৯ আষাঢ় ১৪২৫ বঙ্গাব্দ



বিভাজন আর মানহীন অনুষ্ঠান নিয়ে ৪ ঘণ্টার সম্প্রচারে

Published on 29 September 2016 | 3: 21 am

প্রত্যাশার ছয় ঘণ্টা নয়, চার ঘণ্টার স্যাটেলাইট সম্প্রচারে এলো বাংলাদেশ টেলিভিশন চট্টগ্রাম কেন্দ্র। তাও ‘পরীক্ষামূলক’। এর মধ্য দিয়ে কার্যত, কেন্দ্রটিকে একটি ‘পূর্ণাঙ্গ’ চ্যানেল করার পূর্ব ঘোষণাকে ‘অপূর্ণাঙ্গ’ই রাখা হল। যদিও গতকাল থেকে শুরু হওয়া চারঘণ্টার সম্প্রচারকে ‘স্বতন্ত্র চ্যানেল’ হিসেবে কেন্দ্রটির যাত্রা বলেই দাবি এখানকার দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের। এদিকে সম্প্রচার সময় বৃদ্ধিকে সাধুবাদ জানালেও চট্টগ্রামের সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বদের বড় একটি অংশ বলছেন, ‘এমনিতেই বিটিভি চট্টগ্রাম কেন্দ্র থেকে প্রচারিত অনুষ্ঠানের মান নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই নানা প্রশ্ন আছে। এখন স্যাটেলাইটে সম্প্রচারে যাওয়া মানেই তো সারাবিশ্ব এই অনুষ্ঠান দেখবে। এখনো যদি পূর্বের ন্যায় মানহীন অনুষ্ঠানমালা প্রচার করা হয় তা হবে বিশ্ববাসীর কাছে চট্টগ্রামের শিল্পীসমাজের বা সাংস্কৃতিক কর্মীদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার সামিল। সুবিধাভোগী একটি মহলের পাশাপাশি কেন্দ্রটির কতিপয় কর্মকর্তার ‘স্বেচ্ছাচারি মনোভাবে’র জন্য এমনটি হচ্ছে বলেও দাবি তাদের। তারা বলছেন, অনুষ্ঠানের মান বৃদ্ধির বিষয়ে খুব একটা নজর নেই এ কেন্দ্রের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের। অনুষ্ঠান নির্মাণে নির্দিষ্ট সিন্ডিকেটের বলয় থেকে বেরিয়ে আসতে না পারায় বৈচিত্র্য আসছে না নির্মিত অনুষ্ঠানগুলোতেও। সাম্প্রতিক সময়ে এ সিন্ডিকেট প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে বলেও দাবি তাদের। সিন্ডিকেট প্রথার ঊর্ধ্বে ওঠে যোগ্য ও প্রকৃত মেধাবীদের দ্বারা অনুষ্ঠান নির্মাণের উদ্যোগ না নিলে স্যাটেলাইট সম্প্রচারে এলেও এ কেন্দ্র ঘিরে শিল্পীদের হতাশা দূর হবে না। ওই সিন্ডিকেটের কারণেই চট্টগ্রামের সাংস্কৃতিক অঙ্গনের কর্মী শিল্পী সমাজে আজ বিভক্তিও লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

ছয় ঘণ্টা নয়, চার ঘণ্টার পরীক্ষামূলক সম্প্রচার : প্রতিষ্ঠার ২০ বছরে এসে পরীক্ষামূলকভাবে চার ঘণ্টার স্যাটেলাইট সম্প্রচারে এল বিটিভি চট্টগ্রাম কেন্দ্র। গতকাল বিকেল ৫ টায় এ পরীক্ষামূলক সম্প্রচারের উদ্বোধন করেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আ..ম নাছির উদ্দিন। বিটিভি সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯৬ সালের ১৯ ডিসেম্বর যাত্রা শুরু করা বিটিভির এ কেন্দ্রকে একটি পূর্ণাঙ্গ টেলিভিশন কেন্দ্রে পরিণত করার ঘোষণা দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ২০১০ সালের ৮ সেপ্টেম্বর তৃতীয় কর্ণফুলী সেতু উদ্বোধন করতে এসে এ ঘোষণা দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রীর এ ঘোষণার পর ২০১১ সালে কেন্দ্রটিকে পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্রে পরিণত করতে জন্য একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছিল। ৩৮ কোটি টাকার ওই প্রকল্পটি একই বছরের ১ ডিসেম্বর একনেকেও অনুমোদন পায়। মূলত ‘বিটিভি চট্টগ্রাম কেন্দ্রের আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ’ শীর্ষক ওই প্রকল্পের আওতায় এ কেন্দ্রকে দেড় ঘণ্টার পরিবর্তে ৬ ঘণ্টার স্যাটেলাইট সম্প্রচারে উন্নীত করার কথা ছিল। কিন্তু দীর্ঘদিনেও ছয় ঘণ্টার সম্প্রচারে আসেনি এ কেন্দ্র। তবে গত বছরের (২০১৫) ২৫ ডিসেম্বর এ কেন্দ্রকে স্বতন্ত্র চ্যানেল হিসেবে ৬ ঘণ্টার স্যাটেলাইট সম্প্রচারের তারিখও নির্ধারিত হয়েছিল। ওই সময় ঢাকা থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এর উদ্বোধন করার কথা ছিল প্রধানমন্ত্রীর। তার আগে এ বিষয়ে ৮ আগস্ট (২০১৫) একটি প্রস্তুতি সভাও হয়েছিল। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হয় নি।

পরবর্তীতে গত ১২ ফেব্রুয়ারি বিটিভি চট্টগ্রাম কেন্দ্রকে স্যাটেলাইট সম্প্রচার শুরু করা হবে বলে ঘোষণা দিয়েছিলেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু। কিন্তু সাত মাস পার হলেও সেই ঘোষণাও বাস্তবায়িত হয় নি। সর্বশেষ গত ২৫ সেপ্টেম্বর বিটিভির ডিজি চট্টগ্রাম কেন্দ্র পরিদর্শনে আসেন। তিনি চলে যাওয়ার একদিন পর থেকে পরীক্ষামূলক চার ঘণ্টার স্যাটেলাইট সম্প্রচার শুরু হয়।

ছয় ঘণ্টার পরিবর্তে চারঘণ্টার স্যাটেলাইট সম্প্রচার প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) মহাপরিচালক হারুনুর রশীদ দৈনিক আজাদীকে বলেন, এটা তো পরীক্ষামূলক। শুরু করলে তো আর শেষ করা যাবে না। তাই দেখছি কতটুকু পারছি। নিজেদের সক্ষমতা দেখতে হবে না? তাই এখন যে সম্প্রচার সেটা অনেকটা টেকনিক্যালি। পরীক্ষামূলক হওয়াতে এখন কোন অনুষ্ঠান পুনঃপ্রচারও হবে। চূড়ান্তভাবে যখন ছয় ঘণ্টার সম্প্রচারে যাব তখন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এটার উদ্বোধন করবেন। আসলে এখানে প্রপারলি জনবলও নেই। অস্থায়ী জনবল দিয়ে চলছে। জনবল বাড়ানোর জন্য সরকারের কাছে প্রস্তাবনা গেছে। দেড়ঘণ্টা সম্প্রচারের জন্য যে জনবল, তা দিয়ে তো ছয়ঘণ্টা চালানো কঠিন। তাই বলে বসে থাকলে তো হবে না। আমরা চালিয়ে নিচ্ছি।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ টেলিভিশন চট্টগ্রাম কেন্দ্রের জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) মনোজ সেনগুপ্ত গতকাল দৈনিক আজাদীকে বলেন, ২০ বছরে তো হয় নি। এখন শুরু হল। কিছুদিনের মধ্যেই ৬ ঘণ্টার সম্প্রচার শুরু হবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ৬ ঘণ্টার সম্প্রচার উদ্বোধন করবেন। ছয় ঘণ্টা সম্প্রচার শুরুর সম্ভাব্য কোন তারিখ রয়েছে কী না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এখনো কোন তারিখ চূড়ান্ত হয় নি’। বিটিভি চট্টগ্রাম কেন্দ্রের সাবেক জিএম জ্যাঁ নেসার ওসমান দৈনিক আজাদীকে বলেন, ‘আমার সময়ে টেকনিক্যাল দিক থেকে স্যাটেলাইটে আসার জন্য শতভাগ প্রস্তুত ছিল। স্যাটেলাইট সম্প্রচারে যাওয়ার জন্য আমি মাননীয় মন্ত্রীকে বলেছিলামও। কিন্তু টেরিস্ট্ররিয়াল সম্প্রচারসহ করার জন্য তখন তা করা হয় নি। এখন চার ঘণ্টার যে স্যাটেলাইট সম্প্রচার তা চাইলে ছয় ঘণ্টাও করা যায়। এটার জন্য আলাদা কোন টেকনিক্যাল প্রস্তুতিরও দরকার নেই। এক ঘণ্টায় যে খরচ হবে ছয় ঘণ্টায়ও সেই খরচ হবে। শুধু অনুষ্ঠান নির্মাণ করতে পারলেই হবে।’

এদিকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিটিভির প্রকৌশল বিভাগের এক কর্মকর্তা দৈনিক আজাদীকে বলেন, ‘টেরিস্ট্ররিয়াল সম্প্রচারের জন্য বিটিভি চট্টগ্রাম কেন্দ্রে আলাদা করে ৫টি টাওয়ার বসাতে হবে। এসব টাওয়ার বসানো মানে আলাদা প্রকল্প তৈরি করা। আলাদা প্রকল্প মানেই আর্থিক সম্পৃক্ততা। নতুন প্রকল্প হলে আর্থিকভাবে সুবিধা নেয়ার সুযোগ থাকবে। সেই বিষয়টি মাথায় রেখেই মূলত বিটিভির প্রভাবশালী একটি মহল এতদিন চায়নি এটি স্যাটেলাইটে আসুক।’

চারঘণ্টার এ সম্প্রচার প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) চট্টগ্রাম মহানগরীর সভাপতি প্রকৌশলী দেলোয়ার মজুমদার দৈনিক আজাদীকে বলেন, ‘খুব ভালো উদ্যোগ। আশা করছি খুব শীঘ্রই পূর্ব প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ছয় ঘণ্টার সম্প্রচারে উন্নীত করা হবে। একই সঙ্গে অনুষ্ঠানের মান বৃদ্ধিতেও নজর দেয়া হবে।

বিভক্ত চট্টগ্রামের শিল্পীরা :

বিটিভি চট্টগ্রাম কেন্দ্রের চারঘণ্টা অনুষ্ঠানের সম্প্রচার এমন সময়ে শুরু হল যখন অনেকটা বিভক্ত চট্টগ্রামের শিল্পীরা। অবশ্য এ কেন্দ্রকে ঘিরেই জন্ম নেয় এ বিভক্তি। এই কেন্দ্রের জন্য নির্মিত অনুষ্ঠানমালার ভাগবাটোয়ারা নিয়েই এই দ্বন্দ্ব। কেন্দ্রটিতে আধিপত্য বিস্তার নিয়েই এই দ্বন্দ্ব। এই নিয়ে বিভিন্ন সময়ে পাল্টাপাল্টি অভিযোগও করেছেন তারা। তবে এক্ষেত্রে বিভিন্ন সময়ে এ কেন্দ্রে দায়িত্ব পালন করে যাওয়া জেনারেল ম্যানেজাররাই সুযোগ নিয়েছেন সেই বিভক্তির।

বর্তমানে বিভক্ত শিল্পীদের একটি বড় অংশের দাবি, এই কেন্দ্র থেকে সর্বশেষ বদলি হওয়া জেনারেল ম্যানেজার ছিলেন জ্যাঁ নেসার ওসমান। তিনি চেষ্টা করেছিলেন এখান থেকে প্রচারিত অনুষ্ঠানগুলোর মান যেন প্রশ্নবিদ্ধ না হয় সে বিষয়ে গুরুত্ব দিতে। দীর্ঘদিন ধরে এ কেন্দ্র থেকে সুবিধা নিত এমন প্রশ্নবিদ্ধ সিন্ডিকেটটি তার (জ্যাঁ নেসার ওসমান) মেয়াদকালে বিশেষ ফায়দা নিতে পারেনি। এখন ওই প্রশ্নবিদ্ধ সিন্ডিকেটটিই বর্তমান জিএমের আস্থাভাজনে পরিণত হয়েছে। ফলে সাবেক জিএমের ঘনিষ্ট ছিলেন এমন শিল্পীরা এখন অনুষ্ঠান করার সুযোগ পাচ্ছেন না। যদিও আরেকটি অংশ এ দাবি মানতে নারাজ।

এখানে উল্লেখ্য, গত ৯ মে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব বুঝে নেন বর্তমান জিএম মনোজ সেনগুপ্ত। ওইদিন তার সাথে সাবেক জিএম জ্যাঁ নেসার ওসমানের মধ্যে বাকবিতণ্ডাও হয়েছিল।

মানহীন অনুষ্ঠান নিয়ে পুরোনো চক্রই শক্তিশালী :

এদিকে অভিযোগ আছে, ইতোপূর্বে চিহ্নিত একটি চক্রের বিরুদ্ধে চট্টগ্রামের শিল্পী, সুশীল সমাজ সাংস্কৃতিক অঙ্গনের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বিভিন্ন সময় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলেও তারাই যথারীতি সব ম্যানেজ করে আরো অনিয়ম, দুর্নীতিতে হিংস্র হয়ে ফিরে এসেছেন সাম্প্রতিক সময়ে। আবারো সংঘবদ্ধ এ চক্র সিটিভিকে দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত করেছে। ফলে এখানে মেধাবী ও যোগ্যরা যথাযথভাবে মূল্যায়িত হচ্ছে না। তাই দিনদিন কমছে অনুষ্ঠানের মান। ফলে মানহীন অনুষ্ঠানের জন্য দিন দিন দর্শকপ্রিয়তা হারাচ্ছে এ কেন্দ্র।

অভিযোগ আছে, এ দালালচক্রটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে সিটিভি’তে নিজেদের প্রভাব বিস্তার করে রেখেছেন। এরাই বিভিন্ন শর্তে অপেশাদার শিল্পীদের দিয়ে মানহীন অনুষ্ঠান নির্মাণ করান।

দীর্ঘদিন ধরেই বিটিভি চট্টগ্রাম কেন্দ্র থেকে প্রচারিত অনুষ্ঠানের মান নিয়ে প্রশ্ন আছে। সময় বৃদ্ধির সাথে অনুষ্ঠানের মান বৃদ্ধির বিষয়টি কতটা গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে? এমন প্রশ্নের উত্তরে বিটিভি’র মহাপরিচালক হারুনুর রশীদ দৈনিক আজাদীকে বলেন, ‘অনুষ্ঠানের মান প্রতিদিনই বাড়াতে হবে। এইদিকেও আমাদের নজর আছে।’

অনুষ্ঠান নির্মাণ বা বণ্টনের ক্ষেত্রে শিল্পীদের একটি অংশকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। এমন অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিতে পলিসি ঠিক করবো। আসলে আগে যখন অন্যজন ( বিটিভি চট্টগ্রাম কেন্দ্রের সাবেক জিএমের দিকে ইঙ্গিত করে) দায়িত্বে ছিলেন তখনো একটি পক্ষ দাবি করতো তাদের অনুষ্ঠান দেয়া হচ্ছে না। তারাও বিবৃতি দিত। এই বিবৃতিঅভিযোগের কোন শেষ নেই। অনেকে আমার কাছেও অভিযোগ করেন। আসলে সংক্ষিপ্ত সময়ের যে অনুষ্ঠানমালা এখন প্রচারিত হচ্ছে সেখানে সবাইকে সুযোগ দেয়াও তো সম্ভব না। সেজন্য সম্প্রচার সময় বাড়াতে হবে। তখন অনুষ্ঠানের সংখ্যাও বাড়বে। এতে সবার অংশগ্রহণও বাড়বে। সবার অংশগ্রহণ বাড়লে এখন যে অভিযোগ তাও কমে আসবে।

অনুষ্ঠানের মান বৃদ্ধির বিষয়টিকে কতটা গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম কেন্দ্রের জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) মনোজ সেনগুপ্ত গতকাল দৈনিক আজাদীকে বলেন, অনুষ্ঠানের মান অনেক ভাল। বিভিন্ন সেক্টরে চট্টগ্রামের যারা ভাল করছেন তাদের দিয়েই অনুষ্ঠান নির্মাণ করছি। যারা আবৃত্তিতে ভাল করেন তাদের দিয়েই আবৃত্তির অনুষ্ঠান হচ্ছে। যারা ভালো আলোচনা করতে পারেন তাদের দিয়েই আলোচনার অনুষ্ঠানগুলো তৈরি করা হচ্ছে। এখানে কিন্তু সবাই চট্টগ্রামের। বাইরের কাউকে দিয়ে করানো হচ্ছে না। তিনি বলেন, এখানে সবধরনের অনুষ্ঠান প্রচারের ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। সংবাদ খেলাধুলা, কৃষি, সংগীতানুষ্ঠান, নৃত্য, নাটক, পর্যটন, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক, ধর্মীয় অনুষ্ঠান, বিতর্ক, আলোচনা, টকশো, শিক্ষামূলক অনুষ্ঠান, বৈচিত্র্যময় ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর অনুষ্ঠান ও অঞ্চলভিত্তিক অনুষ্ঠান থাকবে।

তবে বিটিভি চট্টগ্রাম কেন্দ্রের জেনারেল ম্যানেজারের বক্তব্যের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেছেন চট্টগ্রাম বেতারটেলিভিশন শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক দীপেন চৌধুরী। তিনি গতকাল দৈনিক আজাদীকে বলেন, ‘স্যাটেলাইটে যাওয়া মানে বিশ্ববাসী এই কেন্দ্রের অনুষ্ঠানগুলো দেখবে। কিন্তু অনুষ্ঠানের মান তো সত্যিকার অর্থে আর্ন্তজাতিক মানের নয়। উদাহরণ টেনে যদি বলি গত দুইটি ঈদের বিশেষ অনুষ্ঠানমালা দেখে আমি একজন দর্শক হিসেবে হতাশ হয়েছি। যেখানে স্পেশাল অনুষ্ঠানের মান আশাহত করে সেখানে অন্যদিনের অনুষ্ঠান কেমন তা তো বুঝাই যাচ্ছে।’

অনুষ্ঠানের মান বৃদ্ধি না হওয়ার কারণ জানতে চাইলে দীপেন চৌধুরী বলেন, ‘এখন যিনি এই কেন্দ্রের জেনারেল ম্যানেজারের দায়িত্ব পালন করছেন তাকে একচোখা নীতি থেকে সরে আসতে হবে। দুই চোখে দেখতে হবে। চট্টগ্রাম শুধু বিপ্লবের তীর্থস্থান নয়, সংস্কৃতিরও তীর্থ স্থান। এটা তার ভুলে গেলে হবে না। একপক্ষ থেকে সরে এসে যদি সর্বজনীন না হন তাহলে এই কেন্দ্র নিয়ে সকলের মাঝে হতাশা তৈরি হবে। একপক্ষের বিষয়টি একটু স্পষ্ট করবেনএমন প্রশ্নের উত্তরে দীপেন চৌধুরী বলেন, ‘আসলে উনি এসেই শিল্পীদের মধ্যে বিভাজন তৈরি করে দিয়েছেন। অনুষ্ঠান ভাল করার জন্য উনার কোন নজর নেই। গুণী ও আলোকিত ব্যক্তিদের এখন বঞ্চিত করা হচ্ছে। উনার মানসিকতাটাই এমন, সাবেক জিএম জ্যাঁ নেসার ওসমানের সময়ে যারা অনুষ্ঠান করেছেন তাদের যেন বয়কট করা।’

শিল্পীরা যদি আগে থেকে বিভক্ত না থাকেন তাহলে একজন জিএমের পক্ষে বিভাজন তৈরি কতটুকু সম্ভবএমন প্রশ্নে দীপেন চৌধুরী বলেন, ‘জ্যাঁ নেসার ওসমান চট্টগ্রামের কাউকে বাদ দেন নি। প্রকৃত গুণীদের দিয়েই তিনি অনুষ্ঠান নির্মাণ করিয়েছেন। আসলে একটি পক্ষই জ্যাঁ নেসার ওসমানকে বয়কট করেছিল। এখন বর্তমান জিএম তাদেরকেই কাছে টানছেন।’

সিনিয়র কণ্ঠ শিল্পী অনামিকা তালুকদার বলেন,‘ প্রতিষ্ঠার পর থেকে একটি চিহ্নিত চক্রের কবলে চলে যায় বাংলাদেশ টেলিভিশন, চট্টগ্রাম কেন্দ্র। এই সিন্ডিকেট প্রোগ্রাম বেচাকেনার ধান্ধায় যুক্ত। এতে আছে শিল্পীদের একটি অংশ, প্রশাসনেরও। এরা প্রশাসনে এদের পছন্দের লোক না থাকলে আন্দোলন করে, পছন্দের লোক পেলে ধান্ধা করে। যত যোগ্যই হোক তাদের অপছন্দের শিল্পীদের অনুষ্ঠান থেকে বঞ্চিত করে। চার ঘণ্টার প্রোগ্রামও বড় একটা আর্থিক ধান্দার ব্যাপার। তাই এখানে প্রোগ্রাম ভালো কি খারাপ এটা তাদের কাছে মুখ্য বিষয় নয়। আমি দেশের প্রায় সব টিভি চ্যানেলে প্রোগ্রাম করি। কিন্তু গত কয়েক মাসে আমাকে সিটিভিতে কোন প্রোগ্রাম দেয়া হয়নি। আমার মত আরো অনেকে প্রোগ্রাম পাচ্ছেন না।’


এখানে খুজুন


আরও পড়ুন