আজ শনিবার, ২৩ জুন ২০১৮ ইং, ০৯ আষাঢ় ১৪২৫ বঙ্গাব্দ



চমেকের ৬০তম বর্ষপূর্তিতে বর্ণাঢ্য আয়োজন ।। মুখর প্রিয় প্রাঙ্গন

Published on 21 September 2016 | 4: 05 am

শেকড়ের টানে প্রিয় প্রাঙ্গণে’ োগানে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের (চমেক) ৬০তম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে সিএমসি ডে২০১৬ উদযাপিত হয়েছে। সোমবার থেকে শুরু হওয়া দুদিনব্যাপী অনুষ্ঠানে প্রাক্তন ও বর্তমান ছাত্রছাত্রীদের মিলনমেলায় গতকাল মঙ্গলবার সমাপনী দিনে মুখর হয়ে ওঠে চমেক প্রাঙ্গণ। প্রায় সাড়ে তিন হাজার চিকিৎসক এবং পাঁচ শতাধিক ছাত্রছাত্রী অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন। সারাদিন ছাত্রজীবনের আনন্দবেদনার স্মৃতি হাতড়ে মেতে উঠেন তুমুল আড্ডায়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন চমেকের সাবেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. ইমরান বিন ইউনুস।

এদিকে বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের জন্য চমেকের সাবেক সাত শিক্ষার্থীকে আজীবন সম্মাননা প্রদান করা হয়। তারা হলেন মুক্তিযুদ্ধে কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের জন্য শাহ আলম বীর উত্তম (মরণোত্তর), চিকিৎসা সেবায় নিউরো সার্জন অধ্যাপক ডা. লুৎফুল আনোয়ার (এলএ কাদেরী), বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত, রাজনীতিতে সাবেক প্রাথমিক গণশিক্ষা মন্ত্রী ডা. আফছারুল আমীন, সাবেক প্রতিমন্ত্রী ও সংসদ সদস্য ডা. মোজাম্মেল হোসেন, আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদক ডা. বদিউজ্জামান ভূঁইয়া এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আবুল ফয়েজ। এছাড়া আবুল মনসুর ও বিনোদ বিহারি (মরণোত্তর) নামে চমেকের দুই সাবেক কর্মচারীকেও আজীবন সম্মাননা দেওয়া হয়। অধ্যাপক ডা. ইমরান বিন ইউনুস বলেন, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের রয়েছে গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস। এখানে যেমন দেশ সেরা ও আন্তর্জাতিক মানের ডাক্তার রয়েছেন, তেমনি মুক্তিযোদ্ধা, মন্ত্রীসাংসদ, শিক্ষক এবং প্রশাসকও রয়েছেন। সুতরাং নিঃসন্দেহে চমেক গুণীদের উর্বর ভূমি।

সম্মাননা প্রদান শেষে নিজেদের অনুভূতি প্রকাশকালে ডা. এলএ কাদেরী বলেন, আমি এই মেডিকেল কলেজের জন্ম দেখেছি। ১৯৫৯ সালে এখানে যখন আমি ভর্তি হলাম, তখন আমার বাসা ছিল মেডিকেলের পাশে। আর এখন আমি অবসর গ্রহণ করেছি, এখনো আমি আছি মেডিকেল ক্যাম্পাসের পাশেই। মেডিকেল কলেজ আর আমি এক হয়ে গেছি। আজ আমি এত আনন্দিত যে, চোখে জল এসে গেল।

ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত বলেন, এখানে আমার বন্ধু সাবেক মন্ত্রী ডা. আফছারুল আমীন এসেছেন। আমাকে দেখেই উনি বললেন, ফুটবল নিয়ে আসিসনি কেন? সোমবারের বর্তমান ও সাবেক ছাত্রদের প্রীতি ফুটবল ম্যাচ মিস করায় আক্ষেপ করে তিনি বলেন, চমেক চত্বর আমাদের দেয়নি এমন কিছু নেই। তাই আমার স্বাধীনতা পদক চমেক শিক্ষকছাত্রদের উৎসর্গ করছি।

ডা. আফছারুল আমীন বলেন, আমরা যখন ছাত্র ছিলাম, তখন আমাদের মাঝে মেডিসিন ও সার্জারি বিভাগ নিয়ে তুমুল বিতর্ক হত। এমনকি দুই বিভাগের বিভিন্ন দিক নিয়ে আমরা জারি গান রচনা করতাম। চমেকে এলেই আমি স্মৃতিকাতর হয়ে পড়ি।

এর আগে সকালে হাজারো চিকিৎসকের অংশগ্রহণে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের হয়। চমেক কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ থেকে শোভাযাত্রাটি বের হয়ে জরুরি বিভাগ হয়ে মেডিকেল পূর্ব গেট, প্রবর্তক মোড় থেকে পুনরায় মাঠে ফিরে আসে। এসময় বাদ্যের তালে তালে বর্ণিল সাজে নেচে গেয়ে শোভাযাত্রা মাতিয়ে রাখেন শিক্ষার্থীরা।

এরপর মূল মঞ্চে কেক কাটার পর বেলুন উড়িয়ে বর্ষপূর্তির মূল অনুষ্ঠানের উদ্বোধন ঘোষণা করেন সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন। এসময় উপস্থিত ছিলেন চমেক অধ্যক্ষ ডা. সেলিম মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর, সাবেক অধ্যক্ষ ডা. ইমরান বিন ইউনুস, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক ডা. সামন্ত লাল সেন, চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জালাল উদ্দিন, চমেক উপাধ্যক্ষ ও বিএমএ চট্টগ্রামের সভাপতি ডা. মুজিবুল হক খান এবং বিএমএ চট্টগ্রামের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শরীফ প্রমুখ।


এখানে খুজুন


আরও পড়ুন