আজ বৃহঃপতিবার, ১৯ জুলাই ২০১৮ ইং, ০৪ শ্রাবণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ



১২ ঘন্টা ডুবো চরে আটকে থাকার পর ট্রলারটি অবশেষে সন্দ্বীপে পৌছেছে

Published on 27 August 2016 | 4: 00 pm

                                                                              ফাইল ছবি
সন্দ্বীপ থেকে রহিম মোহাম্মদ :: সোনালী নিউজ ::
প্রায় ১২০ জন যাত্রী নিয়ে সন্দ্বীপের পশ্চিমে মেঘনা চ্যানেলের ডুবোচরে আটকে গেছে একটি ট্রলার। নদীতে দীর্ঘ ৮ ঘন্টা ঝুঁকিপূর্ণ সময় কাটানোর পর রাত ৮ টায় জোয়ার শুরু হলে ট্রলারটি পুনরায় গন্তব্য স্থানের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে। শনিবার সকাল ১০ টায় ট্রলারটি নোয়াখালীর চর লক্ষী ঘাট থেকে সন্দ্বীপের কালাপানিয়ার উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসে। জোয়ার নিয়ে নৌযানটি ছেড়ে এলেও পথিমধ্যে অনির্ধারিত ঘাটে যাত্রী নামাতে গিয়ে আটকা পড়েছে বলে যাত্রীদের অভিযোগ। এদিকে দুপুর ১২ টা থেকে দীর্ঘ সময় খোলা আকাশের নীচে প্রচন্ড গরমে পানি ও খাদ্যের অভাবে মহিলা-শিশু যাত্রীদের মধ্যে চরম দূর্ভোগ বিরাজ করে।
যাত্রীদের সাথে আলাপে জানা গেছে, সকাল ১০ টায় জোয়ারের সময় চর লক্ষী থেকে ছেড়ে আসা নৌযানটি উড়িরচর সংলগ্ন জাহাজ্যার চরের নিকট এসে থেমে দু’জন যাত্রীকে নামিয়ে দেয়। পুনরায় যাত্রা শুরু করলে এটি পথ ভুলে ডুবোচরে গিয়ে আটকে যায়। মাঝি-মাল্লারা অনেক চেষ্টা করেও যানটিকে ভাসাতে ব্যর্থ হয়। সন্দ্বীপের কালাপানিয়া ঘাট থেকে প্রায় দু’মাইল পশ্চিমে চর জাহাজ্যার নিকট আটকে যাওয়া ট্রলারটি উদ্ধারে তখন বিকল্প কোন ব্যবস্থা ছিল না। শেষ পর্যন্ত নৌযানের স্টাফরা ইজারাদারকে ফোনে ঘটনাটি অবহিত করে এবং আশে-পাশের জেলেদের নৌকা দিয়ে কিছু যাত্রী কূলে পাঠানোর চেষ্টা চালায়। এক পর্যায়ে যাত্রীদের বিক্ষোভের মুখে পরে স্টাফরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।
এদিকে আটকে যাওয়া নৌযান থেকে যাত্রীদের উদ্ধারে ৩/৪টি ছোট নৌকা এগিয়ে এলেও সাগরে ভাটা পড়ে যাওয়ার কারণে নতুন করে সমস্যার সৃষ্টি হয়। এ সময় নৌকাগুলো কিছু পথ না যেতে ডুবো চরে আটকে যায়। আবার ঐ সব নৌকা থেকে যাত্রীদের কাঁদা জলে নামিয়ে দেওয়ায় চরম দূর্ভোগের মুখে পড়ে তারা। ঝুঁকির মুখে কোমড় পানিতে হেটে হেটে অনেকেই আটকে পড়া ট্রলারটিতে পুনরায় আশ্রয় নেন। আবার কেউ কেউ জাহাজ্যার দিকে চলে যান। সন্দ্বীপ পৌরসভার ৭ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা যাত্রী শফিক মোবাইলে আজাদীকে জানান, প্রায় ৬০/৭০ জন যাত্রী নিয়ে তারা দুপুর ১২ টা থেকে অনিশ্চয়তার মধ্যে কাটাচ্ছিলেন। অজানা আশংকায় প্রচন্ড গরমের মধ্যে বার বার মুর্চ্ছা গেছেন ৫/৬ জন মহিলা ও পুরুষ। যাত্রীদের সাহস দেয়ার মত কেউ ছিল না। তবে সন্দ্বীপের ইউ.এন.ও তাকে ফোন করে তাদের উদ্ধারের ব্যপারে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন এবং ইজারাদারের মাধ্যমে শুকনো খাবার ও পানি প্রেরণের ব্যবস্থা করেছেন। চর ভাটা থেকে আসা শাহিনা নামে অপর এক যাত্রী জানান, সারা দিন বাচ্ছারা পানির জন্য কান্নাকাটি করেছে, বাধ্য হয়ে তাদেরকে নদীর ঘোলা পানি দিয়েছি। সন্ধ্যার দিকে যাত্রীদের জন্য কূল থেকে পানি পাঠানো হয়েছে।

সন্দ্বীপ থানার অফিসার ইনচার্জ শামছুল ইসলাম জানান, ট্রলারটি যাতে নিরাপদে গন্তব্যস্থানে পৌছতে পারে সে জন্য ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়েছে। ঘাটের ইজারাদার আরমান জানান, সন্দ্বীপের পশ্চিমে বিশাল চর জেগে উঠায় দিন দিন নদীর অবস্থার পরিবর্তন ঘটছে। দূর্ঘটনা বশত: ট্রলারটি ডুবো চরে আটকে গেছে। জোয়ার হওয়ার পর রাত ১০ টার মধ্যে ট্রলারটি ঘাটে এসে পৌছবে।

::::::::::::::::::::::::::::::::::::::::: শেষ খবরে জানা গেছে ইতিমধ্যে ট্রলারটি সন্দ্বীপ এসে পৌছেছে:::::::::::::::::::::::::::::::::


এখানে খুজুন


আরও পড়ুন