আজ রবিবার, ২৪ জুন ২০১৮ ইং, ১০ আষাঢ় ১৪২৫ বঙ্গাব্দ



বিশ্ববিদ্যালয়-মাদ্রাসায় ইসলামী ছাত্রী সংস্থার কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ

Published on 23 September 2016 | 4: 12 am

বিশ্ববিদ্যালয় এবং ফাজিল ও কামিল মাদ্রাসায় জামায়াতে ইসলামীর ছাত্রী সংগঠন ইসলামী ছাত্রী সংস্থার কার্যক্রম বন্ধে ব্যবস্থা নিতে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) ও ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়কে নির্দেশ দিয়েছে সরকার। শিক্ষা মন্ত্রণালয় গত মঙ্গলবার আলাদা দুটি চিঠিতে ইউজিসি চেয়ারম্যান ও ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিবন্ধককে এই নির্দেশনা দেয়। খবর বিডিনিউজের।

চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘সম্প্রতি ইসলামী ছাত্রী সংস্থা নামে একটি ছাত্রী সংগঠন কিছু কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্রী ও সরলমনা ধর্মভীরু নারীদের জিহাদে অংশগ্রহণসহ প্রচলিত সংবিধানের বাইরে সমাজ প্রতিষ্ঠা করা তথা দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির হীন লক্ষ্যে জিহাদি মনোভাবাপন্ন করে তোলার অপচেষ্টা করছে। ‘এসব কর্মকাণ্ডের কারণে শিক্ষাঙ্গনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়াসহ অরাজক পরিস্থিতির উদ্ভব হতে পারে। তাই অনতিবিলম্বে এ অপচেষ্টা বন্ধ করা প্রয়োজন।’ ইউজিসি চেয়ারম্যানকে বিশ্ববিদ্যালয়ে এবং ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিবন্ধককে ফাজিল ও কামিল মাদ্রাসায় ইসলামী ছাত্রী সংস্থার জিহাদি কার্যক্রম বন্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে। গুলশান ও শোলাকিয়ায় হামলার প্রেক্ষাপটে জঙ্গি দমন অভিযান জোরদারের মধ্যে এই নির্দেশনা দেওয়া হল। এই বিষয়ে ছাত্রী সংস্থার কোনো প্রতিক্রিয়া তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। জঙ্গি তৎপরতার জন্য জামায়াতে ইসলামীর ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্র শিবিরকে সরাসরি দায়ী করে আসছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল। তবে ছাত্রী সংস্থার সহযোগী সংগঠন ছাত্র শিবির ওই অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করছে, রাজনৈতিক উদ্দেশ্য থেকে তাদের বিরুদ্ধে ‘অপপ্রচার’ চালানো হচ্ছে।

আইআইইউসি’র ১৭০ শিক্ষার্থী নিখোঁজ বা ‘হদিস নেই’ শিরোনামে গত ২১ সেপ্টেম্বর দৈনিক আজাদী সহ কয়েকটি পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন সম্পর্কে একটি ব্যাখ্যা পাঠিয়েছেন আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রাম (আইআইইউসি) এর রেজিস্ট্রার স্কোয়াড্রন লিডার (অব.) মুহাম্মদ নুরুল ইসলাম। এক বিবৃতিতে তিনি বলেছেন, “প্রতিবেদনটি ভুলভাবে উপস্থাপিত এবং এতে আমাদের কাছ থেকে গ্রহণ করা বক্তব্যকেও বিকৃত করা হয়েছে।” বিবৃতিতে বলা হয়, “আইআইইউসিতে ওপেন ক্রেডিট সিস্টেম চালু রয়েছে। এই নিয়ম অনুসারে যে কোন শিক্ষার্থী দুই সেমিস্টার বা এক বছর ড্রপ দিতে পারে। এ সময়ের মধ্যে ওই শিক্ষার্থীর পুনঃভর্তির সুযোগ রয়েছে। তিন সেমিস্টার পার হয়ে গেলে যে কোন শিক্ষার্থীর ভর্তি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যায়। তাই ড্রপ করা শিক্ষার্থীকে ‘নিখোঁজ’ বা ‘হদিস নেই’ বলার সুযোগ নেই।

আতংক ছড়ানো বা আতংকিত হওয়ারও কিছু নেই। উল্লেখ্য, ১২ হাজার শিক্ষার্থীর মধ্যে ১৭০ জন ড্রপ দেয়ার অন্যতম প্রধান কারণ আর্থিক অসচ্ছলতা বা অসুস্থতা হতে পারে। যা মোট শিক্ষার্থীর মাত্র দেড় শতাংশ। এখানে আরো উল্লেখ্য যে, প্রকাশিত আইআইইউসি’র উক্ত সংবাদের সাথে কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হল সংক্রান্ত একটি সংবাদকে উক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম উল্লেখ না করে এবং দৃশ্যমান উপশিরোনাম ছাড়া সংযুক্ত করা হয়েছে। এতে পাঠক মনে বিভ্রান্তি আরো বেড়েছে।”


এখানে খুজুন


আরও পড়ুন