আজ শনিবার, ২৩ জুন ২০১৮ ইং, ০৯ আষাঢ় ১৪২৫ বঙ্গাব্দ



সাংবাদিকদের বললেন জেলা প্রশাসক।। ভালো কাজে পাশে থাকুন

Published on 27 September 2016 | 4: 17 am

জনগণের প্রত্যাশিত স্বচ্ছ প্রশাসন গড়তে সাংবাদিকদের সহযোগিতা চাইলেন চট্টগ্রামে সদ্য যোগ দেয়া জেলা প্রশাসক সামসুল আরেফিন। তিনি বলেন, আপনারা (সাংবাদিকরা) সমাজের দর্পণ। আপনাদের মাধ্যমে কোথায় কি হচ্ছে তা জানতে পারি। আমরা সমাজের জন্য কাজ করি। সমাজের কোথায় কি হচ্ছে তা আপনারা তুলে আনেন। এতে কাজ করতে সহজ হয়। আমরা জনগণের চাহিদা অনুযায়ী স্বচ্ছ প্রশাসন নিশ্চিত করতে চাই। এজন্য আপনাদের সহযোগিতা চাই। আশা করছি আমরা একযোগে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করবো। গতকাল জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সাংবাদিকদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। সভায় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) অনুপম সাহা, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সভাপতি কলিম সরওয়ারসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় সাংবাদিকরা সদ্য বিদায়ী জেলা প্রশাসক মেজবাহ উদ্দিনের ইতিবাচক কাজগুলোর ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে কি না জানতে চাইলে জেলা প্রশাসক সামসুল আরেফিন বলেন, সাবেক জেলা প্রশাসক যেসব ভালো কাজ করেছেন তার ধারাবাহিকতা অবশ্য বজায় রাখার চেষ্টা করবো। এ সময় তিনি বলেন, চট্টগ্রাম কমার্শিয়াল রাজধানী, বন্দর নগরী। আপনাদের (সাংবাদিক) বক্তব্য শুনে বোঝা গেল, এই জেলা বাংলাদেশের সর্বোচ্চ শিখরে উঠুক এটাই আপনারা প্রত্যাশা করেন। আপনাদের প্রত্যাশা পূরণে সরকারও কাজ করছে। সরকারের ভিশন বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই আমি কাজ করে যাবো। সভায় সাংবাদিকরা নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে গণপরিবহনের নৈরাজ্য বন্ধ ও কর্ণফুলী নদী রক্ষাসহ বিভিন্ন বিষয়ে জেলা প্রশাসকের সহযোগিতা চান।

সাংবাদিকদের বিভিন্ন পরামর্শের প্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসক বলেন, বর্তমানে ম্যাজিস্ট্রেট সংকট রয়েছে। ১৯ জন ম্যাজিস্ট্রেট প্রশিক্ষণে আছেন। নতুন ম্যাজিস্ট্রেট পদায়নের জন্য আমি লিখব। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যমূল্য স্বাভাবিক রাখাসহ বিভিন্ন বিষয়ে নিয়মিত অভিযান চালানো হবে। সভায় নগরীর বিভিন্ন রেস্টুরেন্টে খাবারের বিলের সঙ্গে নেয়া ‘সরকারি ভ্যাট’ আদৌ সরকারের কোষাগারে জমা হচ্ছে কি না তা খতিয়ে দেখতে জেলা প্রশাসনকে অনুরোধ করেন সাংবাদিকরা। এ প্রসঙ্গে জেলা প্রশাসক বলেন, সরকারের ইলেক্ট্রনিক ক্যাম প্রকল্প রয়েছে। এই বিষয়টি যদি নিশ্চিত করা যায় তাহলে ওই ভ্যাট রাষ্ট্রীয় কোষাগারে যাচ্ছে কি না তা বোঝা যাবে। আসন্ন নতুন শিক্ষাবর্ষে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি বাণিজ্য, বর্ধিত বেতন ফি নেয়াসহ কোন ধরনের অনিয়ম যাতে না হয় সে বিষয়টিও নজরদারিতে রাখার ঘোষণা দেন নতুন এ জেলা প্রশাসক। কর্ণফুলী নদী সংরক্ষণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, কর্ণফুলী নদীকে দখলমুক্ত করতে বড় বাজেটের প্রয়োজন। সেই বিষয়টি আমরা সরকারকে জানাবো। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) . অনুপম সাহা বলেন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি গত রমজানে প্রথমবারের মত কাপড়ের দোকানেও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেছিল জেলা প্রশাসন। এই ক্ষেত্রে মিডিয়া সহযোগিতা করেছিল। চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সভাপতি কলিম সরওয়ার বলেন, আমরা আশা করছি আপনার সময়ে চট্টগ্রামে অনেক ভালো কাজ হবে। আপনার সবগুলো ভালো কাজের সঙ্গে থাকবো আমরা। মতবিনিময় সভায় চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী ফরিদ, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক সৈয়দ আলমগীর সবুজ, চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক স্বরূপ ভট্টাচার্যসহ চট্টগ্রামে কর্মরত বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

জেলা প্রশাসকের সাথে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ নেতৃবৃন্দের সাক্ষাৎ : গতকাল জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ চট্টগ্রাম জেলা ইউনিট কমান্ড, মহানগরী ইউনিট কমান্ড ও চট্টগ্রাম জেলার সকল উপজেলা কমান্ডের সাথে চট্টগ্রামের নবাগত জেলা প্রশাসকের দায়িত্ব গ্রহণে মো. সামসুল আরেফিন এর সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। সৌজন্য সাক্ষাতের প্রারম্ভে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, তাঁর পরিবার, জাতীয় চারনেতা ও মুক্তিযুদ্ধে শাহাদাৎ বরণকারী মুক্তিযোদ্ধা ও ৩০ লক্ষ শহীদের আত্মার মাগফিরাত ও শান্তি কামনায় ১ মিনিট দাঁড়িয়ে নীরবতা পালন শেষে উপস্থিত সকল মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে জেলা প্রশাসক মো. সামসুল আরেফিন পরিচিত হন। এরপর চট্টগ্রাম জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) . অনুপম সাহা ধন্যবাদ জানিয়ে জেলা, মহানগর ও উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডারগণকে বক্তব্য রাখার অনুরোধ জানালে জেলা কমান্ডার মো. সাহাব উদ্দিন তার বক্তব্য উপস্থাপন করেন। জেলা কমান্ডার সাহাব উদ্দিন তার বক্তব্যে নবাগত জেলা প্রশাসককে দায়িত্ব গ্রহণে অভিনন্দন ও ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, আমরা চট্টগ্রামের সকল মুক্তিযোদ্ধা ও চট্টগ্রামবাসী জেলা প্রশাসক হিসেবে আপনার যোগদানে অত্যন্ত আনন্দিত। আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি আপনার গতিশীল নেতৃত্বে চট্টগ্রামবাসী অতীতের ন্যায় সৎ, যোগ্য ও জনবান্ধব জেলা প্রশাসন উপহার দেবেন। জেলা কমান্ডার মো. সাহাব উদ্দিন চট্টগ্রামে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি স্তম্ভ নির্মাণের দাবি পোষণ করে বলেন, আমরা চট্টগ্রামের মুক্তিযোদ্ধারা অনেক আশাবাদী। চট্টগ্রাম মহানগরে একটি মহানগর মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স নির্মাণের দাবি জানান। জেলা কমান্ডার যথাযথ সম্মানের সাথে প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধাদের গার্ড অব অনার প্রদান, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মুক্তিযোদ্ধাদের সুচিকিৎসার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাকরণ, প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধাদের স্ত্রীর নামে মুক্তিযোদ্ধাভাতা প্রতিস্থাপনে দীর্ঘসূত্রতা, মুক্তিযোদ্ধা সন্তানদের সরকারি চাকরি বিশেষ করে রেল. বন্দর ও পেট্টোলিয়াম কর্পোরেশনে যাতে সরকার ঘোষিত ৩০% কোটা সংরক্ষণ করে তার প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান, হাটবাজারের ৪% টাকা সরকারের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী বিলি বণ্টনের নির্দেশনা প্রদানে নবাগত জেলা প্রশাসকের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। আগামী প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস সম্পর্কে অবহিতকরণের লক্ষে স্কুল, কলেজ সমূহে স্মৃতিচারণ অনুষ্ঠান আয়োজনেরও অনুরোধ জানান। মহানগর কমান্ডার মোজাফফর আহমদ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মুক্তিযোদ্ধারা নানা হয়রানি ও চিকিৎসাব সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে উল্লেখ করে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে নবাগত জেলা প্রশাসককে অনুরোধ জানান। জেলা প্রশাসক বলেন, মুক্তিযোদ্ধারা দেশকে ভালোবেসেই বঙ্গবন্ধুর আহ্বানে মুক্তিযুদ্ধে জীবনবাজি রেখে অংশগ্রহণ করেছিলেন। তাঁদের অবদানই আজকের এই বাংলাদেশ। তাই রাষ্ট্রের কর্তব্য মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানিত করা। সৌজন্যে সাক্ষাতে আরো বক্তব্য রাখেন, জেলা কমান্ডের ডেপুটি কমান্ডার মাহবুল আলম চৌধুরী, মহানগর কমান্ডের ডেপুটি কমান্ডার শহীদুল্লাহ চৌধুরী সৈয়দ, সাতকানিয়া উপজেলা কমান্ডার আবু তাহের, বোয়ালখালী উপজেলা কমান্ডার মো. হারুন মিয়া, মহানগর কমান্ডের সহকারী কমান্ডার আকবর খান। সৌজন্য সাক্ষাৎকালে আরো উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক রাজস্ব আবদুল জলিল, জেলা কমান্ডের ডেপুটি কমান্ডার এ.কে.এম. সরওয়ার কামাল, ক্রীড়া কমান্ডার বদিউজ্জামান, দপ্তর কমান্ডার এ.কে.এম. আলাউদ্দিন, শ্রম ও জনশক্তি কমান্ডার রশিদ কামাল সিদ্দিকী, তথ্য ও পাঠাগার কমান্ডার বোরহান উদ্দিন, সমাজকল্যাণ কমান্ডার আবদুল জলিল চৌধুরী, সদস্য একরামুল হক, সেকান্দর আলম চৌধুরী, মহানগর কমান্ডের দপ্তর কমান্ডার নৌ কমান্ডার মো: হোসেন, সাংগঠনিক কমান্ডার পাল্টু লাল সাহা, সহকারী কমান্ডার আকবর খান, সহকারী কমান্ডার খোরশেদ আলম, পটিয়া উপজেলা কমান্ডার মো: মহিউদ্দিন, রাঙ্গুনিয়া উপজেলা কমান্ডার খায়রুল বশর, রাউজান উপজেলা কমান্ডার আবু জাফর চৌধুরী, লোহাগাড়া উপজেলা কমান্ডার আকতার আহমদ সিকদার, হাটহাজারী উপজেলা কমান্ডার নুরুল আলম, চন্দনাইশ উপজেলা কমান্ডার জাফর আলী হিরু, সীতাকুন্ড উপজেলা ডেপুটি কমান্ডার হাবিবুর রহমান চৌধুরী, আনোয়ারা উপজেলা ডেপুটি কমান্ডার ফজল আহমদ, মীরসরাই উপজেলা সাংগঠনিক কমান্ডার, সদরঘাট থানা কমান্ডার মো: জাহাঙ্গীর, খুলশী থানা কমান্ডার মো: ইউসুপ, কোতোয়ালী থানা কমান্ডার সুরেন্দ্র নাথ সেন, চান্দগাঁও থানা কমান্ডার কুতুব উদ্দিন, পতেঙ্গা থানা কমান্ডার এমরান গাজী, বন্দর থানা কমান্ডার কামরুল ইসলাম, বাকলিয়া থানা কমান্ডার আলী হোসেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা উদয়ন নাথ, আহমেদ হোসেন, সামসুদ্দৌহা আলী, তপন দস্তীদার, রেল কমান্ডার লোকমান হোসেন, দিলন চন্দ্র ধর, তাজুল ইসলাম প্রমুখ।


এখানে খুজুন


আরও পড়ুন