আজ শনিবার, ১৮ আগষ্ট ২০১৮ ইং, ০৩ ভাদ্র ১৪২৫ বঙ্গাব্দ



বাংলাদেশে বিনিয়োগে চীনা উদ্যোক্তাদের প্রতি আহ্বান

Published on 23 September 2016 | 4: 33 am

বাংলাদেশে বিনিয়োগের জন্য চীনের উদ্যোক্তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) নেতারা। চীনা উদ্যোক্তারাও বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।

বৃহস্পতিবার মতিঝিলে ডিসিসিআইর কার্যালয়ে সংগঠনটির পরিচালনা পর্ষদ এবং চীনা বাণিজ্য প্রতিনিধিদলের মতবিনিময় সভায় বিনিয়োগের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

চীনের কুনমিং প্রদেশের চেংগং নিউ ডিস্ট্রিক অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ কমিটির উপ-নির্বাহী পরিচালক লি রংহাউর নেতৃত্বে ছয় সদস্যের প্রতিনিধিদল বাংলাদেশ সফর করছে।

ডিসিসিআইর পরিচালক এ কে ডি খায়ের মোহাম্মদ খান, আসিফ এ চৌধুরী, মো. আলাউদ্দিন মালিক, রিয়াদ হোসেন এবং মহাসচিব এ এইচ এম রেজাউল কবির এ সময় উপস্থিত ছিলেন। মতবিনিময় সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন ডিসিসিআইর সহ-সভাপতি খ. আতিক-ই-রাব্বানী।

বাংলাদেশে কৃষি ও তথ্য-প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগে চীনের উদ্যোক্তাদের প্রতি আহ্বান জানান ডিসিসিআইর সহ-সভাপতি। তিনি বলেন, বাংলাদেশের তথ্য-প্রযুক্তি খাত অত্যন্ত সম্ভাবনাময়। প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ বাংলাদেশি তরুণ ও দক্ষ শিক্ষার্থী এ খাতে যোগ দিচ্ছে। চীনা ও বাংলাদেশি উদ্যোক্তারা যৌথ উদ্যোগে তথ্য-প্রযুক্তি খাতে বাংলাদেশে বিনিয়োগ করতে পারেন। এ খাতে বিনিয়োগে উজ্জ্বল সম্ভাবনা আছে।

এ সময় তিনি বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে বাণিজ্য আরো সম্প্রসারণের জন্য দুদেশের মধ্যে সরাসরি রেল ও সড়ক যোগাযোগ স্থাপনের প্রস্তাব দেন।

চেংগং নিউ ডিস্ট্রিক অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ কমিটির উপ-নির্বাহী পরিচালক লি রংহাউ বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ঢাকা চেম্বারের সঙ্গে চীনের ব্যবসায়ীদের অত্যন্ত কার্যকর যোগাযোগ রয়েছে। সামনের দিনগুলোতে এ ধারা অব্যাহত থাকবে। দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলে ব্যাণিজ্য আরো উন্নয়নের লক্ষ্যে চীন সরকার ‘ওয়ান ওয়ে-ওয়ান বেল্ট’ কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। এ কর্মসূচির আওতায় চীনের কুনমিং শহরটি হবে দক্ষিণ-এশিয়া অঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্যের মূল কেন্দ্রবিন্দু।

তিনি বলেন, কুনমিংয়ে অবকাঠানো উন্নয়নের জন্য চীন সরকার ইতিমধ্যে একটি আন্তর্জাতিকমানের বাণিজ্যকেন্দ্র, বিমানবন্দর এবং রেলস্টেশন স্থাপন করছে, যা দক্ষিণ এশিয়ায় বাণিজ্যের ধারাকে আরো বেগবান করবে। চীন সরকারের ‘ওয়ান ওয়ে-ওয়ান বেল্ট’ কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য বাংলাদেশের সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান জানান চীনা প্রতিনিধিদলের নেতা।

লি রংহাউ বলেন, চীনের কুনমিংয়ে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল রয়েছে, যেখানে বাংলাদেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারা বিনিয়োগ করতে পারেন।

তিনি বাংলাদেশে ও চীনের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য এবং নতুন ব্যবসায়িক খাত নির্বাচনে বাণিজ্য প্রতিনিধিদলের সফর বাড়ানোর আহ্বান জানান।

চেংগং ডিস্ট্রিক চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির চেয়ারম্যান জু লিসু বলেন, ভৌগোলিক দিক থেকে ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগের জন্য বাংলাদেশ অত্যন্ত সুবিধাজনক অবস্থানে আছে। বাংলাদেশের আছে প্রচুর উর্বর সমতল ভূমি। এ দেশের কৃষি খাত অত্যন্ত সম্ভাবনাময়।

তিনি আরো বলেন, চীনের উদ্যোক্তারা বাংলাদেশের কৃষি খাতে প্রযুক্তিগত উন্নয়ন এবং বিনিয়োগে অত্যন্ত আগ্রহী। চীনের কুনমিং অঞ্চল কৃষি ও ফুল চাষের জন্য আদর্শ স্থান। এ অঞ্চলে সারা বছর নানা ধরনের ফুলের চাষ হয়। তিনি বাংলাদেশের ফুল ব্যবসায়ীদের কুনমিং থেকে ফুল আমাদনির আহ্বান জানান।

 


এখানে খুজুন


আরও পড়ুন