আজ রবিবার, ২৭ মে ২০১৮ ইং, ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ



‘রাজাকারপুত্র’কে মনোনয়ন দিয়ে পদ হারিয়েছেন মৎস্যমন্ত্রী

Published on 26 September 2016 | 3: 10 am

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আওয়ামী লীগের কার্যকরী পরিষদের এক সভায় শুক্রবার রাতে উপদেষ্টার পদ থেকে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী অ্যাডভোকেট ছায়েদুল হককে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা এই মন্ত্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগ তিনি গত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থী মনোনয়নের বেলায় আর্থিক লেনদেন করেছেন, দলীয় নির্দেশ অমান্য করেছেন। এ ছাড়া মুক্তিযোদ্ধাদের আপত্তি থাকার পরও এক রাজাকারপুত্রকে মনোনয়ন দিয়েছেন।

জানা যায়, তৃণমূল আওয়ামী লীগ থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা ছায়েদুল হক এবং নাসিরনগর থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠায় নড়েচড়ে বসে জেলা কমিটি। অভিযোগের বিভিন্ন বিষয় জানতে চেয়ে জেলা কমিটির পক্ষ থেকে মন্ত্রীকে কারণ দর্শানো চিঠি দেওয়া হয়। কিন্তু তিনি চিঠির জবাব দেননি। এ কারণে তাকে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মোহাম্মদ শাহ আলম পরিবর্তন ডটকমকে বলেন, ওই সভায় (জেলা আওয়ামী লীগের কার্যকরী পরিষদের শুক্রবারের সভা) আমি উপস্থিত ছিলাম। তবে এর আগে ৭ মাস দেশের বাইরে থাকায় আগের বিষয়গুলো আমি অতটা জানি না।

সাবেক এই সংসদ সদস্য বলেন, যেটুকু শুনেছি তা হলো- মন্ত্রী বিভিন্ন স্থানে বিগত ইউপি নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীদের টাকার বিনিময়ে মনোনয়ন দিয়েছেন বলে অভিযোগ ছিল। এ বিষয়ে জেলা আওয়ামী লীগ চিঠি (কারণ দর্শানো নোটিশ) দিয়েছিল তিনজনকে। তিনি (মন্ত্রী) চিঠির উত্তর দেননি, তবে নাসিরনগর থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক জবাব দিয়েছেন। এর মধ্যে সাধারণ সম্পাদকের জবাবে সবাই সন্তুষ্ট, কিন্তু সভাপতিকে আবার জবাব দিতে বলা হয়েছে।

পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার বিষয়ে মন্ত্রী ছায়েদুল হকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তার মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। এছাড়া তার ব্যক্তিগত সহকারী মিজানুর রহমানের নাম্বারও বন্ধ রয়েছে।

জেলা আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা পরিবর্তন ডটকমকে জানান, গত ২৩ এপ্রিল নাসিরনগরের হরিপুর ও গুনিয়াউক ইউনিয়নে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনের আগে ওই দুই ইউনিয়নের দল মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থীর বিরুদ্ধে কাজ করেন মন্ত্রী।

জানা যায়, নাসিরনগরে প্রার্থী মনোনয়ন দিতে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি র আ ম ওবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক আল মামুন সরকারসহ ছয় সদস্যের মনোনয়ন বোর্ড ছিল। কিন্তু সভাপতি-সাধারণ সম্পাদককে ছাড়াই দুই ইউনিয়নে প্রার্থী চূড়ান্ত করেন মন্ত্রী।

তার মনোনীত হরিপুর ইউনিয়নের প্রার্থীকে রাজাকারপুত্র দাবি করে আপত্তি জানিয়েছিল জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ। আর গুনিয়াউক ইউনিয়নে মন্ত্রী তার ভাগ্নে হুমায়ুন কবির দরবেশকে মনোনয়ন দিলে দলের জনপ্রিয় একজন প্রার্থী বঞ্চিত হন বলে অভিযোগ।

এ দুটি ইউনিয়নের প্রার্থী নিয়ে সমালোচনার পর জেলা আওয়ামী লীগ অন্য দুই প্রার্থীকে মনোনয়ন দেয়। আর এতে ক্ষুব্ধ হয়ে মন্ত্রী ওই প্রার্থীদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন বলে জানিয়েছে জেলা আওয়ামী লীগের নেতারা।

ওই নির্বাচনের আগে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আল মামুন সরকার এক সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেন, মন্ত্রী বিএনপি প্রার্থীদের পক্ষে অবস্থান নিয়ে স্থানীয় প্রশাসনকে দিয়ে দলীয় প্রার্থীদের হয়রানি করছেন।

দলীয় নেতারা জানান, নির্বাচনের আগেই দল মনোনীত প্রার্থী ও তাদের কর্মীদের নানাভাবে হয়রানি করে স্থানীয় পুলিশ। আর এজন্য অভিযোগের তীর যায় মন্ত্রীর দিকে, যা ক্ষুব্ধ করে জেলা আওয়ামী লীগকে।

মন্ত্রীকে অব্যাহতির বিষয়ে উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী বলেন, নির্বাচনে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করার অভিযোগ তাকে উপদেষ্টা পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।


Advertisement

আরও পড়ুন