আজ শনিবার, ২৩ জুন ২০১৮ ইং, ০৯ আষাঢ় ১৪২৫ বঙ্গাব্দ



বেসরকারি শিক্ষক নিয়োগ-সেবা এখন তালাবন্দি

Published on 28 September 2016 | 3: 14 am

তালাবন্দি হয়ে পড়েছে বেসরকারি শিক্ষক নিয়োগের সেবা। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রতিদিন শত শত চাকরি প্রত্যাশী বিভিন্ন ধরনের তথ্য জানতে শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) অফিসে ভিড় করলেও কেউ ভেতরে প্রবেশ করতে পারছেন না। অফিসের গেট থেকেই তাদের ফিরে যেতে হচ্ছে।

সাংবাদিকদের সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যানও কথা বলেন না। উল্টো তিনি ডেকে আনেন পুলিশ। মঙ্গলবার রাজধানীর নিউমার্কেট এলাকার নায়েম ক্যাম্পাসে অবস্থিত এনটিআরসিএ অফিসে গিয়ে এমন চিত্র দেখা গেছে।

এনটিআরসিএ অফিসে তথ্য জানতে মঙ্গলবার শরীয়তপুর থেকে এসেছিলেন নাসির উদ্দিন। এসময় তিনি বলেন, এক মাস আগে নদীভাঙনে আমাদের বাড়িঘর পদ্মায় বিলীন হয়েছে। এখন এলাকা ছেড়ে ফরিদপুরে বসবাস করছি। শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার একটি কলেজে প্রভাষক পদে নিয়োগের জন্য আবেদন করেছি। নিয়ম অনুযায়ী নিজ উপজেলার প্রার্থীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। নদীভাঙনের কারণে ঠিকানা পরিবর্তন করা যাবে কিনা তা জানতে এসেছিলাম। দুই ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকে অনেক অনুরোধ করেও অফিসের ভেতরে প্রবেশ করতে পারিনি।

গাজীপুর থেকে আসা রুহুল আমিন অভিযোগ করেন, ১২তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় প্রভাষক পদে ৮২ নম্বর পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছি। নিজ উপজেলার কোনো কলেজে আমার বিষয়ে প্রভাষক পদ শূন্য নেই। এখন অন্য কলেজে নিয়োগ পাবো কিনা তা জানার জন্য এসেছিলাম। সকাল থেকে অপেক্ষা করেও ভেতরে ঢুকতে পারিনি।

টাঙ্গাইল থেকে আসা মাহমুদুল হাসান অভিযোগ করেন, ১৩তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার ফল কবে দেবে তা জানতে এসেছিলাম। কিন্তু ভেতরে ঢোকা তো দূরের কথা লিফট থেকে নামার পর দাঁড়ানোর জায়গাও পেলাম না। বাধ্য হয়ে চলে যেতে হচ্ছে। অথচ জামালপুর-৪ আসনের এমপির এপিএস পরিচয় দেওয়ার পর একজনকে ভেতরে ঢুকতে দেওয়া হয়েছে।

রোকসানা পারভিন নামে একজন অভিযোগ করেন, প্রভাষক পদে আবেদন করার পরে আমার বিয়ে হয়েছে। আবেদনে ঠিকানা সংশোধন করে স্বামীর ঠিকানা দেওয়া যাবে কিনা তা জানতে এসেছিলাম। অনেক অনুরোধ করার পরও অফিসের ভেতরে ঢুকতে দেয়নি। অথচ পিএসসির মাধ্যমে বিসিএস পরীক্ষার আবেদন সংশোধনের সুযোগ আছে।

ফরিদপুর থেকে সনদ তুলতে এসেছিলেন বিধান নামের একজন। তিনিও কয়েক ঘণ্টা অপেক্ষা করে ভেতরে ঢুকতে না পেরে সনদ ছাড়াই ফিরে যান। তিনি বলেন, অফিসের অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে কর্মকর্তারা জেলের মধ্যে আছেন। আর আমরা তাদের সঙ্গে দেখা করতে এসেছি।

ভুক্তভোগীরা মোবাইল ফোনে সাংবাদিকদের জানালে সাংবাদিকরা যান নায়েম ক্যাম্পাসের একটি ভবনের পাঁচতলায় অবস্থিত এনটিআরসিএর অস্থায়ী অফিসে। লিফট থেকে নামার জায়গায়ও ফাঁকা ছিল না। লিফটের পর সামান্য জায়গা রেখে অফিসে প্রবেশের পথ আটকে কলাপসিবল গেট লাগানো হয়েছে। গেটে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে বিশাল বিশাল ৪টি তালা। লিফট আর গেটের মধ্যে সামান্য জায়গায় কয়েকজন দাঁড়িয়ে অনুরোধ করছেন ভেতরে ঢোকার। অফিসের নোটিস বোর্ড ও তথ্যকেন্দ্রও গেটের ভেতরে। যে কারণে কারো পক্ষে তথ্য জানার সুযোগ নেই।

সাংবাদিকরা নিজেদের পরিচয় দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করতে চাইলে গেটে দাঁড়িয়ে থাকা নিরাপত্তারক্ষী তসলিম বলেন, অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারী ছাড়া কারো ভেতরে প্রবেশ নিষেধ। চেয়ারম্যান স্যার দেড় বছর ধরে এ নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন। সাংবাদিকরা ভিজিটিং কার্ড চেয়ারম্যানকে দেওয়ার জন্য বললে তিনি কয়েক কর্মকর্তাকে ডেকে আনেন। তারাও এসে বলেন, ভেতরে ঢোকা যাবে না। চেয়ারম্যান স্যার কারো সঙ্গে দেখা করেন না। ভেতরে ঢোকা নিয়ে এক পর্যায়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে তারা তর্কে জড়িয়ে পড়েন। এক পর্যায়ে অফিসের ভেতরে গিয়ে কিছু সময় পর ফিরে এসে বলেন, এবার দেখবেন মজা। এর কিছু সময় পর ঘটনাস্থলে হাজির হন নিউমার্কেট থানার এসআই আবুল। তিনি ভেতরে ঢুকে ফিরে এসে বলেন, চেয়ারম্যান স্যার কারো সঙ্গে দেখা করবেন না। এ ব্যাপারে এনটিআরসিএর চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত সচিব) এ এম এম আজাহারের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে ‘ব্যস্ত’ আছেন বলে লাইন কেটে দেন।


এখানে খুজুন


আরও পড়ুন