আজ মঙ্গলবার, ১৯ জুন ২০১৮ ইং, ০৫ আষাঢ় ১৪২৫ বঙ্গাব্দ



অস্তিত্ব সঙ্কটে সার্ক!

Published on 28 September 2016 | 3: 27 am

বাংলাদেশ ও ভারতসহ চার চারটি সদস্য রাষ্ট্র যোগ দিতে অসম্মতি জানানোয় স্থগিত হয়ে গেল নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় ১৯তম সার্ক শীর্ষ সম্মেলন। ফলে আবারও গভীর সঙ্কটে পড়ল দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতার এ সংস্থাটি। এতে সংস্থাটি অস্তিত্ব বিলীনের দিকে যাচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। আর এ জন্য মূলত পাকিস্তানকেই দায়ী করছেন তারা।

পাকিস্তানের ইসলামাবাদে নভেম্বরের ৯ ও ১০ তারিখে এবারের সার্ক শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। তবে সার্কের নিয়ম অনুযায়ী, যে কোনো একটি সদস্য রাষ্ট্র অংশ না নিলে সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় না। কিন্তু এবার চার চারটি রাষ্ট্র অংশ নিতে অসম্মতি জানানোয় এ সম্মেলন বাতিল হওয়ার কেবল আনুষ্ঠানিক ঘোষণাটুকুই বাকি।

ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের সেনা সদর দফতরে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় ভারত ও পাকিস্তানের সম্পর্কের টানাপোড়েন সৃষ্টি হয়। এর জেরে পাকিস্তানের ইসলামাবাদে সার্ক শীর্ষ সম্মেলনে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারত। ওই হামলার জন্য পাকিস্তানকেই দায়ী করে আসছে ভারত।

এর আগে বাংলাদেশও পাকিস্তানে সার্ক শীর্ষ সম্মেলনে না যাওয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানায়। একই সিদ্ধান্ত জানিয়েছে অপর সদস্যদেশ আফগানিস্তান ও ভুটানও।

এ বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন কূটনীতিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে সাংবাদিকদের জানান, সার্ক সম্মেলন বাতিল হওয়া অত্যন্ত হতাশার। ইসলামাবাদের শীর্ষ সম্মেলনে বেশ গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত আশা করা হচ্ছিল। যা দক্ষিণ এশিয়াকে একসূত্রে গাঁথার লক্ষ্যকে এগিয়ে নিয়ে যেত। বলা যায়, সার্ক অনিশ্চয়তার দিকে এগিয়ে গেল।

সম্প্রতি যুদ্ধাপরাধের বিচার নিয়ে পাকিস্তানের হস্তক্ষেপ, জঙ্গিবাদে সহযোগিতার দায়ে ঢাকায় পাকিস্তান দূতাবাসের এক কূটনীতিককে বহিষ্কার ও পরে কর্মকর্তাকে আটক। একের পর এক এ সব ঘটনায় ঢাকা-ইসলামাবাদ সম্পর্ক কঠিন হয়ে ওঠে।

এরই পরিপ্রেক্ষিতে ইসলামাবাদে সার্ক শীর্ষ সম্মেলনে না যাওয়ার কথা জানায় বাংলাদেশ।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম জানান, আভ্যন্তরীণ ব্যস্ততার কারণে বাংলাদেশ এবার সার্ক সম্মেলনে যোগ দিতে পারবে না বলে সার্ক সেক্রেটারিয়েট ও সংস্থার বর্তমান সভাপতিকে জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

এদিকে নরেন্দ্র মোদি ভারতের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফের জন্মদিনে হঠাৎ উপস্থিত হয়ে সারপ্রাইজ, কূটনীতির মাধ্যমে দেশটির সঙ্গে সম্পর্ক সহজীকরণের চেষ্টা করলেও বেশ কিছুদিন ধরে দু’দেশের মধ্যে আবারও মাথা চাড়া দিয়ে উঠেছে কাশ্মীর ইস্যু। যা নিয়ে দেশ দু’টিতে রীতিমত যুদ্ধ পরিস্থিতি বিরাজ করছে। এমন অবস্থায় পাকিস্তানে সার্ক সম্মেলনে যোগ না দেওয়ার কথা জানাল ভারত।

বাংলাদেশ ও ভারতের মতো আফগানিস্তান ও ভুটানও সার্ক সম্মেলনে যোগ দিচ্ছে না বলে ঘোষণা দিয়েছে। সার্কের আট সদস্যের চারটি দেশই পাকিস্তানে অনুষ্ঠেয় এ সম্মেলনে যোগ দিতে অসম্মতি জানাল। সার্কের অন্য সদস্য দেশগুলো হলো—শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ ও নেপাল।

নেপালের সার্ক সেক্রেটারিয়েট সূত্রে জানা গেছে, সার্কের অধিকাংশ সদস্য দেশ অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত জানানোয় সার্কের বর্তমান চেয়ারম্যান নেপালকে সম্মেলন স্থগিতের সিদ্ধান্তই নিতে হবে। এখন আনুষ্ঠানিক ঘোষণাটুকু বাকি।

এর আগেও দু’দেশের মধ্যে কার্গিল যুদ্ধকে কেন্দ্র করে ১৯৯৯ থেকে ২০০২ সাল পর্যন্ত সার্ক শীর্ষ বৈঠক স্থগিত রাখতে হয়েছিল। যা দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোকে একসূত্রে গাঁথার লক্ষ্য পূরণে প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়ায়। দক্ষিণ এশিয়ার এ জোটটি গঠিত হয় ১৯৮৫ সালে।

বিশ্লেষকেদের মতে, শুরু থেকেই মূলত ভারত-পাকিস্তানের বৈরিতার কারণেই কার্যত সক্রিয় হতে পারেনি সংস্থাটি। তবুও সব বৈরিতা কাটিয়ে মন্থর গতিতে হলেও যতটুকু এগিয়ে চলছিল, এবার সেটিও অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ হয়ে গেল। যা সংস্থাটিকে বিলীন করতে পারে।

তবে দ্বিপাক্ষিক এ ইস্যুকে কেন্দ্র করে সার্কের মতো সংস্থাকে প্রভাবিত করা ঠিক হবে না বলে মত দিয়েছেন তারা।

এ বিষয়ে সাবেক রাষ্ট্রদূত মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘কিছুদিন ধরেই বাংলাদেশ-পাকিস্তান সম্পর্ক খারাপ যাচ্ছিল। তবে হঠাৎ করেই ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কও তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। শুরু থেকেই ভারত-পাকিস্তানের কারণে সার্ক অচল হয়ে আছে। এবারের সম্মেলন বাতিল হওয়াটাও তাদের কারণে। তার মতে, এ অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর জন্য অন্যতম প্লাটফর্ম হলো সার্ক। অথচ পাকিস্তানের কারণে সেই সংস্থাটি বিলীনের দিকে এগুচ্ছে।

এ বিষয়ে বিএনপি সরকারের সাবেক পররাষ্ট্র সচিব শমসের মবিন চৌধুরী বলেন, ‘দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক যদি বৈরী থেকেও থাকে তারপরও এর শিকার সার্কের হওয়াটা ঠিক হবে না। দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা বাড়াতে সার্ক অন্যতম প্লাটফর্ম। সম্পর্কের উত্থান-পতন, চড়াই-উতরাই থাকতেই পারে। তারপরও সার্ককে সবকিছুর ঊর্ধ্বে রাখতে হবে।’


এখানে খুজুন


আরও পড়ুন