আজ বুধবার, ১৮ জুলাই ২০১৮ ইং, ০৩ শ্রাবণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ



জেলে বসেই ‘ভিশন-২০২১’ ভেবেছিলাম

Published on 04 August 2016 | 8: 49 am

জেলখানায় বসেই ‘ভিশন-২০২১’ পরিকল্পনা নিয়ে ভেবেছিলেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা। দেশের উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে এ পরিকল্পনার নিয়ে ভাবেন তিনি। ২০০৯ সালের সাধারণ নির্বাচনে জয়লাভ সরকার গঠনের পর জেলখানর ওই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন শুরু করেন প্রধানমন্ত্রী।

বৃহস্পতিবার (৪ আগস্ট) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শাপলা হলে ২০১৬-২০১৭ অর্থবছরের বার্ষিক কর্ম-সম্পাদন চুক্তিস্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথা জানান প্রধানমন্ত্রী।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘২০০৭ সালে আমাকে যখন জেলখানায় নিয়ে যাওয়া হয়, তখন সেখানেই বসেই ভবিষ্যতে দেশের উন্নয়নে কখন কীভাবে করা যায় তা নিয়ে ভেবেছি। ভাবনাগুলো ছোট ছোট কাগজে লিখে রেখেছি। পরবর্তীতে সেগুলোর ভিত্তিতেই তৈরি হয় ভিশন-২০২১।’

২০০৯ সালে নতুন সরকার গঠন করার পর সরকারের একটাই লক্ষ্য, কিভাবে সকল কার্যক্রম গতিশীল করা যায়। আর এ জন্য পৃথক কমিটি গঠন করে কাজ শুরু করেন বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘ক্ষমতার মেয়াদ পাঁচ বছর। এ সময়ের মধ্যে কতটুকু কাজ করতে পারবো সেটা সুনির্দিষ্ট করেই আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। আমাদের লক্ষ্য ২০২১ সালের মধ্যে দেশকে মধ্য আয়ের এবং ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশের কাতারে দাঁড়ানো।’

প্রধানমন্ত্রী জানান, ‘১৯৯৬ সালে তার দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ যখন প্রথম ক্ষমতায় আসে তখনও সরকারের উদ্যোগগুলো ছিল দেশের অগ্রযাত্রা নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়ে। এরপর  আগে যখন দীর্ঘ ২১ বছর আওয়ামী লীগ ক্ষমতার বাইরে ছিল তখনও রাজনৈতিক দল হিসেবে লক্ষ্য ছিল মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন এবং দেশের মানুষের উন্নয়ন।’

সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য স্থির করে বাস্তবায়ন করা হলে তা খুব একটা কঠিন কাজ হয় না বলেও মন্তব্য করেন শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘স্বাধীনতার পর জাতির পিতা যে সংবিধান দিয়ে গেছেন। সেই অনুযায়ী আমরা কাজ করে যাচ্ছি। আমরা বাজেট বৃদ্ধি করেছি। এতো বিশাল আকারে বাজেট বাংলাদেশে আর কেউ দেয়নি। আমাদের কষ্টার্জিত অর্থ কোনোভাবেই যেন অপব্যবহার না হয়, সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।

বৃহস্পতিবার (০৪ আগস্ট) দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শাপলা হলে ২০১৬-২০১৭ অর্থবছরের বার্ষিক কর্ম-সম্পাদন চুক্তিস্বাক্ষর অনুষ্ঠানে তিনি এ নির্দেশ দেন। মন্ত্রণালয়, দফতার ও সংস্থাদের প্রধান ও মাঠ পর্যায়ে মানুষের সঙ্গে বার্ষিক কর্ম-সম্পাদন চুক্তি হয়ে থাকে। এর মাধ্যমে কতটুকু কাজ হলো, কী পরিমাণ অগ্রগতি হলো, সে বিষয়ে জানা যায় বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এক সময় প্রচলিত ছিলো- সরকারি মাল, দরিয়ায় ঢাল। এ চিন্তা থেকে বেড়িয়ে আসতে হবে। উন্নয়নের সঙ্গে মানুষকে সম্পৃক্ত করতে হবে। আমরা যা করছি, সেটার অংশীদার সবাই। মানুষকে আগামী দিনের স্বপ্ন দেখতে হবে। সব সময় স্বপ্ন জাগ্রত রাখতে হবে, হাহাকার নয়। আমাদের নিজের পায়ে দাঁড়াতে হবে, মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে হবে। তা মাথায় রেখেই কাজ করে যাচ্ছি।

শেখ হাসিনা বলেন, ২০০৮ সালে ভিশন ২০২১ ঘোষণা করি। সেখানে কিছু স্বল্পমেয়াদী, কিছু মধ্যমেয়াদী ও কিছু দীর্ঘমেয়াদী প্রকল্প ছিলো। জনগণে চাহিদা কী, সেটা কীভাবে পূরণ করবো? সে বিষয়ে আমরা কাজ করি বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, আমাদের সৌভাগ্য আমরা টানা দ্বিতীয়বারের মতো সরকার গঠন করতে পেরেছিলাম। ফলে গত পাঁচ বছরে যে কাজগুলো শুরু করেছিলাম। তা সম্পন্ন করতে পাচ্ছি।


এখানে খুজুন


আরও পড়ুন