আজ শনিবার, ১৮ আগষ্ট ২০১৮ ইং, ০৩ ভাদ্র ১৪২৫ বঙ্গাব্দ



মীর কাসেম আলীর ফাঁসি : মুক্তিযোদ্ধা জসিমের স্বজনদের প্রতিক্রিয়া ।। কষ্টের পাথর নেমে গেল বুক থেকে

Published on 04 September 2016 | 2: 48 am

একাত্তরে চট্টগ্রামে আলবদর বাহিনীর প্রধান মীর কাসেম আলীর ফাঁসি কার্যকরের মধ্য দিয়ে ৪৫ বছর ধরে ‘বুকে চেপে বসা পাথর’ নেমেছে বলে আবেগ আপ্লুত মন্তব্য করেছেন একাত্তরে চট্টগ্রামে নিহত কিশোর মুক্তিযোদ্ধা জসিমের স্বজনরা।

গতকাল রাতে আলবদর কমান্ডার মীর কাসেমকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার পর কিশোর জসিমের ৯০ বছর বয়স্ক বড় ভাই অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক আবুল কালাম ফজলুল হক এবং যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাক্ষী বোন হাসিনা খাতুন অনেকটা আবেগ আপ্লুত হয়ে পড়েন। তারা জানান, ভাই হত্যার বিচার দেখে যেতে পেরে আমাদের মনে কিছুটা হলেও স্বস্তি ফিরে পেয়েছে। ভাইকে তো আর আমরা ফিরে পাবোনাতাকে হত্যাকারীর ফাঁসি হয়েছে এটাতেই আমাদের পরিবারের সদস্যরা খুশী। সন্দ্বীপে অবস্থানকারী জসিমের বড় ভাই শিক্ষক আবুল কালাম ফজলুল হক তার প্রতিক্রিয়ায় বলেন, আমরা পারিবারিকভাবে আমার ভাই হত্যার মামলা করতে চেয়েছিলাম। শেষ পর্যন্ত সরকারিভাবে উদ্যোগ নেয়ায় এবং দ্রুত রায় কার্যকর হওয়ায় আমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি সরকারের কাছে।

যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাক্ষী জসিমের ফুফাতো বোন হাসিনা খাতুন জানান, অবশেষে আমার ভাইয়ের (ফুফাতো ভাই জসিম) বিচার পেয়েছি সেটাই আনন্দের। বুক থেকে পাথর নেমে গেছে। শুধু আমার নয়, যারা নির্যাতিত হয়েছে, যাদের ডালিম হোটেলে নিয়ে হত্যা করা হয়েছে তারাও এতে খুশি। আমার ভাই শহীদ জসিম ৭১’এ মুক্তিযোদ্ধাদের চট্টগ্রাম শহরে বিভিন্ন স্থানে আশ্রয় নেয়ার জন্য ব্যবস্থা করে দিতেন। শেষ বিদায়ের দিন আমি তাকে নিষেধ করেছিলাম দেশের গণ্ডগোলের মাঝে কলেজে না যেতে কিন্তু সে উত্তরে বলেছে না গেলে মুক্তিযোদ্ধাদের ক্ষতি হবে। মেধাবী জসিম উদ্দীনের জন্ম সন্দ্বীপের মাইটভাঙ্গা ইউনিয়নে। জসিম উদ্দিনের বাবা মৌলভী সৈয়দ আহম্মদ ছিলেন হাইস্কুলের শিক্ষক। বড় ভাই বিপ্লবী স্বাধীন বাংলাদেশ বেতার কেন্দ্রের সংগঠক শব্দ সৈনিক একে এম শামছুল হুদা চৌধুরী রেডিও বাংলাদেশ চট্টগ্রামের আঞ্চলিক পরিচালকের দায়িত্ব পালন শেষে অবসর নেন। অপর ভাই ড. রাজিব হুমায়ুন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভাষাতত্ত্ব বিভাগে দীর্ঘদিন চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ৭ ভাইয়ের মধ্যে বর্তমানে আবুল কালাম ও রাজিব হুমায়ুন বেঁচে আছেন।

পরিবারের সদস্যরা জানান, জসিম উদ্দিন ১৯৭০ সনে সাউথ সন্দ্বীপ উচ্চ বিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগে এসএসসি পাস করে চট্টগ্রাম কলেজে ভর্তি হন। জসীম উদ্দিন তখন চট্টগ্রাম কলেজে ছাত্রাবাসে থাকতেন। একদিন সকালে বদর বাহিনীর লোকজন হাসানের অনুপস্থিতিতে জসিমকে তুলে নিয়ে যায়। এর পর থেকে জসিমকে আর পাওয়া যায়নি।

পরবর্তীতে জানতে পারি আন্দকিল্লাস্থ টর্চার ক্যাম্প কুুখ্যাত ডালিম হোটেলে নিয়ে আমার ভাইকে নির্যাতন চালিয়ে হত্যা করে তার লাশ গুম করা হয়েছিল।

ট্রাইব্যুনালে জসিম হত্যার বিচারের সাক্ষী হাসিনা খাতুন বলেন, একাত্তরের নভেম্বর মাসে ঈদুল ফিতরের পরদিন নগরীর পোরীপাড়ায় তার বাসায় এসে পোলাও খেতে চেয়েছিলেন আমার ভাই মুক্তিযোদ্ধা জসিম। ফুফাতো ভাইয়ের আবদার মেটাতে তাকে পোলাও রান্না করে খাওয়ান তিনি। ওই বাসা থেকে বের হওয়ার পরই জসিমকে ধরে নিয়ে যায় আলবদর বাহিনী। জসিমকে ২৮ নভেম্বর পর্যন্ত ডালিম হোটেলে আটকে রেখে নির্যাতন করা হয়। নির্যাতনের ফলে জসিমের মৃত্যু হলে আরও পাঁচজন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির লাশসহ তার মৃতদেহ কর্ণফুলী নদীতে ফেলে দেওয়া হয়। একাত্তরে এরকম পৈচশাচিক ছিল মীর কাসেম। মীর কাসেমের পরিকল্পনা ও তার নেতৃত্বে আলবদর সদস্যরা জসিমকে অপহরণ করে ডালিম হোটেলে নিয়ে হত্যা করা হয় বলে আদালতে প্রমাণ হয়েছে। দেরিতে হলেও বিচার হয়েছেতাতেই খুশি। তথ্যসুত্র : দৈনিক আজাদী। ০৪-০৯-২০১৬


এখানে খুজুন


আরও পড়ুন