আজ শনিবার, ২৩ জুন ২০১৮ ইং, ০৯ আষাঢ় ১৪২৫ বঙ্গাব্দ



সন্দ্বীপের ঐতিহাসিক তথ্য ও ইসলাম

Published on 21 September 2016 | 2: 51 am

২৩৪৬-৪৭ সালে মরক্কোর প্রখ্যাত পর্যটক ইবনে বতুতা বাংলাদেশে আগমন করতে গিয়ে সর্বপ্রথম চট্রগ্রামে উপস্হিত হন। আধুনিক গবেষণায় চট্রগ্রামে আগমনকারী যে সকল মুসলিম সাহাবী ও তাবিয়ীনদের নাম বেরিয়ে এসেছে তাঁরা হলেন…
(ক) সাহাবী
১.হযরত আবু ওয়াক্কাস মালিক বিন ওহাব রাঃ
২.হযরত তামীম আনসারী রাঃ
৩.হযরত কায়াস বিন ছায়রফী রাঃ
৪.হযরত আবু কায়েস বিন হারিসা রাঃ
(খ)তাবিয়ী
১.হযরত মুহাম্মাদ মামুন রাহঃ
২.হযরত মুহাম্মাদ মোহাইমেন রাহঃ
৩.হযরত মুহাম্মাদ আবু তালিব রাহঃ
৪.হযরত মুহাম্মাদ মুর্তজা রাহঃ
৫.হযরত মুহাম্মাদ আব্দুল্লাহ রাহঃ
৬.হামিদ উদ্দিন রাহঃ
৭.হযরত হুরত হোসেন উদ্দিন রাহঃ
আরবরা ঐতিহ্যগত ভাবে ব্যবসায়ী এবং সমুদ্রযাত্রায় অভ্যস্ত। প্রাচ্যের বাণিজ্যেও ছিল তাদের একক আধিপত্য। ইসলাম ধর্ম বিস্তারের পর কালক্রমে আরব ব্যবসায়ীরা ব্যবসার উদ্দশ্যে চট্রগ্রাম আগমন করেন এবং ক্রমশ এদেশের সাথে বাণিজ্যিক সম্পর্ক গড়ে তোলেন।উল্লেখ্য যে ৭ম (সপ্তম)শতাব্দী থেকে চট্রগ্রামের সন্দ্বীপের সাথে আরব বণিকদের ব্যবসায়িক সম্পর্ক সৃষ্টি হয়। তবে এ সম্পর্ক শুধু বাণিজ্যিক বিষয়েই সীমাবদ্ধ ছিলনা। আরবরা পৃথিবীর যেখানেই গমন করেছে সেখানেই স্হায়ী বসবাস হওয়ার ঐতিহাসিক বহু দৃষ্টান্ত রয়েছে।

রাসূলে কারীম সাঃ বিদায় হজ্বের সময় এক লক্ষ চৌদ্দ হাজর কম বেশীদের সম্বোধন করে শ্বাশত বক্তৃতা দিয়েছিলেন।তার মধ্যে আরবে ১০০০(এক হাজার)সাহাবীদের কবর খুজে পাওয়া যায়না। ইতিহাসবিদ ড. এম এ রহিমের ভাষ্য থেকে জানা যায় পঞ্চদশ শতকে সন্দ্বীপ এবং হাতিয়া তথা বাংলার উপকূল এলাকায় বাঙ্গালী মুসলিম শাসকদের অধিকার বিস্তৃত হওয়ার পূর্বে বারথেমা,বার্বোমা যখন বঙ্গোপসাগরের উপকূলে মেঘনার “বাঙ্গালা”শহর পরিভ্রমন করেন তখন উপকূল অঞ্চলে বহু আরবী, ইরানী ও আবসিনীয় মুসলিম বণিক সহ বাঙ্গালী মুসলিমদের বসতি দেখেছিলেন। খ্যাতমান পর্যটক ইবনে বতুতার ঐতিহাসিক বর্ণনা থেকেও প্রতীয়মান যে তৎকালে চট্রগ্রামের উপকূলীয় দ্বীপ সন্দ্বীপে বহু আরাবী মুসলিম বসবাসরত ছিলেন।

আরব বণিক ছাড়াও বহু সূফী দরবেশ চট্রগ্রাম ও সিলেট সহ বাংলায় ইসলাম প্রচারের কাজে রত ছিলেন।তাঁরাই মূলত বাংলায় ইসলাম প্রচারের কাজটি সাম্য ও সম্প্রীতির মাধ্যমে করেছিলেন।
ঈসায়ী নবম শতকের মধ্যভাগে বাংলায় আগমনকারীদের সূফী দরবেশ মধ্যে উল্লেখিত সুলতান বায়জিদ বোস্তামী উল্লেখযোগ্য। তিনি ইরানের বোস্তাম শহরে জম্ম গ্রহণ করেন। তাঁর পীর ছিলেন সূফী সাধক আবু আলী ফর্মাদী। সুলতান বায়েজিদ বোস্তামী পীরের আদেশেই সিন্ধুদেশ থেকে সমুদ্র পথে চট্রলায় আগমন করেন। তিনি চট্রগ্রাম আসার পথে প্রথমেই বেশ কিছুদিন সন্দ্বীপে অবস্হান করে ধর্ম প্রচার করেন। পরবর্তিতে তিনি সন্দ্বীপ থেকে চট্রগ্রাম নাসিরাবাদ (জঙ্গলবেষ্টিত পাহাড়ি অঞ্চল) এ আস্তনা স্হাপন করে ইসলাম প্রচারে মগ্ন হয়ে পড়েন।

গবেষণায় ইতিহাসের স্মৃতির পাতা থেকে জানা যায় সূফী বায়েজিদ বোস্তামী রাহঃ চট্রগ্রামে সর্বমোট ৬ (ছয়)বছর অবস্হান করে ধর্ম প্রচারের মহান কাজটি করেছিলেন। সন্দ্বীপে বায়েজিদ বোস্তামী রাহঃ ছাড়াও বহু সংখ্যক আধ্যাত্মিক সূফী সাধক ইসলাম প্রচারে সন্দ্বীপে অবস্হান করেন। তার মধ্যে মীর সৈয়দ সুলতান মাহমুদ মাহীসওয়ারের আগমন কথা বিস্তারিত বর্ণনায় ইতিহাসে মশহুর। বলখ হতে এসে তিনিইও বাংলায় তথা সন্দ্বীপে ইসলাম ধর্ম প্রচার করেন ।কিছুদিন পর সন্দ্বীপ হতে সমুদ্রপথে মাচের পীঠে চড়ে নৌকার ন্যায় বগুড়ায় চলা যান এবং বাকী জীবন সেখানেই অতিবাহিত করেন। বগুড়ার মহাস্হানে এই মুসলিম মহা সাধকের মাজার শরীফ অবস্হিত।

পাক-ভারতের প্রথম তুর্কী সুলতান কিতুবুদ্দিন আইবেকের সেনা পতি ইখতিয়ার উদ্দিন মুহাম্মাদ বিন বখতিয়ার খিলজী ১২০৪সালে বঙ্গ বিজয়ের সময় হতে রবার্ট ক্লাইভের দেওয়ানী লাভের সময় পর্যন্ত ৫৬২বৎসর কালব্যাপী ৭৬ জন মুসলিম সুবেদার,সুলতান ও নওয়াব কর্তৃক বাংলা তথা বাংলাদেশ শাসিত হয়। মুসলিম শাসনের এই সুদীর্ঘ কালে সন্দ্বীপে বিভিন্ন সময় মুসলিম উপনিবেশ স্হাপিত হয়। এর মধ্যে বাংলা ১২৮৩ সালে মাওলানা কেরামত আলী জৈনপুরী রাহঃও সন্দ্বীপে আগমন করেন।

উল্লেখ থাকে যে চট্রগ্রামে ইসলাম প্রচারের সূচনা হয়।কারণ সে সময় জল বা সমুদ্রপথেই যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম ছিল।পর্যায়ক্রমে চট্রগ্রামের অন্যান্য অঞ্চলে ইসলামের দাওয়াতী কাজ ছড়িয়ে পড়ায় মানুষ ইসলাম ধর্মের আলোতে আলোকিত। সন্দ্বীপে এখনো ধর্মীয় সম্প্রীতি বহমান।

সংকলনঃ মাসুম বিল্লাহ নাফিয়ী
তাং-২০/০৯/২০১৬


এখানে খুজুন


আরও পড়ুন