আজ বৃহঃপতিবার, ২১ জুন ২০১৮ ইং, ০৭ আষাঢ় ১৪২৫ বঙ্গাব্দ



ফেরেশতাগনের দোয়া পাবার প্রয়োজনীয় আমলসমূহ

Published on 12 October 2015 | 2: 22 am

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম

আপনারা কি জানেন, ফেরেশতাগণ কোন আমলকারীদের জন্য প্রতিনিয়ত আল্লাহর কাছে দোয়া করে ? আসুন এই পোস্টের মাধ্যমে আমরা উক্ত আমলগুলো জেনে নিই এবং এই আমলগুলো নিয়মিত আমাদের প্রাত্যহিক জীবনে পালন করে অশেষ সওয়াব হাসিল করি | আমিন | Post টি পড়া শেষ হলে facebook এ friend দের সাথে share করি | অনুরূপভাবে অন্যদেরও এই আমলগুলো পালনে অনুপ্রানিত করি | আমিন |

ফেরেস্তাদের দোয়া পাবার প্রয়োজনীয় আমলসমূহ:

১. মুমিন ও তাদের সৎ আত্মীয়দের জন্য : কিছু এমন সৌভাগ্যবান লোক আছে, যাদের জন্য সম্মানিত ফেরেশতাগণ দো‘আ করে থাকেন। এ সম্পর্কে আল্লাহ বলেন, ‘যারা আরশ বহনে রত এবং যারা তার চতুষ্পার্শ্বে ঘিরে আছে, তারা তাদের রবের পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করে প্রশংসার সাথে এবং তাতে বিশ্বাস স্থাপন করে এবং মুমিনদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে বলে, হে আমাদের রব! তোমার দয়া ও জ্ঞান সর্বব্যাপী। অতএব যারা তওবা করে এবং তোমার পথ অবলম্বন করে তুমি তাদেরকে ক্ষমা কর এবং জাহান্নামের শাস্তি হ’তে রক্ষা কর। হে আমাদের রব! তুমি তাদেরকে দাখিল কর স্থায়ী জান্নাতে, যার প্রতিশ্রুতি তুমি তাদেরকে দিয়েছ এবং তাদের পিতা-মাতা, পতি-পত্নী ও সন্তান-সন্ততিদের মধ্যে যারা সৎকর্ম করেছে তাদেরকে। তুমি তো পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময় এবং তুমি তাদেরকে শাস্তি হ’তে রক্ষা কর। সেদিন তুমি যাকে শাস্তি হ’তে রক্ষা করবে, তাকে তো অনুগ্রহই করবে, এটাই তো মহা সাফল্য’ (সূরা গাফের/মুমিন ৭-৯)।

২. রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর উপর দরূদ পাঠকারীর জন্য : যারা আল্লাহর রাসূলের প্রতি দরূদ পাঠ করে ফেরেশতারা তাদের জন্য দো‘আ করেন। আব্দুল্লাহ বিন ওমর (রাঃ) হ’তে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি রাসূল (ছাঃ)-এর উপর একবার দরূদ পাঠ করে আল্লাহ তা‘আলা তার উপর সত্তর বার দয়া করেন ও তার ফেরেশতাগণ তার জন্য সত্তর বার ক্ষমা প্রার্থনা করেন। অতএব বান্দারা অল্প দরূদ পাঠ করুক বা অধিক দরূদ পাঠ করুক (এটা তার ব্যাপার)’। [আল-মুসনাদ হা/৬৬০৫, ১০/১০৬-১০৭, হাদীছ হাসান। দ্র: আত-তারগীব ওয়াত-তারহীব ২/৪৯৭; মাযমাউয যাওয়ায়েদ ১০/১৬০; আল-কাউলুল বাদী, ১৫৩ পৃঃ।]

৩. ওযূ অবস্থায় ঘুমন্ত ব্যক্তি : যেসব সৌভাগ্যবান মানুষের জন্য ফেরেশতামন্ডলী দো‘আ করেন, তাদের মধ্যে অন্যতম হ’লেন ওযূ অবস্থায় ঘুমন্ত ব্যক্তি। এ প্রসঙ্গে হাদীছে এসেছে, ইবনু ওমর (রাঃ) হ’তে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূল (ছাঃ) বলেছেন, ‘তোমাদের এই শরীরকে পবিত্র রাখ। আল্লাহ তোমাদেরকে পবিত্র করবেন। যে ব্যক্তি পবিত্রাবস্থায় (ওযূ অবস্থায়) রাত অতিবাহিত করবে, অবশ্যই একজন ফেরেশতা তার সঙ্গে রাত অতিবাহিত করবেন। রাতে যখনই সে পার্শ্ব পরিবর্তন করে তখনই সে ফেরেশতা বলেন, হে আল্লাহ! আপনার এই বান্দাকে ক্ষমা করুন। কেননা সে পবিত্রাবস্থায় (ওযূ অবস্থায়) ঘুমিয়েছে’। [আত-তারগীব ওয়াত তারহীব, ১মখন্ড (বৈরুত: দারুল কুতুবিল ইলমিয়া, ১৪০১), পৃঃ ৪০৮-৪০৯; হাফেয ইবনে হাজার আসকালানী হাদীছটিকে জাইয়িদ বলেছেন। দ্রঃ ফাতহুল বারী, ১১তম খন্ড (সঊদী আরব: রিয়াসাতু ইদারাতিল বুহুছিল ইলমিয়্যাহ), পৃঃ ১০৯।]

 

৪. ছালাতের জন্য অপেক্ষারত মুছল্লীবৃন্দ : ওযূ অবস্থায় ছালাতের জন্য অপেক্ষারত মুছল্লীদের জন্য ফেরেশতাগণ দো‘আ করেন। হাদীছে এসেছে, আবু হুরায়রা (রাঃ) হ’তে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূল (ছাঃ) বলেছেন, ‘তোমাদের মাঝে কোন ব্যক্তি যখন ওযূ অবস্থায় ছালাতের অপেক্ষায় বসে থাকে, তার জন্য ফেরেশতামন্ডলী দো‘আ করতে থাকেন, হে আল্লাহ! তুমি তাকে ক্ষমা কর, হে আল্লাহ! তুমি তার উপর কল্যাণ দান কর’। [ছহীহ মুসলিম, ১ম খন্ড (সঊদী আরব: রিয়াসাতু ইদারাতুল বুহুছিল ইলমিয়্যাহ, ১৪০০ হিঃ), পৃঃ ৪৬০, হা/৬১৯। ]

৫. প্রথম কাতারের মুছল্লীবৃন্দ : প্রথম কাতারের মুছল্লীবৃন্দের জন্য ফেরেশতামন্ডলী দো‘আ করেন। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, ‘প্রথম কাতারের মুছল্লীদেরকে নিশ্চয়ই আল্লাহ ক্ষমা করবেন ও ফেরেশতামন্ডলী তাদের জন্য দো‘আ করবেন’। [আল-ইহসান ফী তাক্বরীবি ছহীহ ইবনে হিববান, ৫ম খন্ড, পৃঃ ৫৩০ -৫৩১; হাদীছ ছহীহ, দ্রঃ ছহীহুল জামে‘ হা/১৮৩৯।] এ কারণে ছাহাবীগণ জামা‘আতে ছালাত আদায়কালীন পরস্পর মিলিত হয়ে দাঁড়ানোতে গুরুত্ব দিতেন।

৬. কাতারের ডান পার্শ্বের মুছল্লীবৃন্দ : কাতারের ডান পার্শ্বের মুছল্লীবৃন্দের জন্য ফেরেশতামন্ডলী দো‘আ করেন। রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ দয়া করেন ও ফেরেশতামন্ডলী দো‘আ করেন ডান পার্শ্বে দাঁড়ানো ব্যক্তিদের উপর’। [আল-ইহসান ফী তাক্বরীবি ছহীহ ইবনে হিববান, ৫ম খন্ড, পৃঃ ৫৩৩-৫৩৪; সুনানু আবী দাঊদ আওনুল মাবুদসহ, ২য় খন্ড (বৈরুত: দারুল কুতুবিল ইলমিয়্যাহ, ১৪১০ হিঃ), পৃঃ ২৬৩; হাদীছ হাসান, দ্রঃ ছহীহ আবু দাউদ হা/৬৮০।]

৭. কাতারে পরস্পর মিলিতভাবে দাঁড়ানো মুছল্লীবৃন্দ : কাতারে পরস্পর মিলিতভাবে দাঁড়ানো মুছল্লীবৃন্দের জন্য ফেরেশতাগণ দো‘আ করে থাকেন। রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ দয়া করেন এবং ফেরেশতামন্ডলী দো‘আ করেন, যারা একে অপরের সাথে মিলে দাঁড়িয়ে ছালাত আদায় করে’। [ছহীহ ইবনে হিববান ৫/৫৩৬ পৃঃ; হাদীছ হাসান, ছহীহ। দ্রঃ ছহীহ আত-তারগীব ওয়াত তারহীব, হা/৫০১, ১/২৭২ পৃঃ।]

৮. ইমামের সূরা ফাতিহা শেষে আমীন পাঠকারীবৃন্দ : ইমাম সূরা ফাতিহা পাঠ শেষ করলে আমীন বলা শরী‘আত সম্মত। এ সময় ফেরেশতামন্ডলীও আমীন বলে থাকেন। ইমাম ও মুছল্লীদের আমীন এবং ফেরেশতাদের আমীন মিলে গেলে গোনাহ মাফ হয়। এ মর্মে রাসূল (ছাঃ) বলেন, ِ‘ইমাম যখন ‘গাইরিল মাগযুবি আলাইহিম ওয়ালায যল্লীন’ বলবে, তখন তোমরা আমীন বল। কেননা যার আমীন বলা ফেরেশতাদের আমীন বলার সাথে মিলে যাবে, তার অতীত জীবনের গোনাহগুলিকে ক্ষমা করে দেয়া হবে’। [বুখারী, হা/৭৮২, ‘আযান’ অধ্যায়, ‘মুক্তাদীদের জোরে আমীন বলা’ অনুচ্ছেদ।]

৯. ছালাত শেষে ওযূসহ স্বস্থানে অবস্থানকারীবৃন্দ : ছালাত শেষে ওযূসহ যেসব মুছল্লী স্বীয় স্থানে বসে থাকে তাদের জন্য ফেরেশতাগণ দো‘আ করেন। রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘তোমাদের মধ্যে যারা ছালাতের পর স্বস্থানে বসে থাকে, তাদের জন্য ফেরেশতাগণ দো‘আ করতে থাকেন যতক্ষণ পর্যন্ত তার ওযূ ভঙ্গ না হবে, (তারা বলেন,) হে আল্লাহ! আপনি তাদেরকে ক্ষমা করে দিন এবং হে আল্লাহ! আপনি তাদের উপর দয়া করুন। [ইমাম আহমাদ, আল-মুসনাদ, ১৬তম খন্ড (বৈরুত: মুয়াস্সাতুর রিসালাহ, ১৪১৭ হিঃ), পৃঃ ৩২, হাদীছ ছহীহ, ছহীহুল জামে‘ হা/৬৭২৭।]

 

১০. জামা‘আতে ফজর ও আছর ছালাত আদায়কারীর জন্য : যারা ফজর ও আছর ছালাত জামা‘আতে আদায় করে, তাদের জন্য ফেরেশতাগণ দো‘আ করেন। আবু হুরায়রা (রাঃ) হ’তে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূল (ছাঃ) বলেছেন, ‘রাত ও দিনের ফেরেশতাগণ ফজর ও আছরের ছালাতে একত্রিত হন। দিনের ফেরেশতা যখন উপরে উঠে যান, তখন তাদেরকে আল্লাহ তা‘আলা জিজ্ঞেস করেন, তোমরা কোথা থেকে আসলে? তারা বলে, আমরা আপনার বান্দাদের নিকট থেকে আপনার কাছে এসেছি। আমরা যখন তাদের নিকট উপস্থিত হয়েছিলাম, তখন তাদেরকে ছালাত রত পেয়েছিলাম এবং যখন আমরা তাদের ছেড়ে এসেছি তখনও তাদেরকে ছালাত রত অবস্থায় ছেড়ে এসেছি। অতঃপর যখন রাতের ফেরেশতাগণ উপরে উঠে যান, তখন তাদেরকে আল্লাহ তা‘আলা জিজ্ঞেস করেন, তোমরা কোথা থেকে আসলে? তারা বলে, আমরা আপনার বান্দাদের নিকট থেকে আপনার কাছে এসেছি। আমরা যখন তাদের নিকট উপস্থিত হয়েছিলাম, তখন তাদেরকে ছালাত রত পেয়েছিলাম এবং যখন আমরা তাদের ছেড়ে এসেছি তখনও তাদেরকে ছালাত রত অবস্থায় ছেড়ে এসেছি’। [আল-মুসনাদ হা/৯৪১০, ১৭/১৫৪; ছহীহ ইবনে খুযায়মা হা/৩২২, ১/১৬৫; আল-ইহসান ফি তাক্বরীব। ছহীহ ইবনে হিববান হা/২০৬১, ৫/৪০৯-৪০১০; হাদীছ ছহীহ। দ্রঃ ছহীহুল জামে‘ হা/৮০১৯।]

১১. মুসলিম ভাইয়ের কল্যাণের জন্য প্রার্থনাকারী : সাফওয়ান (রহঃ) হ’তে বর্ণিত তিনি বলেন, সন্ধ্যা উপনীত হ’লে আমি আবুদ দারদার ঘরে উপস্থিত হ’লাম, কিন্তু আমি তাকে ঘরে পেলাম না। উম্মুদ দারদা (রাঃ)-এর সাথে সাক্ষাৎ হ’লে তিনি বললেন, এ বছর তোমার কি হজ্জ করার ইচ্ছা আছে? আমি বললাম, হ্যাঁ। তিনি বললেন, আমাদের মঙ্গলের জন্য দো‘আ করবে। কেননা নবী (ছাঃ) এরশাদ করেছেন, ‘কোন মুসলিম তার অনুপস্থিত ভাইয়ের জন্য দো‘আ করলে তা কবুল করা হয় এবং তার মাথার কাছে একজন ফেরেশতা নিযুক্ত থাকেন, যখনই সে ব্যক্তি তার ভাইয়ের জন্য মঙ্গলের দো‘আ করে তখন সেই নিযুক্ত ফেরেশতা বলেন, ‘আমীন’ অর্থাৎ হে আল্লাহ! কবুল করুন এবং তোমার জন্য অনুরূপ। (অর্থাৎ তোমার ভাইয়ের জন্য যা চাইলে, আল্লাহ তোমাকেও তাই দান করুন)। সাফওয়ান (রাঃ) বলেন, তারপর আমি বাজারে গেলাম, সেখানে গিয়ে আবুদ দারদা (রাঃ)-এর সাক্ষাৎ পেলাম, তিনিও নবী (ছাঃ) হ’তে একই রকম হাদীছ শুনালেন। [ছহীহ মুসলিম হা/৮৮ (২৭৮৮), ৪/২০৯৪।]

১২. কল্যাণের পথে ব্যয়কারীদের জন্য : সেসকল লোক যারা কল্যাণের পথে ব্যয় করে থাকেন, তাদের জন্য ফেরেশতাগণ দো‘আ করেন। নিম্নের হাদীছ তার উজ্জ্বল প্রমাণ। আবু হুরায়রা (রাঃ) হ’তে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূল (ছাঃ) বলেছেন, ‘প্রতিদিন সকালে দু’জন ফেরেশতা অবতরণ করেন, একজন বলেন, হে আল্লাহ! দানকারীর সম্পদ বাড়িয়ে দাও। অপরজন বলেন, হে আল্লাহ! যে দান করে না তার সম্পদকে বিনাশ করে দাও’। [বুখারী হা/১৪৪২, ৩/৩০৪; মুসলিম হা/৫৭ (১০১০), ২/৭০০।]

১৩. সাহরী ভক্ষণকারীদের জন্য : যারা ছিয়াম রাখার নিয়তে সাহরী খায় তাদের জন্য ফেরেশতাগণ দো‘আ করেন। আব্দুল্লাহ বিন ওমর (রাঃ) হ’তে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (ছাঃ) বলেছেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তা‘আলা সাহরী ভক্ষণকারীদের জন্য দয়া করেন এবং ফেরেশতাগণ তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে থাকেন’। [আল-ইহসান ফি তাকরীব ছহীহ ইবনে হিববান হা/৩৪৬৭, ৮/২৪৬, হাদীছ ছহীহ। দ্রঃ ছহীহ আত-তারগীব ওয়াত তারহীব ১/৫১৯; সিলাসিলা ছহীহাহ হা/১৬৫৪।]

 

১৪. রোগী দর্শনকারীর জন্য ফেরেশতাদের ক্ষমা প্রার্থনা: যারা কোন মুসলিম রোগীকে দেখতে যায় তাদের জন্য ফেরেশতাগণ দো‘আ করেন। এ মর্মে হাদীছে এসেছে, আলী (রাঃ) হ’তে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূল (ছাঃ) কে বলতে শুনেছি, ‘যে ব্যক্তি তার কোন মুসলমান রোগী ভাইকে দেখতে যায়, আল্লাহ তা‘আলা তার জন্য সত্তর হাযার ফেরেশতা প্রেরণ করেন, তারা দিনের যে সময় সে দেখতে যায় সে সময় থেকে দিনের শেষ তথা সন্ধ্যা পর্যন্ত তার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করতে থাকে। আর সে রাতের যে সময় দেখতে যায় সে সময় থেকে রাতের শেষ তথা সকাল পর্যন্ত তার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করতে থাকেন’। [আল-মুসনাদ হা/৮১৫, আল-ইহসান ফী তাকরীব ছহীহ ইবনে হিববান হা/২৯৫৮, ৭/২২৪-২২৫, হাদীছ ছহীহ, সিলাসিলা ছহীহাহ হা/১৩৬৭।]

১৫. রোগী ও মৃত ব্যক্তির নিকট উক্তির উপর ফেরেশতাদের আমীন বলা : রোগী ও মৃত ব্যক্তির নিকট যা বলা হয় তা কবুল হওয়ার জন্য ফেরেশতাগণ দো‘আ করেন। উম্মে সালামা (রাঃ) হ’তে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (ছাঃ) বলেছেন, ‘তোমরা যখন কোন রোগী বা মৃত ব্যক্তির নিকট উপস্থিত হবে, তখন ভাল কথা বলবে, কেননা ফেরেশতাগণ তা কবুল হওয়ার জন্য আমীন বলে থাকেন’। [মুসলিম, মিশকাত হা/১৬১৭।] রোগীর নিকটে গেলে আল্লাহ তা‘আলার নিকটে তার রোগ মুক্তির জন্য দো‘আ কর এবং মৃত ব্যক্তির নিকট গেলে তার ক্ষমার জন্য আল্লাহর নিকট দো‘আ করবে। অনুরূপ যে জায়গায় যাও নিজের জন্য ভাল কথাই বলবে। [মিরকাতুল মাফাতীহ ৪/৮৪।]

১৬. সৎকাজের শিক্ষা প্রদানকারীর জন্য : যারা মানুষকে ভাল কথা শিক্ষা দেয় তাদের জন্য ফেরেশতাগণ দো‘আ করেন। যেমন- রাসূল (ছাঃ) বললেন, ‘নিশ্চয়ই মানুষকে ভাল কথা শিক্ষাদানকারীর প্রতি আল্লাহ তা‘আলা দয়া করে থাকেন এবং ফেরেশতাগণ, আসমান ও যমীনের অধিবাসীরা এমনকি গর্তের পিপিলিকা ও পানির মৎসও তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে থাকে’। [হাদীছ ছহীহ।]


এখানে খুজুন


আরও পড়ুন