আজ রবিবার, ১৯ আগষ্ট ২০১৮ ইং, ০৪ ভাদ্র ১৪২৫ বঙ্গাব্দ



টার্গেট যখন স্থায়ী বাসিন্দা হওয়া

Published on 15 October 2015 | 12: 46 pm

দর্শক মহলে আলোচিত এক নাম বিদ্যা সিনহা সাহা মিম। দু’বছর আগেও টিভি পর্দায় দর্শক মাতিয়েছেন। টিভি নাটক ও বিজ্ঞাপনে নিয়মিত কাজ করে ধীরে ধীরে দর্শকের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন। তবে এ মুহূর্তে মিম ব্যস্ত আছেন চলচ্চিত্র নিয়ে। বিস্তারিত লিখেছেন- শাহনাজ হেনা
ক্যারিয়ারের শুরু থেকে এরই মধ্যে বেশকিছু ছবিতে অভিনয় করা হয়ে গেছে বিদ্যা সিনহা মিমের। তার মধ্যে জোনাকির আলো, তারকাঁটা উল্লেখযোগ্য। এসব ছবিতে অভিনয়ের মাধ্যমে নিজেকে নায়িকা হিসেবে পরিচিত করেছেন। তবে চলচ্চিত্রে নিজেকে অন্য উচ্চতায় না নিয়ে গেলেও অনেকটা সে পথেই হাঁটছেন এ অভিনেত্রী। তারই প্রতিফলন দেখা গেছে, যখন মিম ব্যস্ত আছেন বাংলাদেশ-কলকাতার যৌথ প্রযোজনার ছবি ‘ব্ল্যাক’ নিয়ে। কলকাতার রাজা চন্দ ও বাংলাদেশের কামাল কিবরিয়া লিপুর পরিচালনায় এ ছবিতে তিনি কাজ করছেন টালিগঞ্জের হালের আরেক জনপ্রিয় নায়ক সোহমের বিপরীতে। এরই মধ্যে কলকাতা ও বাংলাদেশের ছবির কাজ শেষ করেছেন তিনি। গেল সপ্তাহে একই ছবির কাজে থাইল্যান্ডে পাড়ি জমান মিম। সেখানে ছবির শুটিংয়ের পাশাপাশি ঘুরে বেড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে তার। দুই বাংলার ছবিতে অভিনয় করতে গিয়ে চলচ্চিত্রের এ স্বল্প সময়ের ক্যারিয়ারে মিম সঞ্চার করেছেন দারুণ সব অভিজ্ঞতা। বিশেষত নায়ক সোহমের সঙ্গে খুব সহজেই মানিয়ে নিয়েছেন তিনি। তবে এক্ষেত্রে সোহমের অবদানই সবচেয়ে বেশি বলে মনে করেন মিম। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সোহম যে অসাধারণ একজন অভিনেতা সেটা নিয়ে তো নতুন করে কিছু বলার নেই। কলকাতায় গিয়ে আমি একটু নার্ভাস ছিলাম। বিশেষ করে ছবির কাজের ক্ষেত্রে। কারণ সেখানে তো আর কখনও কাজ করিনি। তবে এ নার্ভাসনেস কাটিয়ে ওঠার পেছনে সোহম খুব সাহায্য করেছে। এমন একজন মানুষের সঙ্গে কাজ করে মনেই হয়নি আমি কলকাতায় অভিনয় করছি।’ ‘ব্ল্যাক’-এর শুটিং শুরুর পর থেকে একাধিকবার নাম পরিবর্তন হয় ছবিটির। তবে এর পেছনে ছিল আরেক রহস্য। মিম বলেন, এটি আসলে শুরুতে ‘বুলেট’ নাম ছিল। যেহেতু যৌথ প্রযোজনার ছবি তাই নামটি বদলে ‘রকেট’ করা হয়েছে। আবার কিছুদিন পরে দেখা গেল এই নামে কলকাতায় একটি ছবি আগে হয়েছে তাই শেষবারের মতো পরিবর্তন করে ‘ব্ল্যাক’ রাখা হয়েছে। এখন আর পরিবর্তন করার কোনো সম্ভাবনা নেই। হাতে ব্ল্যাকের কাজ থাকলেও মিমের ঝুলিতে রয়েছে আরও তিনটি ছবি। এর একটি হল ‘রক’। যার কাজ এখনও শুরু হয়নি। এছাড়াও ওয়াজেদ আলী সুমনের পরিচালনায় ‘সুইট হার্ট’ এবং তানিয়া আহমেদের ‘গুডমর্নিং লন্ডন’ ছবি দুটো মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে বলে জানান তিনি। চলচ্চিত্রের ব্যস্ততার কারণে এক সময়ে টিভি নাটকের তুমুল জনপ্রিয় এ অভিনেত্রী এখন সে মাধ্যমে কোনো কাজ করছেন না। তবে চলচ্চিত্রের শুটিংয়ের ফাঁকে বিজ্ঞাপন ও বিভিন্ন শোতে অংশ নিচ্ছেন ঠিকই। দীর্ঘদিন টিভি নাটক ও বিজ্ঞাপনে কাজ করেছেন মিম। এরপর চলচ্চিত্রের স্থায়ী বাসিন্দা হওয়ার লক্ষ্যে অবিরাম পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। টিভি নাটক থেকে শেখা এ কাজগুলো চলচ্চিত্রে কতটা কাজে লাগিয়েছেন মিম; সে প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘টিভি মাধ্যম হল অভিনয় শেখার একটা বড় জায়গা। লম্বা সময় ধরে সেখানে কাজ শিখেছি। অভিনয়টাকে নিজের মধ্যে লালন করেছি। পাশাপাশি এটাকে ধীরে ধীরে ধারণ করে এগিয়ে গেছি। আর সেটা কাজে লাগিয়েছি চলচ্চিত্রে। এখন চলচ্চিত্রে যে মিমকে দেখতে পাচ্ছেন তার বড় অবদান হল টিভিপর্দা। আর আমার আজকের অবস্থানের পেছনে পুরো অবদানটা লাক্স-চ্যানেল আই সুপারস্টার প্রতিযোগিতার। কারণ এখানেই তো আমার উত্থান। সেসঙ্গে আমার পরিবার।’ অভিনয়ের সঙ্গেই মিমের এখন যত বন্ধুত্ব, প্রেম। তাকেই আপাতত জীবনসঙ্গী হিসেবে বেছে নিয়েছেন তিনি। তবে কী বিয়ে নিয়ে কোনো পরিকল্পনা নেই এ অভিনেত্রীর? এক্ষেত্রে মিমের সাফ জবাব, এখন পর্যন্ত বিয়ের বিষয়ে কোনো ভাবনা নেই। আর বিয়ের বিষয়টি তো সৃষ্টিকর্তার ওপর। তিনি যখন চাইবেন তখনই হবে। তাছাড়া আমি এ মুহূর্তে চলচ্চিত্রের কাজের প্রতি বেশি ডেডিকেটেড। ভালো কিছু ছবিতে অভিনয় করে নিজেকে একটা ভালো পর্যায়ে নিয়ে যাওয়াই আমার এখন মূল টার্গেট।


এখানে খুজুন


আরও পড়ুন