আজ শনিবার, ২৩ জুন ২০১৮ ইং, ০৯ আষাঢ় ১৪২৫ বঙ্গাব্দ



২৩ বছর আগের সেই মামলা ।। আদালতে শো’কজের জবাব দিলেন সন্দ্বীপ থানার ওসি

Published on 23 September 2016 | 3: 43 am

২৩ বছর আগে সংঘটিত এক হত্যাকাণ্ডের মামলায় আদালতে উপস্থিত হয়ে শো’কজের জবাব দিলেন সন্দ্বীপ থানার ওসি মোহাম্মদ শামসুল ইসলাম। একইসাথে সন্দ্বীপের আলোচিত হত্যা মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তাকে (আইও) হাজির করতে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি করেছে আদালত। এছাড়া আলোচিত এ মামলায় গতকাল তিন সাক্ষী আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন। মুখোমুখি হয়েছেন আসামিপক্ষের আইনজীবীদের জেরার। এদিকে এ মামলায় সাক্ষীদের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে গতকাল আদালতে সন্দ্বীপ থানা পুলিশ কর্তৃপক্ষ একটি প্রতিবেদন দাখিল করেছে। এতে বলা হয়েছে, এ মামলার সাক্ষীদের মধ্যে ৪ জন নিরুদ্দেশ ও ২ জন ইতোমধ্যে মৃত্যুবরণ করেছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামের চতুর্থ অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ নজরুল ইসলামের আদালতে মামলার কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়েছে।

জানা গেছে, ওই মামলায় নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নিয়ে যাওয়া পুলিশ কনস্টেবল এবং জব্দ তালিকার দুই সাক্ষীসহ তিনজন গতকাল আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন। তারা হলেনসন্দ্বীপ থানার তৎকালীন কনস্টেবল গোপাল চন্দ্র সরকার এবং জব্দ তালিকার দুই সাক্ষী স্থানীয় বাসিন্দা আবুল কালাম আজাদ ও মোস্তাফিজুর রহমান। প্রসঙ্গত: ১৯৯৩ সালের ৪ আগস্ট চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলার গাছুয়া ইউনিয়নে আক্কাস উদ্দিনকে (৩০) পিটিয়ে হত্যা করা হয়। কিন্তু মামলাটি এগোয়নি বহুদিন। গত ৮ আগস্ট হাইকোর্টের বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি জে বি এম হাসানের বেঞ্চ ১৭ বছরেও কেন মামলাটি নিষ্পত্তি হয়নি তা জানতে চায়। আলোচনায় আসে মামলার বিচার নিষ্পত্তির ব্যাপারটি। তখন জানা যায়, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা (আইও) সন্দ্বীপ থানার সে সময়ের এসআই এ এইচ এম মান্নানকে পাওয়া যায়নি বলে সাক্ষ্যগ্রহণ আটকে আছে। এ বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি সহকারী পিপি অজয় বোস জানান, একাধিকবার প্রসেস ইস্যু (সমন জারি) করার পরও আইওকে হাজির করা সম্ভব হয়নি। তাই আদালত আজ তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন।

এ ব্যাপারে সন্দ্বীপ থানার ওসি মো. শামসুল ইসলাম জানান, সে সময়ের ওসি এবং তদন্ত কর্মকর্তা মান্নানের কোনো সন্ধান এখনও পাওয়া যায়নি। চট্টগ্রাম থেকে বদলি হয়ে তিনি সিলেটে কর্মরত ছিলেন। এরপর তার কর্মস্থল কোথায় ছিল তা জানতে পারিনি। ওসি শামসুল ইসলাম বলেন, পুলিশের রিজার্ভ অফিসে এসব তথ্য থাকে। কিন্তু ২০০৬ সালের দিকে একবার পানি ওঠায় নথিপত্র নষ্ট হয়ে যাওয়ায় এখন তার তথ্য পাচ্ছি না। তবে উনার সঙ্গে যারা অতীতে কাজ করেছেন তাদের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে তার ঠিকানা বের করার চেষ্টা করছি। জানা গেছে, ওসি শামসুল ইসলাম সন্দ্বীপ থানায় যোগদান করেন গত ৩ আগষ্ট। এরপর ২২ আগষ্ট সংশ্লিষ্ট আদালতের বিচারক তাকে শো’কজ করেন। একইসাথে তাকে সশরীরে আদালতে হাজির হওয়ার জন্য আদেশ দেন বিচারক মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম। গতকাল বৃহস্পতিবার ছিল মামলার ধার্য তারিখ। এদিনে ওসি আদালতে হাজির হয়ে শো’কজের জবাব দেন। এর আগে হাইকোর্টের আদেশের পর গত মাসে এই মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ ফের শুরু হয় চট্টগ্রামের আদালতে। গত ২২ আগস্ট সাক্ষ্য দেন সন্দ্বীপ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের তৎকালীন মেডিকেল অফিসার ডা. ফখরুল করিম। এরপর বৃহস্পতিবার আরও তিনজন সাক্ষ্য দিলেন। আগামী ২০ অক্টোবর এ মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণের পরবর্তী দিন ধার্য করা হয়েছে। নিহত আক্কাসের বাবা আবুল খায়েরের করা এই মামলায় ছয়জনকে আসামি করা হলেও তদন্ত কর্মকর্তা মান্নানের দেওয়া অভিযোগপত্রে আটজনকে আসামি করা হয়। আসামিরা হলেনচেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম, দফাদার শাহজাহান হক, চৌকিদার আবুল কাসেম, চৌকিদার ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ, চৌকিদার মোহাম্মদ সিদ্দিক, মেম্বার আশ্রাফ উদ্দিন, মেম্বার মোমিনুল হক ফেরদৌস ও চৌকিদার সাফিউল হক। এদের মধ্যে প্রথম তিনজন মারা গেছেন। আশ্রাফ উদ্দিন ও মোমিনুল হক ফেরদৌস জামিনে আছেন। মোহাম্মদ সিদ্দিক ও সাফিউল হক পলাতক।


এখানে খুজুন


আরও পড়ুন