আজ শুক্রবার, ২২ জুন ২০১৮ ইং, ০৮ আষাঢ় ১৪২৫ বঙ্গাব্দ



ভোলায় সাংবাদিকদের ওপর হামলাকারীদের বাদ দিয়ে পুলিশের চার্জশীট, সাংবাদিক মহলে ক্ষোভ

Published on 21 September 2016 | 3: 08 am

।। কাজী মো: মহিবুল্লাহ। ভোলা প্রতিনিধি ।।

ভোলার লালমোহনে সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের সময় ছবি তোলাসহ পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের ওপর হামলা, গুলিবর্ষন, ক্যামেরা ছিনতাই ঘটনায় দায়ের করা মামলার মূল আসামীদের বাদ দিয়ে চার্জশীট দিয়েছে লালমোহন থানার তদন্তকারী কর্মকর্তা। পুলিশের সামনে প্রকাশে হামলার ঘটনা ঘটলেও পুলিশের এমন নেক্কারজনক কর্মকান্ডে রোববার ক্ষোভ জানিয়ে আসামীদেও গ্রেফতার ও বিচার দাবি করেছেন বাংলার কন্ঠ সম্পাদক এম হাবিবুর রহমান, রিপোর্টাস ইউনিটির সভাপতি আ মু. শওকাত হোসেন, প্রবীন সাংবাদিক আবু তাহের, ইতেফাক প্রতিনিধি অধ্যক্ষ আফসার উদ্দিন বাবুল, যুগান্তর জেলা প্রতিনিধি অমিতাভ অপু, এসএ টিভি প্রতিনিধি এ্যাড: সাহদাত শাহিন, টিলিভিশন জার্নালিস্ট ফোরামের সম্পাদক আাফজাল হোসেন, সময় টিভি প্রতিনিধি নাসির লিটন, প্রথম আলো প্রতিনিধি নেয়ামতউল্লাহ, জনকন্ঠ প্রতিনিধি হাসিব রহমান, কালের কন্ঠের প্রতিনিধি শিমুল চৌধুরী, ডেইলী স্টার প্রতিনিধি এ্যাডভোকেট জয়ন্ত বিশ্বাাস, ৭১টিভি প্রতিনিধি কামরুল ইসলাম, সাংবাদিক এ্যাড: মনিরুল ইসলাম, চ্যানেল-২৪ এর জেলা প্রতিনিধি আদিল হোসেন তপু, যায়যায়দিন প্রতিনিধি মোঃ ফয়েজউল্লাহ সহ জেলা ও উপজেলার সাংবাদিকরা।

গত ১৫ মার্চ রাত ৮টায় লালমোহন সদর রোডে প্রকাশ্যে হামলা চালিয়ে আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠা সভাপতি মোকলেসুর রহমানের মালিকানাধিন মিয়া প্লাজা মার্কেটের দোকানপাট ভাংচুর করা ও তালা ঝুলিয়ে দেয়ার সময় ওই সড়ক দিয়ে মাইক্রোবাস যোগে ভোলায় ফিরছিলেন সিনিয়র কয়েক সাংবাদিক। এ সময়ে চোরাই তেলের ব্যবসায়ী কালা শাজাহান ও মেহের বাহিনীর তান্ডবের ছবি ও ভিডিও ধারন করতে গেলে সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালায় ওই বাহিনী। আরটিভির ক্যামেরাপার্সন মোঃ ইউছুফকে হকস্টিক, লাঠি ও লোহার রড দিয়ে এলোপাথারী পিটিয়ে মৃতভেবে মাটিতে ফেলে রাখে, ক্যামেরা, মোবাইলফোন, নগদ টাকা ছিনিয়ে নেয়। পিস্তল ও সটগান নিয়ে সাংবাদিকদেও তাড়া করে।

প্রকাশ্যে এমন ঘটনায় ভয়ে সন্ত্রাসীদের বাধা দিতে পারেন নি স্থানীয়রা। এমন কি লালমোহন থানার ওসির সামনে এমন ঘটনা ঘটলেও পুলিশ নিরব ছিল। আহত ইউছুফকে মৃতপ্রায় অবস্থায় প্রথমে লালমোহন হাসপাতালে পরে রাতেই ভোলা হাসপাতালে এনে ভর্তি করা হয়। এমন কি লালমোহন হাতপাতালেও চড়াও হয় সন্ত্রাসীরা। এসব ঘটনায় বর্তমান ডিবি ওসি তৎকালীন লালমোহন থানার ওসি আখতাররুজ্জামান মামলা নিতেও গড়িমশি করেন। পরে অবশ্য তৎকালীন পুলিশ সুপার মোহাঃ মনিরুজ্জামানের নির্দেশে পুলিশ মামলা নেয়।

অভিযোগ রয়েছে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে লালমোহন পুলিশ মামলার মূল আসামী চোরাই তেলের ব্যবসায়ী মোঃ শাহাজাহান, তার পুত্র রাকিব হোসেন সোহেল, মৌমাছি বাহিনীর কমান্ডার ফরাদ হোসেন মেহের, ওই বাহিনীর সদস্য জামাল উদ্দিন বেল্লাল, মোঃ ফরিদ, জোবায়ের, দুর্ধর্ষ আমিনুল ইসলাম, আকবরের নাম বাদ রেখে শুধু মাত্র কামাল কসাই’র বিরুদ্ধে চার্জশীট দেয়। পুলিশের এমন নেক্কারজনক ভূমিকায় হতবাক হন সাংবাদিক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।

অভিযোগ রয়েছে ওই সন্ত্রাসীদের কাছে লালমোহন থানা পুলিশও জিম্মি হয়ে আছে।বর্তমান ওসি হামায়ুন কবির জানান, ঘটনা সত্য জেনেও তাদেও হাতপা বাধা থাকায় এদেও বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারছেন না। অভিযোগ রয়েছে এক সময়ের বিএনপির ত্রাস মেহেরের বাড়ি থানার সামনে। বিএনপি আমলের ত্রাস শাজাহান ও মেহের বাহিনী মনে করে থানা ভবন তাদেও ঘরবাড়ি।

বর্তমান ভোলা জেলা গোয়েন্দা শাখা ( ডিবি) ওসি আখতারুজ্জামান জানান, ওই বাহিনীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে তিনিও অপরাগ। কেননা তিনি ওই থানার ওসি ছিলেন। এদিকে স্থানীয়রা জানান, বিএনপি আমলের এ সন্ত্রাসীরা হালে সরকার দলের নেতাদের প্রভাবেই ত্রাস করে বেড়াচ্ছে।


এখানে খুজুন


আরও পড়ুন