আজ শনিবার, ২৩ জুন ২০১৮ ইং, ০৯ আষাঢ় ১৪২৫ বঙ্গাব্দ



যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশিদের খুনে ‘উস্কানি’ও থাকতে পারে

Published on 28 September 2016 | 3: 31 am

যুক্তরাষ্ট্রে দুর্বৃত্ত হামলায় গত দুই মাসে ৪ বাংলাদেশি খুন হয়েছেন। সর্বশেষ শনিবার ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলেসের নর্থ হলিউডে আবুল কালাম রহিমকে তার দোকানে ঢুকে এক মহিলা খুব কাছ থেকে গুলি করে হত্যা করেছে।

এর আগে, গত ১৩ আগস্ট নিউইয়র্কে গুলিতে নিহত হন বাংলাদেশি ইমাম মাওলানা আলাউদ্দিন আকঞ্জি ও তার সহযোগী তারা মিয়া। ১ সেপ্টেম্বর ছুরিকাঘাতে হত‌্যা করা হয় নাজমা খানম ঝর্না নামে এক নারীকে।

২ মাসের ব্যবধানে চার বাংলাদেশি খুনের ঘটনায় স্থানীয় বাঙালি কমিউনিটির মধ্যে শোক ও আতঙ্কের ছায়া নেমে এসেছে। ৩ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশি নারী নাজমা খানম হত্যায় বিক্ষোভ করে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবাসী বাংলাদেশিরা। সেই সঙ্গে এই হত্যাকাণ্ডকে ‘হেট ক্রাইম’ উল্লেখ করে এর সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করে। তাদের তাবি ‘মুসলিম বিদ্বেষ’-এর কারণে একের পর এক হত্যা হচ্ছে। নাজমার কাছে নগদ টাকা, সেলফোন, ঘড়ি, স্বর্ণালঙ্কার সবই ছিল, কিন্তু দুর্বৃত্তরা কিছুই নেয়নি। এ জন্য এ ঘটনাকে ‘হেট ক্রাইম’ বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।

কুইন্সের ওজনপার্কে গত ১৩ আগস্ট ইমামসহ দুই বাংলাদেশি আলাউদ্দিন আকঞ্জি ও তার প্রতিবেশী তারা মিয়াকে গুলি করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। ওই ঘটনার ১৭ দিনের মধ্যে খুন হন বাংলাদেশি নারী নাজমা খানম। এ খুনের ঘটনায় সরকার উদ্বিগ্ন বলে জানিয়েছিলেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

আবারও গত শনিবার ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলেসের নর্থ হলিউডে আবুল কালাম রহিমকে তার দোকানে ঢুকে এক মহিলা খুব কাছ থেকে গুলি করে হত্যা করে। ডাকাতিতে বাধা দেওয়ার কারণেই তিনি হত্যার শিকার হন বলে প্রাথমিকভাবে পুলিশের ধারণা। তবে দোকান থেকে কিছু চুরি হয়নি। ক্যাশ বাক্স থেকেও কোনো অর্থ লুট হয়নি।

এসব হত্যায় বাংলাদেশের কূটনৈতিক ও আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরাও উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আবুল হাসান চৌধুরী বলেন, এসব ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক ও বেদনাদায়ক। অন্য কোনো দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে মন্তব্য করা অনুচিত। তারপরও আমি বলব, যেটা বলার অপেক্ষা রাখে না যুক্তরাষ্ট্রে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কোনো এক প্রার্থীর (ডোনাল্ড ট্রাম্প) কথাবার্তা এসব হত্যায় উস্কানি দিচ্ছে না এটা বলা আর সম্ভব নয়। আরো যদি সরাসরি বলতে হয়- এসব কথাবার্তার মাধ্যমে যে সমস্ত ফ্যাসিস্ট গ্রুপ বা বর্ণবাদী গ্রুপ আছে তারাও উস্কানি পাচ্ছে।

সাবেক রাষ্ট্রদূত আশফাকুর রহমান বলেন, এ সব ঘটনা সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের বিচারের মুখোমুখি করবে যুক্তরাষ্ট্র সরকার। যুক্তরাষ্ট্র একট বিশাল দেশ। উগ্রপন্থা না ব্যক্তিগত রেষারেষির ফলে এ ধরনের ঘটনা ঘটছে তা তদন্ত করে বের করার আগে বলা খুব কঠিন। তবে যেহেতু যুক্তরাষ্ট্রে নিহতরা ৪ জনই বাংলাদেশি তাই সরকারের পক্ষ থেকে উদ্বেগ জানানো হবে বলে আমি মনে করি।


এখানে খুজুন


আরও পড়ুন