আজ বৃহঃপতিবার, ২১ জুন ২০১৮ ইং, ০৭ আষাঢ় ১৪২৫ বঙ্গাব্দ



হেরেই গেল বাংলাদেশ

Published on 29 September 2016 | 3: 13 am

বাংলাদেশে আসার আগে থেকেই এক রকম হুমকি দিয়ে রেখেছিল আফগানিস্তান। আর বাংলাদেশে এসেই একমাত্র প্রস্তুতি বিসিবি একাদশকে হারিয়ে তারা জানিয়ে দিয়েছিল বেশ প্রস্তুতি নিয়েই এসেছে। এরপর প্রথম ওয়ানডেতে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার পর ৭ রানে হারলেও লড়াইটা চালিয়ে গিয়েছিল আফগানরা কঠিনভাবে। দ্বিতীয় ম্যাচে এসে এবার স্বাগতিকদের হারিয়েই দিল আফগানরা। ২০১৪ সালের এশিয়া কাপে প্রথম বারের মত বাংলাদেশকে হারিয়েছিল আফগানরা। আর দুই বছরের ব্যবধানে আরো একবার টাইগাররা হারল আফগানদের কাছে। গতকাল মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে আফগানিস্তান ২ উইকেটে হারিয়েছে বাংলাদেশকে।

আর আফগানদের এ জয়ের ফলে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজটা ১১ সমতায় পরিণত হলো। শেষ ম্যাচটি এখন পরিণত হয়েছে ফাইনালে। ব্যাটিং ব্যর্থতার পর দুর্বল ফিল্ডিং বাংলাদেশকে আরো একবার আফগানদের কাছে হারের লজ্জা পেতে হলো। ফলে ইংল্যান্ড সিরিজের প্রস্তুতিতে একটি ধাক্কা খেল বাংলাদেশ। যদিও এই হারের ধকল কাটিয়ে শেষ ম্যাচটি জিতে সিরিজ জিতবে বাংলাদেশ তেমনটি প্রত্যাশা সবার। আফগানরা তিন বিভাগেই শ্রেষ্ঠত্ব দেখিয়ে ম্যাচ জিতেছে। যেখানে অন্তত দুটি বিভাগে পিছিয়ে ছিল বাংলাদেশ। টসে হেরে ব্যাট করতে নামা বাংলাদেশের শুরুটা মন্দ হয়নি। আগের ম্যাচে রানের খাতা খোলার আগেই আউট হয়ে যাওয়া সৌম্য সরকার এ ম্যাচে ভালই এগিয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। কিন্তু তামিম এবং সৌম্যের জুটিটা ৪৫ রানের বেশি হলো না। তামিমকে ফিরিয়ে এ জুটি ভাঙলেন আশরাফ। ২০ রান করে ফিরেন তামিম। দলের রান ৫০ হতেই ফিরেন সৌম্য সরকারও। তিনিও করেন ২০ রান। এরপর মাহমুদুল্লাহ এবং মুশফিক মিলে চেষ্টা করেছিলেন দলকে এগিয়ে নিতে। দুজন বেশ ভালই এগিয়ে যাচ্ছিলেন। ৬১ রানের জুটিও গড়েছিলেন দুজন। কিন্তু কে জানতো এ জুটি ভাঙার পর তাসের ঘরের মত ভেঙে যাবে বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইন। ১১ রানের ব্যবধানে ফিরেন দু জনই।

মাহমুদুল্লাহর ব্যাট থেকে ২৫ আর মুশফিকের ব্যাট থেকে আসে ৩৮ রান। এরপর আর ১৯ রান যোগ করতেই ৩টি উইকেট হারায় বাংলাদেশ। তবে এক প্রান্তে অবিচল ছিলেন অভিষিক্ত মোসাদ্দেক হোসেন। অপর প্রান্তে তাকে সঙ্গ দেওয়ার মত কেউই ছিলেন না। ফলে একপ্রান্তে দাঁড়িয়ে থেকে তাকে দেখতে হয়েছে সতীর্থদের আসা যাওয়া। সতীর্থদের সহযোগিতার অভাবে ক্যারিয়ারের প্রথম ম্যাচেই হাফ সেঞ্চুরিটা পাওয়া হলোনা মোসাদ্দেকের। ৪৫ রানে অপরাজিত ছিলেন মোসাদ্দেক। তার ৪৫ বলের ইনিংসটিতে ৪টি চার এবং ২টি ছক্কার মার ছিল। শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ৪০ ওভারের ৪ বল বাকি থাকতে ২০৮ রানে অল আউট হয় স্বাগতিক বাংলাদেশ। যা আফগানিস্তানের বিপক্ষে সর্ব নিম্ন রানের ইনিংস। আফগানদের পক্ষে ৩৫ রানে ৩টি উইকেট নিয়েছেন রশিদ খান। ২টি করে উইকেট নিয়েছেন মোহাম্মদ নবি এবং আশরাফ। তবে মোহাম্মদ নবি করেছেন সবচাইতে কৃপণ বোলিং। ১০ ওভার বল করে মাত্র ১৬ রান দিয়েছেন এই আফগান স্পিনার।

২০৯ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নামা আফগান শিবিরে শুরুতেই আঘাত হানেন সাকিব। নিজের দ্বিতীয় ওভারে বল করতে এসে এক বলের ব্যবধানে ফিরিয়ে দেন নওরোজ মঙ্গল এবং রহমত শাহকে। আফগানদের সংগ্রহ তখন ১৪। সেখান থেকে দলকে টানার চেষ্টা করেন হাশমত উল্লাহ এবং মাহজাদ। অভিষিক্ত মোসাদ্দেক এসে ভাঙলেন এ জুটি। নিজের প্রথম বলে ১৪ রান করা হাশমত উল্লাহকে ফিরিয়ে ৪৫ রানের এ জুটি ভাঙেন মোসাদ্দেক। এরপর আবার সাকিবের আঘাত। এবার তিনি ফেরালেন ৩৫ রান করা শাহজাদকে। ৬৩ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে ফেলা আফগানদের এবার টেনে নিতে থাকেন অধিনায়ক আজগর এবং নবি। এ দুজন ১০৭ রানের জুটি গড়েন। শেষ পর্যন্ত এ জুটি ভাঙেন মাশরাফি। তিনি ফেরালেন মোহাম্মদ নবিকে। ৬১ বলে ৪৯ রান করেন আফগানদের সাবেক এই অধিনায়ক। ৪ রান মোসাদ্দেক নিজের দ্বিতীয় শিকার বানিয়ে ফেরান অধিনায়ক আজগরকে। তবে ফিরে আসার আগে নিজের হাফ সেঞ্চুরিটা তুলে নেন আফগান অধিনায়ক। ৯৫ বলে ৪টি চার এবং ২টি ছক্কার সাহায্যে ৫৭ রান করেন তিনি।

সাকিব তার নিজের চতুর্থ শিকার বানিয়ে রশিদ খানকে ফিরিয়ে দিলে ম্যাচে উত্তেজনা ফিরে এসেছিল। কিন্তু সে উত্তেজনা আর থাকেনি। শেষ পর্যন্ত হারানো যায়নি আফগানিস্তানকে। যদিও মোসাদ্দেকের করা ৪৭ তম ওভারে একটি স্টাম্পিং এর সুযোগ এসেছিল। কিন্তু সেটাকে কাজে লাগাতে পারেননি মুশফিক। শেষ পর্যন্ত দুই বল বাকি থাকতে জয় নিশ্চিত করে আফগানরা ২ উইকেটে। দৌলত জাদরান চার মেরে দলের জয় নিশ্চিত করে। বাংলাদেশের পক্ষে ৪৭ রানে ৪টি উইকেট নিয়েছেন সাকিব। ২টি উইকেট নিয়েছেন মোসাদ্দেক।


এখানে খুজুন


আরও পড়ুন