আজ সোমবার, ২৫ জুন ২০১৮ ইং, ১১ আষাঢ় ১৪২৫ বঙ্গাব্দ



মোসাদ্দেক আহমেদ :: লাইফ মেম্বার :: সোনালী মিডিয়া এন্ড পাবলিকেশন্স

Published on 20 August 2016 | 1: 56 pm

সোনালী মিডিয়া এন্ড পাবলিকেশন্সের লাইফ মেম্বার মোসাদ্দেক আহমেদের পরিবার।

::দুঃখের বিষয় ছবির একজন (মোসাদ্দেক আহমদের স্ত্রী) এখন আর বেঁচে নেই ::

সোনালী মিডিয়ার পক্ষ থেকে মরহুমার বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি- সম্পাদক ::

নাম ঃ মোসাদ্দেক আহমেদ
পিতার নাম ঃ মরহুম আমিন আহমেদ
মাতার নাম ঃ মরহুমা হোসনে আরা বেগম (তারা)
স্ত্রীর নাম ঃ মরহুমা বদরুন নাহার (মিরানা), (যুগ্ম পরিচালক, বাংলাদেশ ব্যাংক)।
সন্তানদের নাম ও সংক্ষিপ্ত পরিচিতিঃ
মেয়ে ঃ আফরিনা তাসনীম সিলভী* বি.এস.সি ইঞ্জিনিয়ার ইন কম্পিউটার সায়েন্স, এম.এস.সি ইন কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইনফরমেশন টেকনোলজী, প্রভাষক, সিটি কমার্স কলেজ, চট্টগ্রাম।
ছেলে ঃ জুলকার নাঈন আহমেদ আকিব ব্যাচেলর অব বিজনেস এ্যাডমিনিষ্ট্রেশন (বিবিএ), পি.জি.ডি ইন ইন্টারন্যাশনাল হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজম্যান্ট, গ্লাসগো ক্যালেডোনিয়ান ইউনিভার্সিটি, স্কটল্যান্ড।
জন্মস্থান ও ঠিকানা ঃ আবু’র বাড়ী, গ্রামঃ গাছুয়া, ডাকঘরঃ গাছুয়া, থানাঃ সন্দ্বীপ, চট্টগ্রাম।
বর্তমান ঠিকানা ঃ বাসা নং-১/এ, লেইন নং-২০, রোড নং-০২, ব্লক-বি,
হালিশহর হাউজিং এষ্টেট, হালিশহর, চট্টগ্রাম।
পেশা ঃ ব্যবসা।
কর্মস্থলের ঠিকানা ঃ মেসার্স মামস ট্রেড, ৬১/বি, গোলাম রসূল মার্কেট, রিয়াজ উদ্দিন বাজার, চট্টগ্রাম।
মোবাইল নং ঃ ০১৬৭৮-৭০৩৪৯৭, ০১৭১১-৪৪৪৫৮৫, ০১৮১৯-৬৪৪৬৭৪
ই-মেইল ঃ mams_ma@yahoo.com
সামাজিক কর্মকান্ড ঃ (১) যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ সিরামিক এন্ড গ্লাসওয়্যার ইম্পোটার্স এসোসিয়েশন, ঢাকা।
(২) সভাপতি, সন্দ্বীপ জনকল্যাণ পরিষদ, বি-ব্লক, হালিশহর, চট্টগ্রাম।
(৩) আজীবন সদস্য, সন্দ্বীপ এসোসিয়েশন, চট্টগ্রাম।
(৪) কার্যকরী সদস্য, সন্দ্বীপ এডুকেশন সোসাইটি, চট্টগ্রাম।
(৫) লাইফ মেম্বার,  সোলানী মিডিয়া এন্ড পাবলিকেশন্স
বিদেশ ভ্রমন ঃ ভারত, হংকং, চীন, মেকাউ, থাইল্যান্ড, কম্বোডিয়া ও সিঙ্গাপুর।
শখ ঃ পরিধি ও সামর্থানুসারে মানব সেবা তথা সমাজকর্মে অংশগ্রহন, জীবন জিবীকার তাগিদে সৎভাবে উপার্জন করা, অভিনয় করা ও পুরনো দিনের বাংলা গান শুনা।
প্রিয় ব্যক্তিত্ব ঃ (১) আমার গর্ভধারিনী মা (২) জন্মদাতা বাবা (৩) প্রিয় নবীজি হযরত মুহাম্মদ মোস্তফা (সঃ)।
প্রিয় বাক্য ঃ আমার মায়ের পরামর্শ – “উপরের দিকে না তাকিয়ে নিচের দিকে তাকাবে, মাকে (আমাকে) ও দুঃখের দিনের কথা সবসময় স্মরণ রাখবে, তবেই লোভ, অন্যায় ও পাপ থেকে রেহাই পাবে। মানব সেবা মহৎ কাজ, পারলে মানুষের উপকার করবে কিন্তু কোন অবস্থায় ক্ষতি করা যাবে না”।
প্রিয় খাবার ঃ বাঙ্গালীর সাধারণ খাবার (পাঁচফোড়ন ব্যতিত)।
প্রিয় রং ঃ সবুজ ও গোলাপী।
জীবনের উল্লেখযোগ্য ঘটনাঃ মানুষ মাত্রই ঘটনাবহুল জীবন আর মানুষ হিসেবে আমার জীবনও ঘটনাবহুল, তম্মোধ্যে উল্লেখযোগ্য-
(১) ১৯৭১ সালের ১৫ই মার্চ আমার জন্মদাতা বাবার অকাল মৃত্যু।
(২) ২০০৪ সালে আমার সফল ওপেনহার্ট/বাইপাস সার্জারীতে জীবন ফিরে পাওয়া।
(৩) ২০০৫ সালে ২৮শে আগষ্ট আমার গর্ভধারিনী মায়ের মৃত্যু।
(৪) ২০০৫ সালে নভেম্বর মাসে রশি ও মলম পার্টি কর্তৃক গলায় ফাঁস খেয়ে জ্ঞান হারিয়েও অলৌকিক ভাবে বেঁচে যাওয়া।
(৫) ২০০৫ সালে ডিসেম্বর মাসে বাসের চাকায় নিশ্চিত পৃষ্ঠ হতে গিয়েও অক্ষত অবস্থায় বেঁচে যাওয়া।
(৬) ২০১৩ সালে ২৭শে মার্চ আমার অভিভাবক ও শ্রদ্ধেয় বড় ভাইয়ের অকাল মৃত্যু।
(৭) ২০১৬ সালে ২রা মে আমার জীবনসঙ্গী ও সহধর্মিনীর অকাল মৃত্যু। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, আমার গর্ভধারিনী মায়ের আশির্বাদ ও দয়াময় আল্লাহর অশেষ কৃপায় আমি এখনো বেঁচে আছি। এতদসত্ত্বেও আমার মায়ের মৃত্যুর পূর্ব মূহুর্তের কথপোকথন আমাকে আজও তাড়িয়ে বেড়ায়। যদি সংক্ষেপে বলি- আমার মা বেশির ভাগ সময় উনার বড় ছেলে ও আমার বড়ভাই ওসি মোস্তাক আহমেদ সাহেবের কুমিল্লার বাসায় থাকতেন। আমার মায়েরডায়াবেটিস ও হার্টের সমস্যা ছিল। ২০০৫ সালের ২৮শে আগষ্ট সকাল বেলায় আমার মা শারিরীকভাবে অস¦স্থি অনুভব করলে বড়ভাই মাকে কুমিল্লা হাসপাতালে নিয়ে যান। বিকালে হাসপতালের টয়লেটে পড়ে গিয়ে মা জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। সন্ধ্যায় মায়ের জ্ঞান ফিরে আসলে, আমেরিকায় বসবাসরত আমার ছোটভাইয়ের সাথে মোবাইলে কথা বলেন। পরবর্তীতে রাত প্রায় ৯টার সময় আমার সাথেও কথা বলেন। মা ও
আমার কথপোকথন নিম্মরূপ ঃ
মা ঃ মোসাদ্দেক, তুমি কোথায়?
আমি ঃ আম্মা, আমি তো চট্টগ্রাম।
মা ঃ আমি অসুস্থ, আমাকে দেখতে আসবে না?
আমি ঃ আম্মা, আপনি চিন্তা করবেন না, আমি আপনার বৌমাকে নিয়ে ডাক্তার দেখানোর জন্য আজ রাতেই ঢাকা যাওয়ার কথা আছে। আমরা ঢাকা না গিয়ে কুমিল্লায় নেমে যাব আপনাকে দেখতে।
মা ঃ তাহলে কখন পৌছাবে ?
আমি ঃ রাত ১১টায় ট্রেন ছাড়বে, ২টায় কুমিল্লায় পৌছবো।
মা ঃ তাহলেতো আমাকে পাবে না !
আমি ঃ আম্মা, এসব কথা বলবেন না, আমরা এসেই আপনার চিকিৎসার জন্য সকালেই আপনাকে ঢাকা নিয়ে যাবো।
মা ঃ আচ্ছা, খোদা হাফেজ বলে কথা শেষ করেন। রাত প্রায় ১২টার পর, বড়ছেলেকে ডেকে ছোট বাবুর মত মুখে কপালে মাতৃচুম্বন আর শেষ আদর দিয়ে, উপস্থিত সকলের নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করে ও শেষ বিদায় জানিয়ে রাত ১টায় তিনি পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে না-ফেরার দেশে চলে গেলেন। আমি বিলম্বে রাত ৩টায় কুমিল্লা পৌছে ঠিকই মাকে জীবিত পাইনি, মায়ের নিস্পন্দন দেহ ছাড়া। আমি হতভাগা মায়ের নিথর দেহ স্পর্শ করেও আদায় করে নিতে পারিনি, মায়ের মাতৃচুম্বন আর শেষ আদর। আমার মায়ের মৃত্যু সংক্রান্ত গল্পটি কাল্পনিক মনে হলেও বাস্তব। আর তাই, আমার জীবনের উল্লেখযোগ্য ৭টি ঘটনার মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ। আমার মায়ের পরামর্শ আমার জীবন চলার দিকদর্শন, আর শেষ কথপোকথন সর্বাধিক স্মরণীয়।
সকলের উদ্দেশ্যে ঃ (১) আমার মায়ের পরামর্শ-শ্বাশ্বত বাণী ভেবে আপনিও মেনে চলতে পারেন। লাভ ছাড়া ক্ষতি হবে না।
(২) মা-বাবাকে ভালবাসুন ও শ্রদ্ধা করুন, সন্তানদেরকেও ভালোবাসুন, আদর দিন, যথাযথ পারিবারিক শিক্ষা দিন। লাভ ছাড়া ক্ষতি হবে না।
(৩) স্ত্রীকে যৌনদাসী বা কৃতদাসী না ভেবে জীবন
সঙ্গী ভাবুন, সময় দিন, ভালোবাসা দিন, যত্ন নিন, সুন্দর সংসার ও সুখী জীবন গড়ে তুলুন। লাভ ছাড়া ক্ষতি হবে না।
(৪) সামাজিক নিয়ম-শৃঙ্খলা, নম্রতা-ভদ্রতা মেনে চলুন, অন্যকেও মেনে চলতে মার্জিত ভাষায় উদ্ধুদ্ধ করুন। লাভ ছাড়া ক্ষতি হবে না।
(৫) মহামানব নবীজী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) কে সম্মান ও অনুসরণ করুন। তাহলেই জঙ্গী সৃষ্টি হবে না, বেহেশতে যাওয়ার জন্য জঙ্গীও হতে হবে না বেহেশতের দ্বার আপনার জন্য এমনিতেই খুলে যাবে।

 


এখানে খুজুন


আরও পড়ুন